প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন একটি ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের আচমকা ঝোড়ো গতির অভিযান। ইয়েমেনের উপকূল ধরে হুতি যোদ্ধাদের দক্ষিণমুখী এই অগ্রাভিযান কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাবেল মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসছে তাদের হাতের নাগালে।
এই কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গভীর অস্বস্তিতে পড়েছে। লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবেও পরিচিত এই সংকীর্ণ জলপথটি হুতির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি সংঘাতের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানি লোহিত সাগরের বন্দরগুলোর ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এখন হুতির ইয়েমেন এবং আফ্রিকার মধ্যবর্তী বাবেল মান্দেব প্রণালির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পেরিম দ্বীপে পৌঁছে যাওয়ার ফলে রিয়াদের সেই বিকল্প জ্বালানি রুটও চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতোমধ্যেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আর এখন বাবেল মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি তেহরানকে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান জ্বালানি করিডোরের ওপর বাড়তি কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে।
এই সংকট তখন ধীরে ধীরে ঘনীভূত হচ্ছে যখন মার্কিন রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ কঠিন সময় কাটাচ্ছেন। রেকর্ড পরিমাণ নিম্নমুখী জনসমর্থন এবং আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনে নিজের দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে এই সংঘাত ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এখন, এই পরিস্থিতিতে, গত বৃহস্পতিবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলে হুতিদের দমনে সরাসরি সামরিক সহায়তা চেয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন এই মুহূর্তে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াবে না, তবে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি বাবেল মান্দেব প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তা বৈশ্বিক পেট্রোলিয়াম সরবরাহের প্রায় সাত শতাংশ এবং মোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এপ্রিল শতাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সামনে এখন অত্যন্ত কঠিন বিকল্প রয়েছে, হয় মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সরাসরি মাঠে নামিয়ে হুতিদের প্রতিহত করা, নয়তো সৌদি আরব ও আঞ্চলিক মিত্রদের এই ভয়াবহ লড়াইয়ে একা ছেড়ে দেওয়া।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন