প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন জ্বালানি সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে লোডশেডিংও দিন দিন তীব্র হচ্ছে। বর্তমানে গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির প্রায় সকল বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহের স্বল্পতায় ভুগছে। অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণে থাকা কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রও এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তাই সব মিলিয়ে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন অবস্থান নিম্নমুখী। বর্তমানে দেশ বিদ্যুতের মোট ২৯ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা থাকার পরও অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। এই অবস্থা বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ কমানোর ফলে তৈরি হয়েছে, যেখানে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বৃদ্ধি করা হলে খরচ বেড়ে যাবে। কিন্তু তারপরও তেলচালিত কেন্দ্রগুলোকে বেশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে ৬ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। তবে বেশিরভাগ তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে জ্বালানি তেলের সরবরাহে স্বল্পতা দেখা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য পাওয়া যায়।
একটি সূত্র অনুযায়ী, দেশে মোট ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ৬৪টি, বেসরকারি ৭০টি এবং ভারত ও চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। এর মধ্যে ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। আর বাকিগুলো সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন করেছে। তাছাড়া দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিটেও উৎপাদন বন্ধ ছিল। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। তবে চাইলেও তেলচালিত কেন্দ্র থেকে সবসময় উৎপাদন করা সম্ভব নয়। কারণ মাঝে মাঝে বিরতির কারণে অর্ধেক পর্যন্ত সক্ষমতা ব্যবহার করা যায়। ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূত্র জানায়, ২০২০-২০২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে বেসরকারি তেলচালিত কেন্দ্রগুলোর ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বকেয়া বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন কমানো হয়েছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া ও পিডিবির বিরোধগুলো নিষ্পত্তি করা গেলে তেলচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হতে পারে। জ্বালানি সঙ্কট দূরীকরণে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এলএনজি কেনা, অযোগ্য জাহাজে এলএনজি আমদানি এবং চীনের অনভিজ্ঞ কোম্পানির সঙ্গে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগের মধ্যে সংকট কাটানোর লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। পরিস্থিতির উন্নয়নে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা এবং চুরি বন্ধ হবে না; সংকটও কাটবে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার মেগাওয়াটের একটু বেশি। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা পাচ্ছে না। দেশে ৮টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট; কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ৫ হাজার মেগাওয়াটেরও কম। মূলত কারিগরি ত্রুটির কারণে পটুয়াখালীর পায়রা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া বড়পুকুরিয়া কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটেও কারিগরি ত্রুটি রয়েছে। ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা দেড় হাজার মেগাওয়াট; কিন্তু কয়লা সরবরাহের চাপের কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র।
সূত্রে আরো জানা যায়, দেশের গ্রামের পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি সমিতি বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এছাড়া কিছু এলাকায় পিডিবি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানকে একই এলাকায় একাধিকবার লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বর্তমানে দেশে দিনে ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন নিয়মিত কমছে। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছে। এলএনজি সরবরাহেও कमी এসেছে। বর্তমানে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। তবে গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেলে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায় এবং সঙ্কট বাড়তে থাকে। যদিও ১৫ আগস্ট এক্সিলারেটের টার্মিনাল গ্যাস সরবরাহের জন্য উপযোগী হলেও নির্ধারিত সময়ে এলএনজির কার্গো আসায় সরবরাহ বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না। বরং গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এর ফলে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমার পাশাপাশি শিল্পে উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া রান্না ও পরিবহনে গ্যাসের ভোগান্তি বেড়ে গেছে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশের দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ভারতের আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের সরবরাহ না বাড়ালে চাইলেও তেলচালিত কেন্দ্র থেকে সবসময় উৎপাদন করা যাচ্ছে না। বরং মাঝে মাঝে বিরতির কারণে অর্ধেক সক্ষমতা ব্যবহার করা যায়। যা বিদ্যুৎ ঘাটতির পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম এ প্রসঙ্গে জানান, তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এলএনজি কেনা, অযোগ্য জাহাজে এলএনজি আমদানি এবং চীনের অনভিজ্ঞ কোম্পানির সঙ্গে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ উদ্যোগের মধ্যে সংকট উত্তরণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এজন্য কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, চুরি বন্ধ হবে না; সংকটও কাটবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন