ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে গ্যাস লিকেজের কারণে বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনা


দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে গ্যাস লিকেজের কারণে বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনা

গ্যাস লাইনের লিকেজ এবং সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে সারাদেশে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এসব ঘটনায় মৃত্যু, দগ্ধ ও ক্ষতি হলেও কেউই অবহেলাজনিত ঘটনার দায় নিচ্ছে না। গত ৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি বাসায় গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে তিনজন দগ্ধ হয়ে মারা যায়। কিন্তু এই ঘটনায় মামলায় এগোতে রাজি হয়নি নিহতদের স্বজনরা। দেশে বিগত ২০২৫ সালে সিলিন্ডার ও সিলিন্ডারের সঙ্গে যুক্ত উপকরণের লিকেজ থেকে মোট এক হাজার ৪১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২০০৪ সালে ঘটেছিল ৭৪৮টি দুর্ঘটনা। স্রেফ এক বছরের ব্যবধানে দেশে ২৯৩টি দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি বাড়ার পরও সিলিন্ডার আমদানি, বাজারজাতকরণ ও নিরাপত্তা-পরীক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের তদারকি সংস্থাগুলোর সাড়া নেই। একই সময়ে এসব দুর্ঘটনার জন্য কোনও মামলা রুজু করছে না ভুক্তভোগীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রাহকদের অসচেতনতা ও তদারকি সংস্থাগুলোর উদাসীনতায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। মূলত সঠিক নিয়মে সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল না করা, মানহীন সুরক্ষার যন্ত্রাংশের ব্যবহার, সঠিক পদ্ধতিতে রক্ষণাবেক্ষণ না করাসহ মেয়াদোত্তীর্ণ বোতল এবং চুলার পাশে সিলিন্ডার রাখার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে জনসচেতনা বৃদ্ধি করা এবং অবহেলাজনিত কারণে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা প্রয়োজন যাতে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সংশ্লিষ্টসূত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে বিগত ২০২৫ সালে ২৭ হাজার ৫৯টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে ৮৫ জনের মৃত্যু ও ২৬৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে চুলা থেকে ২ হাজার ৯০৯টি, গ্যাস সিলিন্ডার যন্ত্রাংশের লিকেজ থেকে ৯২০টি এবং গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণের ফলে ১২১টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ২০২৪ সালে সারা দেশে গ্যাস সিলিন্ডার যন্ত্রাংশের লিকেজ থেকে ৫৩৯টি, সিলিন্ডার বিস্ফোরণজনিত ২৯টি, গ্যাসের সরবরাহ লাইনের লিকেজ থেকে ৩৭৯টি এবং শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থেকে ৬১টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে, আগুনের ঘটনায় বাস্তবিক হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কারণ অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে পাওয়া মৃতদেহই রেকর্ড হয়, কিন্তু দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহতদের মৃত্যুর কোনও সংখ্যা নেই।

সূত্র জানাচ্ছে, বর্তমানে দেশে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারকারী ৬০ লাখের বেশি গ্রাহক রয়েছেন এবং তাদের একটি বড় অংশ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করছে। চাহিদা মেটাতে বাজারে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৩০ কোম্পানির অন্তত ২ কোটি সিলিন্ডার রয়েছে। গত এক বছরে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৩২৩টি এলপিজি সিলিন্ডার আমদানি হয়েছে। এর পাশাপাশি ৩ লাখ ১ হাজার ১৯০টি সিলিন্ডার আমদানি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দেশে সিলিন্ডার তৈরির জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মিত ৩৫ লাখ ৮২৯টি এলপিজি সিলিন্ডার দেশে বাজারজাত করলেও সেগুলোর মান পরীক্ষার জন্য কোনও অনুমোদিত পরীক্ষণকেন্দ্র নেই। তাছাড়া অনেক অসাধু ব্যবসায়ী, বড় সিলিন্ডার থেকে ছোট সিলিন্ডারে অবৈধভাবে গ্যাস স্থানান্তর করেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে সহায়ক।

আরও পড়ুন: কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাকৃবিতে আন্তর্জাতিক প্রকল্পের উদ্বোধন

