রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৫৬ এম
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন একটি ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের আচমকা ঝোড়ো গতির অভিযান। ইয়েমেনের উপকূল ধরে হুতি যোদ্ধাদের দক্ষিণমুখী এই অগ্রাভিযান কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাবেল মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসছে তাদের হাতের নাগালে।
এই কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গভীর অস্বস্তিতে পড়েছে। লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবেও পরিচিত এই সংকীর্ণ জলপথটি হুতির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি সংঘাতের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানি লোহিত সাগরের বন্দরগুলোর ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এখন হুতির ইয়েমেন এবং আফ্রিকার মধ্যবর্তী বাবেল মান্দেব প্রণালির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পেরিম দ্বীপে পৌঁছে যাওয়ার ফলে রিয়াদের সেই বিকল্প জ্বালানি রুটও চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতোমধ্যেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আর এখন বাবেল মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি তেহরানকে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান জ্বালানি করিডোরের ওপর বাড়তি কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে।
এই সংকট তখন ধীরে ধীরে ঘনীভূত হচ্ছে যখন মার্কিন রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ কঠিন সময় কাটাচ্ছেন। রেকর্ড পরিমাণ নিম্নমুখী জনসমর্থন এবং আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনে নিজের দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে এই সংঘাত ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এখন, এই পরিস্থিতিতে, গত বৃহস্পতিবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলে হুতিদের দমনে সরাসরি সামরিক সহায়তা চেয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন এই মুহূর্তে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াবে না, তবে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি বাবেল মান্দেব প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তা বৈশ্বিক পেট্রোলিয়াম সরবরাহের প্রায় সাত শতাংশ এবং মোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এপ্রিল শতাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সামনে এখন অত্যন্ত কঠিন বিকল্প রয়েছে, হয় মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সরাসরি মাঠে নামিয়ে হুতিদের প্রতিহত করা, নয়তো সৌদি আরব ও আঞ্চলিক মিত্রদের এই ভয়াবহ লড়াইয়ে একা ছেড়ে দেওয়া।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রতিদিনের রান্নায় ব্যবহৃত সবজিগুলোর মধ্যে আলু অন্যতম। তাই অনেকেই একসঙ্গে বেশ কিছু আলু কিনে সংরক্ষণ করে থাকেন। তবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হলে আলুতে দ্রুত অঙ্কুর গজাতে পারে, আবার পচেও যেতে পারে। কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে আলু দীর্ঘদিন সতেজ এবং ভালো রাখা সম্ভব।
আলু সংরক্ষণের জন্য ঠান্ডা, শুষ্ক এবং আলো কম এমন জায়গা সবচেয়ে উপযোগী। অতিরিক্ত তাপ, আর্দ্রতা ও উজ্জ্বল আলো আলুতে অঙ্কুর গজানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করে দিতে পারে। তাই সংরক্ষণের জায়গা নির্বাচনের সময় এসব বিষয়গুলি মাথায় রাখা জরুরি।
আলুর পাশে পেঁয়াজ বা রসুন রাখা উচিত নয়। পেঁয়াজে থাকা আর্দ্রতা এবং পেঁয়াজ-রসুন থেকে নির্গত কিছু গ্যাস আলুতে অঙ্কুরোদগমের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে পারে। তাই এই সবজিগুলো আলাদা জায়গায় রাখা ভালো।
বাজার থেকে আনার পর আলু প্লাস্টিকের ব্যাগে রেখে দেওয়া ঠিক নয়। এতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে না এবং ব্যাগের ভেতরে আর্দ্রতা জমে যায়। ফলে আলু দ্রুত পচে যেতে পারে কিংবা অঙ্কুর গজাতে পারে। এর পরিবর্তে পাট বা সুতির ব্যাগ কিংবা বাতাস চলাচল করতে পারে এমন জালের ঝুড়ি ব্যবহার করা যেতে পারে।
আলু রাখার জন্য কাগজের ব্যাগও কার্যকর। কাগজ আলো থেকে আলুকে আড়াল করার পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্দ্রতাও শোষণ করতে পারে। ফলে আলু সংরক্ষণের জন্য তুলনামূলকভাবে উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয় এবং তা দীর্ঘসময় ভালো থাকে।
চুলা, ওভেন বা অন্য কোনো তাপের উৎসের পাশে আলু রাখা উচিত নয়। রান্নাঘরের তাপমাত্রা সাধারণত বাড়ির অন্যান্য জায়গার তুলনায় বেশি থাকে, যা আলু দ্রুত নষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারে। তাই আলুর জন্য অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা, শুষ্ক এবং বাতাস চলাচল করে এমন জায়গা বেছে নিতে হবে।
সংরক্ষণ করা আলুগুলো কিছু দিন পরপর পরীক্ষা করা উচিত। যদি কোনো আলুতে পচন বা অঙ্কুর গজানোর লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে সেটি দ্রুত আলাদা করে ফেলুন। কারণ একটি নষ্ট আলু আশপাশের অন্যান্য আলুগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সঠিকভাবে আলু সংরক্ষণ করলে শুধু দীর্ঘদিন সতেজ এবং শক্ত রাখা যায় না, একই সঙ্গে খাবারের অপচয়ও কমানো সম্ভব। তাই আলু কেনার পর সংরক্ষণের পদ্ধতির দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটার জো রুট রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়েই চলেছেন। নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি, যেটি পাকিস্তানের বিপক্ষে বার্মিংহ্যাম টেস্টে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংস খেলার মাধ্যমে হয়েছে। রুট এই ইনিংসের মাধ্যমে ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকারকে পেছনে ফেলে এবার টেস্টে সবচেয়ে বেশি অর্ধশতকের মালিক হয়েছেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজের শেষ টেস্টে রুট ইংল্যান্ডের ৮ উইকেটের জয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ৬৯ বল মোকাবিলা করে ৬২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তার এই ইনিংস একদিকে দলের জয়কে নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে রেকর্ড বইয়ে নতুন একটি অধ্যায় যোগ করেছে।
বার্মিংহ্যাম টেস্টে অর্ধশতক তুলে নেয়ার পর রুটের টেস্টে ৫০ বা তার বেশি রানের ইনিংসের সংখ্যা ৬৯টিতে পৌঁছেছে। এর আগে ৬৮টি অর্ধশতকের রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। ৩৫ বছর বয়সী রুট এবার ভারতীয় কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে এলেন।
টেস্টে সবচেয়ে বেশি অর্ধশতকের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা শিবনারায়ণ চন্দরপল, যিনি ৬৬টি অর্ধশতক করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার অ্যালান বোর্ডার এবং ভারতের রাহুল দ্রাবিড়ের রয়েছে যথাক্রমে ৬৩টি করে অর্ধশতক।
তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া সিরিজটি রুটের জন্য ব্যাট হাতে খুব উজ্জ্বল ছিল না। পাঁচ ইনিংসে তার সংগ্রহ ছিল মাত্র ১৬৪ রান, যেখানে তিনি কোনো শতক পাননি এবং দুইবার এক অঙ্কের রানেই ফিরে যেতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে, বার্মিংহ্যামে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংসটি রুটের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছে।
অর্ধশতকের রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার পর রুট শচীনের আরেকটি বড় রেকর্ডের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছেন। তার সামনে সুযোগ রয়েছে টেস্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় শচীনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার।
শচীন টেন্ডুলকার ৩২৯ ইনিংসে ১৫ হাজার ২৯১ রান করেছেন। অপরদিকে, রুট এখন পর্যন্ত ৩০৯ ইনিংসে ১৪ হাজার ২৭৮ রান সংগ্রহ করেছেন। এর মানে, শচীনের টেস্ট রানসংখ্যা ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হতে রুটের প্রয়োজন ১ হাজার ১৪ রান।
বর্তমান ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে, টেস্ট ক্রিকেটের রান সংগ্রাহকের তালিকাতেও শচীনকে পিছনে ফেলায় সম্ভাবনা রয়েছে ইংল্যান্ডের এই ব্যাটারের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন জ্বালানি সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে লোডশেডিংও দিন দিন তীব্র হচ্ছে। বর্তমানে গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির প্রায় সকল বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহের স্বল্পতায় ভুগছে। অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণে থাকা কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রও এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তাই সব মিলিয়ে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন অবস্থান নিম্নমুখী। বর্তমানে দেশ বিদ্যুতের মোট ২৯ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা থাকার পরও অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। এই অবস্থা বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ কমানোর ফলে তৈরি হয়েছে, যেখানে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বৃদ্ধি করা হলে খরচ বেড়ে যাবে। কিন্তু তারপরও তেলচালিত কেন্দ্রগুলোকে বেশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে ৬ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। তবে বেশিরভাগ তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে জ্বালানি তেলের সরবরাহে স্বল্পতা দেখা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য পাওয়া যায়।