অবশ্যই মনে রাখতে হবে, দেশের আগুনে পোড়া অধিকাংশ রোগীর চিকিৎসা ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে হয়ে থাকে। সিলিন্ডার ও লাইনের গ্যাস লিকেজ সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় গতবছর ওই বার্ন ইনস্টিটিউটে যথাক্রমে ১৬২ ও ৮৩ জন ভর্তি হয়েছেন। তাছাড়া দগ্ধ কয়েকজনকে মৃতাবস্থায় এখানে আনা হয়েছিল। তবে ভর্তি রোগীদের মধ্যে কতজন মারা গেছেন, তা জানা নেই। চিকিৎসকদের মতে, গ্যাসের আগুনে দগ্ধ রোগীদের সমস্যা সাধারণত বাড়ে। শরীরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং গ্যাস বা ধোঁয়ায় শ্বাসনালি পুড়িয়ে ফেলার কারণে শারীরিক ট্রমার মাধ্যমে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। বেশিরভাগ দগ্ধদের ভাষ্য হলো, ঘরে গ্যাস লিকেজ টের পাওয়া যায়নি এবং চুলা জ্বালানোর সময় বিস্ফোরণ ঘটেছে।

এদিকে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মেহেদী খান জানান, অনেক অসাধু ব্যবসায়ী গভীর রাতে বড় সিলিন্ডার থেকে ছোট সিলিন্ডারেতে অবৈধভাবে গ্যাস স্থানান্তর করছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের ছিল না কোনও বৈধ লাইসেন্স। দেশের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের তদারকি করার জন্য সারা দেশে মাত্র ১৪ কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে জেলাপর্যায়ে সংস্থার কোনও অফিস খোলা হয়নি। ফলে শুধুমাত্র বিভাগীয় পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দুর্ঘটনা ঘটালে গুরুত্ব বুঝে পরিদর্শন করা হয় এবং লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলা পাওয়া গেলে তাদের অনুমোদন বাতিল করা হচ্ছে। অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলাও করা হচ্ছে।

অন্যদিকে এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, লাইনের গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ এবং সিলিন্ডার বিস্ফোরণ উভয় কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটছে। নিম্নমানের হোসপাইপ, রেগুলেটর, নজেল, ভালভের কারণে লিকেজ ঘটে। নানা কারণেই ঘরে জমে থাকা গ্যাসের গন্ধ তেমন টের পাওয়া যায় না। ফলে আগুন জ্বালানোর সময় বিপদ ঘটে। এই বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, নিম্নমানের সিলিন্ডার অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে এলে গ্যাসের চাপ বেড়ে বিস্ফোরণ তৈরি করে। সিলিন্ডারের হাইড্রোলিক পরীক্ষা করা হচ্ছে না। দুর্ঘটনায় সিলিন্ডার আমদানি থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার দায়ভার রয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদেরও সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন: ঢাকার বড় চ্যালেঞ্জ যানজট ও রাস্তায় হকারের অব্যবস্থাপনা: ডিএসসিসি প্রশাসক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশ বাহিনীতে পদোন্নতি নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৮ এম


পুলিশ বাহিনীতে পদোন্নতি নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ

পুলিশ বাহিনীতে পদোন্নতি নিয়ে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে যে, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যাদের রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং তদবির ভালো, সেই ব্যক্তিরা পদোন্নতি পাচ্ছেন। অথচ যোগ্যতাসম্পন্ন অনেক পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি হচ্ছে না। বরং একজনকে ডিঙ্গিয়ে অনায়াসে আরেকজন উচ্চপদে চলে যাচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে, এক ব্যাচ রেখে পরের ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে, অনেক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাকে জুনিয়রের অধীনে কাজ করতে হচ্ছে। মূলত, বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি পর্যন্ত পদোন্নতি হয়ে থাকে। আর ডিআইজি থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত পদোন্নতি গ্রহণ করা হয় সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমে। নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের অর্থাৎ কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত পদোন্নতি পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে হয়। এসব পদোন্নতি কমিটির প্রধান হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং পুলিশের আইজিপি দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় বর্তমানে সরকারও বিগত সরকারগুলোর মতো দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্যের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। যা পুলিশ বাহিনীর মধ্যে ক্ষোভ ব্রিজায়িত করছে। পুলিশ বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশে পদোন্নতির ক্ষেত্রে পিএসসির মেধাক্রম, কর্মদক্ষতা, আচরণ, বিভাগীয় মামলা, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হয়। তার বাইরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়। বর্তমানে দেশের পুলিশ ক্যাডারে, এএসপি হিসাবে ১ হাজার ২২২টি, অতিরিক্ত এসপি ১ হাজার ১টি, এসপি ৫৯৩টি, অতিরিক্ত ডিআইজি ২৪৬টি, ডিআইজি ১১৮টি ও অতিরিক্ত আইজিপি ২২টি মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে। বর্তমানে অতিরিক্ত আইজিপি গ্রেড-১-এ ২ জন, অতিরিক্ত আইজিপি ২১ জন, ডিআইজি ৭৮ জন, সুপারনিউমারারি ডিআইজি ২ জন, অতিরিক্ত ডিআইজি ১৬৩ জন, অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্ব) ১০ জন, সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি ১০৩ জন, এসপি ৪৬২ জন, সুপারনিউমারারি এসপি ৯২ জন, অতিরিক্ত এসপি ৮৭১ জন, এএসপি ৫৫৬ জন, শিক্ষানবিশ এএসপি ২৯০ জন, ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) ৪ হাজার ৭২৯ জন, ইন্সপেক্টর (টিটি) ৯৮৪ জন, ইন্সপেক্টর (সশস্ত্র) ৮৩৬ জন, এসআই (নিরস্ত্র) ১৯ হাজার ২০৪ জন, সার্জেন্ট (শিক্ষানবিশ) ৮৫ জন, সার্জেন্ট ২ হাজার ২৫ জন, টিএসআই ৪৪৬ জন, এসআই (সশস্ত্র) ২০ হাজার ৬৩৮ জন, এটিএসআই ২ হাজার জন, এএসআই (সশস্ত্র) ৬ হাজার ৮৫৭ জন, নায়েক ৭ হাজার ২০ জন এবং কনস্টেবল ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৫০ জন সদস্য পুলিশ বাহিনীতে রয়েছে।

সূত্র জানাচ্ছে যে, পুলিশ বাহিনীতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে একজনকে ডিঙ্গিয়ে অন্যজনকে পদোন্নতি দেয়া এবং তদবিরের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে দেখা গেছে যে, অন্যদের ডিঙ্গিয়ে বিসিএস ৭ম ব্যাচের ৫ জন কর্মকর্তার মধ্যে দুজন অতিরিক্ত আইজিপি হন, অথচ ওই ব্যাচের অন্য দুই কর্মকর্তা অবসরে যান ডিআইজি থেকেই। ৮ম ব্যাচেও একই অবস্থা ছিল। ওই ব্যাচের কিছু কর্মকর্তা অবসরে এসপি পদে ছিলেন। আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত ডিআইজি থেকে অবসরে গেছেন। এমনকি পিএসসির মেধাতালিকায় যে কর্মকর্তার নাম এক নম্বরে ছিল, তারও পদোন্নতি হয়নি। এছাড়া পুলিশ বাহিনীর ১২তম ব্যাচের ক্ষেত্রেও একই দশা ছিল। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওই ব্যাচের অনেকের পদোন্নতি হয়েছে। তবে পদোন্নতি বঞ্চিতদের মতে, রাজনৈতিক তদবির ও অন্যান্য কারণে তাদের পদোন্নতি প্রাপ্তিতে সমস্যা হচ্ছে। তাদের চাকরির মেয়াদও শেষ হয়ে যাচ্ছে। সংক্ষিপ্ত করে বললে, এখনো ১৫তম ব্যাচের ১৫ জন পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন। একইভাবে ১৭ ব্যাচেও একই ঘটনা ঘটেছে। যদিও ১৭ ব্যাচে ৪৯ জন থাকলেও তাদের পিএসসির তালিকা অনুযায়ী পদোন্নতি হয়নি।

তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের ১৮তম ব্যাচের ৫৫ জন কর্মকর্তার অনেকেই এখনো পদোন্নতি পাননি। পাশাপাশি, ২০তম ব্যাচে ১০৬ জন, ২১তম ব্যাচের ৪৯ জন, ২২তম ব্যাচের ৪২ জন, ২৪তম ব্যাচের ২০১ জন, ২৫তম ব্যাচের ১৯২ জন, ২৭তম ব্যাচের ১৩৭ জন, ২৮তম ব্যাচের ১৮০ জন, ২৯তম ব্যাচের ৩৫ জন, ৩০তম ব্যাচের ১৮৪ জন, ৩১তম ব্যাচের ১৮৩ জন, ৩৩তম ব্যাচের ১৫৫ জন, ৩৪তম ব্যাচের ১৪৭ জন, ৩৫তম ব্যাচের ১১৪ জন, ৩৬তম ব্যাচের ১১৩ জন, ৩৭তম ব্যাচের ৯৭ জন এবং ৩৮তম ব্যাচে ৯৭ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের অনেকেই এখনো পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত। পদোন্নতির ধারাবাহিকতা না থাকায় বর্তমানে পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্যদের মধ্যে সিনিয়রদের প্রতি শ্রদ্ধা কমে আসছে। বর্তমানে অনেক পুলিশ কর্মকর্তারা স্যার সম্বোধন ছাড়াই কাজ করছেন।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতি সরকারী আমলেই তদবিরের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতি দেয়া হয়। বর্তমান সময়ে এর ব্যতিক্রম ঘটছে না। বরং পূর্বের মতো নিয়মের বাইরে গিয়ে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে এখনও পিএসসির মেধাক্রম অনুসরণ করা হচ্ছে। যদিও উক্ত তালিকার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া উচিত। কিন্তু প্রতিটি ব্যাচে একইভাবে পদোন্নতি প্রদান করা হচ্ছে। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন অভিযোগের সম্মুখীন। বর্তমানে পদোন্নতি নিয়ে সুপারনিউমারারি এসপি সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের উদ্বেগ, জুনিয়রদের আগে পদায়ন করা হলে বাহিনীর চেইন অব কমান্ড বজায় থাকবে না।

অন্যদিকে, বিগত ২০২২ সালে ২৮তম ব্যাচের ২৫ জন কর্মকর্তা এসপি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়। পরে ২০২৩ সালের নভেম্বরে একই ব্যাচের আরও ১০৩ জনসহ অন্যান্য ব্যাচের ১৫০ জন কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারারি এসপি পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। বিভিন্ন সময়ে শূন্য পদের বিপরীতে ৮০ জন কর্মকর্তার নিয়মিত পদায়ন হলেও এখনো ওই ব্যাচের ৬০ জন কর্মকর্তা একই পদে রয়েছেন। তারা নিয়মিত পদায়নের চোখে দিন গুনছেন। এসপিদের পাশাপাশি, অতিরিক্ত ডিআইজিদের ক্ষেত্রেও একই পরিস্তিতি বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর ৩০তম ব্যাচের পদোন্নতির জন্য প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তবে সেই প্রস্তাবের সেক্ষেত্রে, শূন্য পদের জন্য ২৮ ও ২৯তম ব্যাচের সুপারনিউমারারিদের আগে সমন্বয় জরুরী। এরপর পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এইভাবে সিনিয়রিটির দিকে নজর দিলে আগে ২৮ ও ২৯-এর পরে ৩০তম ব্যাচ আসবে। আর শূন্য পদের বিপরীতে পদোন্নতি প্রদান করা উচিত। তাহলেই বাহিনীতে শৃঙ্খলা রক্ষা করতে সক্ষম হব। তবে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশ প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পুনর্গঠনের উদ্যোগ ব্যাহত হয়। বর্তমান সরকারের সময়েও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। ফলে কাজের মূল্যায়নের মানদণ্ড নিয়ে ভেতরে-বাইরে নানা প্রশ্ন উঠছে। এমনকি প্রকৃত মূল্যায়ন ও স্বচ্ছতার অভাবের কারণে নতুন বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। আর এই কারণেই পুলিশ বাহিনী উন্নতি করতে পারছে না। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশে সুবিধাবাদী কিছু গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের ইচ্ছানুযায়ী অপরাধীদের অসামান্য পদোন্নতি ঘটানো হচ্ছে এবং যোগ্যরা বাদ পড়ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩২ এম


আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইমানের পর ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আমল হলো সালাত বা নামাজ। নামাজ হচ্ছে ইসলামের প্রাণ। মু’মিন ও কাফেরের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো নামাজ।

ফরজ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি নফল নামাজ পড়ার বিধান ইসলামী শরিয়তে আছে। নামাজ দুনিয়ার সব খারাপ ও অন্যায় কাজ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।

নিচে ঢাকা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য বর্তমান সময়ে নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।