একটি সূত্র অনুযায়ী, দেশে মোট ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ৬৪টি, বেসরকারি ৭০টি এবং ভারত ও চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। এর মধ্যে ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। আর বাকিগুলো সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন করেছে। তাছাড়া দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিটেও উৎপাদন বন্ধ ছিল। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। তবে চাইলেও তেলচালিত কেন্দ্র থেকে সবসময় উৎপাদন করা সম্ভব নয়। কারণ মাঝে মাঝে বিরতির কারণে অর্ধেক পর্যন্ত সক্ষমতা ব্যবহার করা যায়। ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূত্র জানায়, ২০২০-২০২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে বেসরকারি তেলচালিত কেন্দ্রগুলোর ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বকেয়া বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন কমানো হয়েছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া ও পিডিবির বিরোধগুলো নিষ্পত্তি করা গেলে তেলচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হতে পারে। জ্বালানি সঙ্কট দূরীকরণে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এলএনজি কেনা, অযোগ্য জাহাজে এলএনজি আমদানি এবং চীনের অনভিজ্ঞ কোম্পানির সঙ্গে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগের মধ্যে সংকট কাটানোর লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। পরিস্থিতির উন্নয়নে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা এবং চুরি বন্ধ হবে না; সংকটও কাটবে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার মেগাওয়াটের একটু বেশি। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা পাচ্ছে না। দেশে ৮টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট; কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ৫ হাজার মেগাওয়াটেরও কম। মূলত কারিগরি ত্রুটির কারণে পটুয়াখালীর পায়রা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া বড়পুকুরিয়া কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটেও কারিগরি ত্রুটি রয়েছে। ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা দেড় হাজার মেগাওয়াট; কিন্তু কয়লা সরবরাহের চাপের কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র।
সূত্রে আরো জানা যায়, দেশের গ্রামের পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি সমিতি বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এছাড়া কিছু এলাকায় পিডিবি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানকে একই এলাকায় একাধিকবার লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বর্তমানে দেশে দিনে ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন নিয়মিত কমছে। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছে। এলএনজি সরবরাহেও कमी এসেছে। বর্তমানে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। তবে গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেলে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায় এবং সঙ্কট বাড়তে থাকে। যদিও ১৫ আগস্ট এক্সিলারেটের টার্মিনাল গ্যাস সরবরাহের জন্য উপযোগী হলেও নির্ধারিত সময়ে এলএনজির কার্গো আসায় সরবরাহ বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না। বরং গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এর ফলে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমার পাশাপাশি শিল্পে উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া রান্না ও পরিবহনে গ্যাসের ভোগান্তি বেড়ে গেছে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশের দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ভারতের আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের সরবরাহ না বাড়ালে চাইলেও তেলচালিত কেন্দ্র থেকে সবসময় উৎপাদন করা যাচ্ছে না। বরং মাঝে মাঝে বিরতির কারণে অর্ধেক সক্ষমতা ব্যবহার করা যায়। যা বিদ্যুৎ ঘাটতির পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম এ প্রসঙ্গে জানান, তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এলএনজি কেনা, অযোগ্য জাহাজে এলএনজি আমদানি এবং চীনের অনভিজ্ঞ কোম্পানির সঙ্গে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ উদ্যোগের মধ্যে সংকট উত্তরণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এজন্য কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, চুরি বন্ধ হবে না; সংকটও কাটবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্যাস লাইনের লিকেজ এবং সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে সারাদেশে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এসব ঘটনায় মৃত্যু, দগ্ধ ও ক্ষতি হলেও কেউই অবহেলাজনিত ঘটনার দায় নিচ্ছে না। গত ৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি বাসায় গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে তিনজন দগ্ধ হয়ে মারা যায়। কিন্তু এই ঘটনায় মামলায় এগোতে রাজি হয়নি নিহতদের স্বজনরা। দেশে বিগত ২০২৫ সালে সিলিন্ডার ও সিলিন্ডারের সঙ্গে যুক্ত উপকরণের লিকেজ থেকে মোট এক হাজার ৪১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২০০৪ সালে ঘটেছিল ৭৪৮টি দুর্ঘটনা। স্রেফ এক বছরের ব্যবধানে দেশে ২৯৩টি দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি বাড়ার পরও সিলিন্ডার আমদানি, বাজারজাতকরণ ও নিরাপত্তা-পরীক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের তদারকি সংস্থাগুলোর সাড়া নেই। একই সময়ে এসব দুর্ঘটনার জন্য কোনও মামলা রুজু করছে না ভুক্তভোগীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রাহকদের অসচেতনতা ও তদারকি সংস্থাগুলোর উদাসীনতায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। মূলত সঠিক নিয়মে সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল না করা, মানহীন সুরক্ষার যন্ত্রাংশের ব্যবহার, সঠিক পদ্ধতিতে রক্ষণাবেক্ষণ না করাসহ মেয়াদোত্তীর্ণ বোতল এবং চুলার পাশে সিলিন্ডার রাখার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে জনসচেতনা বৃদ্ধি করা এবং অবহেলাজনিত কারণে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা প্রয়োজন যাতে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সংশ্লিষ্টসূত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে বিগত ২০২৫ সালে ২৭ হাজার ৫৯টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে ৮৫ জনের মৃত্যু ও ২৬৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে চুলা থেকে ২ হাজার ৯০৯টি, গ্যাস সিলিন্ডার যন্ত্রাংশের লিকেজ থেকে ৯২০টি এবং গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণের ফলে ১২১টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ২০২৪ সালে সারা দেশে গ্যাস সিলিন্ডার যন্ত্রাংশের লিকেজ থেকে ৫৩৯টি, সিলিন্ডার বিস্ফোরণজনিত ২৯টি, গ্যাসের সরবরাহ লাইনের লিকেজ থেকে ৩৭৯টি এবং শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থেকে ৬১টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে, আগুনের ঘটনায় বাস্তবিক হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কারণ অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে পাওয়া মৃতদেহই রেকর্ড হয়, কিন্তু দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহতদের মৃত্যুর কোনও সংখ্যা নেই।
সূত্র জানাচ্ছে, বর্তমানে দেশে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারকারী ৬০ লাখের বেশি গ্রাহক রয়েছেন এবং তাদের একটি বড় অংশ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করছে। চাহিদা মেটাতে বাজারে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৩০ কোম্পানির অন্তত ২ কোটি সিলিন্ডার রয়েছে। গত এক বছরে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৩২৩টি এলপিজি সিলিন্ডার আমদানি হয়েছে। এর পাশাপাশি ৩ লাখ ১ হাজার ১৯০টি সিলিন্ডার আমদানি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দেশে সিলিন্ডার তৈরির জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মিত ৩৫ লাখ ৮২৯টি এলপিজি সিলিন্ডার দেশে বাজারজাত করলেও সেগুলোর মান পরীক্ষার জন্য কোনও অনুমোদিত পরীক্ষণকেন্দ্র নেই। তাছাড়া অনেক অসাধু ব্যবসায়ী, বড় সিলিন্ডার থেকে ছোট সিলিন্ডারে অবৈধভাবে গ্যাস স্থানান্তর করেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে সহায়ক।
অবশ্যই মনে রাখতে হবে, দেশের আগুনে পোড়া অধিকাংশ রোগীর চিকিৎসা ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে হয়ে থাকে। সিলিন্ডার ও লাইনের গ্যাস লিকেজ সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় গতবছর ওই বার্ন ইনস্টিটিউটে যথাক্রমে ১৬২ ও ৮৩ জন ভর্তি হয়েছেন। তাছাড়া দগ্ধ কয়েকজনকে মৃতাবস্থায় এখানে আনা হয়েছিল। তবে ভর্তি রোগীদের মধ্যে কতজন মারা গেছেন, তা জানা নেই। চিকিৎসকদের মতে, গ্যাসের আগুনে দগ্ধ রোগীদের সমস্যা সাধারণত বাড়ে। শরীরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং গ্যাস বা ধোঁয়ায় শ্বাসনালি পুড়িয়ে ফেলার কারণে শারীরিক ট্রমার মাধ্যমে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। বেশিরভাগ দগ্ধদের ভাষ্য হলো, ঘরে গ্যাস লিকেজ টের পাওয়া যায়নি এবং চুলা জ্বালানোর সময় বিস্ফোরণ ঘটেছে।
এদিকে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মেহেদী খান জানান, অনেক অসাধু ব্যবসায়ী গভীর রাতে বড় সিলিন্ডার থেকে ছোট সিলিন্ডারেতে অবৈধভাবে গ্যাস স্থানান্তর করছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের ছিল না কোনও বৈধ লাইসেন্স। দেশের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের তদারকি করার জন্য সারা দেশে মাত্র ১৪ কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে জেলাপর্যায়ে সংস্থার কোনও অফিস খোলা হয়নি। ফলে শুধুমাত্র বিভাগীয় পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দুর্ঘটনা ঘটালে গুরুত্ব বুঝে পরিদর্শন করা হয় এবং লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলা পাওয়া গেলে তাদের অনুমোদন বাতিল করা হচ্ছে। অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলাও করা হচ্ছে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, লাইনের গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ এবং সিলিন্ডার বিস্ফোরণ উভয় কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটছে। নিম্নমানের হোসপাইপ, রেগুলেটর, নজেল, ভালভের কারণে লিকেজ ঘটে। নানা কারণেই ঘরে জমে থাকা গ্যাসের গন্ধ তেমন টের পাওয়া যায় না। ফলে আগুন জ্বালানোর সময় বিপদ ঘটে। এই বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, নিম্নমানের সিলিন্ডার অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে এলে গ্যাসের চাপ বেড়ে বিস্ফোরণ তৈরি করে। সিলিন্ডারের হাইড্রোলিক পরীক্ষা করা হচ্ছে না। দুর্ঘটনায় সিলিন্ডার আমদানি থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার দায়ভার রয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদেরও সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