ফজর- ভোর ৪: ২৯ মিনিট

জোহর- দুপুর ১১: ৫৮ মিনিট

আসর- দুপুর ৪: ২১ মিনিট

মাগরিব- সন্ধ্যা ৬: ০৫ মিনিট

এশা- রাত ৭: ২১ মিনিট

আরও দেখুন

ব্রেকিং নিউজ অ্যালার্ট

বিজ্ঞাপন স্পেস

সারাদেশের খবর

নামাজ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি কেবল আমাদের দৈহিক পবিত্রতা নিশ্চিত করে না, বরং আত্মাকে পরিশুদ্ধও করে। আজকের এই নামাজের সময়সূচি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জাত জীবনের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, আল্লাহর জন্য সময় বের করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এমবাপ্পের জোড়া গোলে রিয়াল মাদ্রিদের দাপুটে জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ এম


এমবাপ্পের জোড়া গোলে রিয়াল মাদ্রিদের দাপুটে জয়

লা লিগায় হারের ধাক্কাকে কাটিয়ে জয়ের ধারায় ফিরে এসেছে রিয়াল মাদ্রিদ। তারা সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রায়ো ভায়েকানোকে ৪-১ গোলে হারিয়ে উল্লেখযোগ্য জয় তুলে নিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। দলের পক্ষে জোড়া গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এছাড়াও, আলভারো কারেরাস ও জুড বেলিংহাম একটি করে গোল করে রিয়ালের এই জয়ে বিশেষ অবদান রাখেন।

এই জয়ের ফলে, পাঁচটি ম্যাচে চার জয় নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান করা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে ফেলেছে রিয়াল।

গত সপ্তাহে রিয়াল বেতিসের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর, এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে স্বাগতিকরা। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ডি-বক্সের মধ্যে আলভারো কারেরাস ফাউলের শিকার হলে রিয়াল একটি পেনাল্টি পেয়ে যায়। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে।

এর মাত্র তিন মিনিট পর, ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কারেরাস। এমবাপ্পে দ্বারা বাড়ানো পাস ধরে দারুণ শটে রায়োর জালে বল পাঠান রিয়ালের এই লেফট-ব্যাক।

প্রথমার্ধের ৩৫ মিনিটে, রিয়ালের তৃতীয় গোলটি আসে বেলিংহামের পা থেকে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাট-ব্যাক থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন ইংলিশ মিডফিল্ডার। বিরতির ঠিক আগে, এমবাপ্পের শক্তিশালী শট পোস্টে না লাগলে প্রথমার্ধে ব্যবধান আরও বাড়াতে পারত রিয়াল।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ মিনিটে সার্জিও কামেলো গোল করে রায়োকে ম্যাচে ফেরার একটি সম্ভাবনা দেখান। তবে এরপর অন্যদিকে সফরকারীরা স্বাগতিকদের ওপর বিশেষ চাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়নি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই ধরে রাখে রিয়াল।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আসা রিয়ালের চতুর্থ গোলটি আসে। আরদা গুলেরের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। চলতি লা লিগায় এটি ফরাসি তারকার ষষ্ঠ গোল হিসেবে চিহ্নিত হলো।

রায়ো ভায়েকানের বিরুদ্ধে এই জয়ের মাধ্যমে ঘরের মাঠে শেষ ১৫ ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ ১৪তম জয় তুলে নিল। ম্যাচজুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারও অর্জন করেছেন জুড বেলিংহাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৩ এম


সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর ব্যাপারে দাবি করেছেন ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধারা। এই সশস্ত্র সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে এই দাবি জানান।

একটি প্রতিবেদনে এই তথ্যটি জনিয়েছে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল। ইয়াহিয়া সারি পোস্টে উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটি ছিল হামলার লক্ষ্য। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, সেখানে থাকা অস্ত্রের গুদাম এবং ‘কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

সারি বলেন, এই সমস্ত স্থাপনা হুথিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তবে হামলাটি ঠিক কবে চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তারিখের তথ্য দেওয়া হয়নি।

এদিকে, চলতি সপ্তাহে ইরান-সমর্থিত হুথি এবং সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের মাত্রা বেড়েছে। এর মধ্যেই সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার এ দাবি সামনে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই রবিউস সানি, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৩৫
জোহর ১১:৪৯
আসর ০৪:০৭
মাগরিব ০৫:৪৭
ইশা ০৬:৫৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫০ সূর্যাস্ত : ০৫:৪৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%