রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪৭ এম
দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন জ্বালানি সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে লোডশেডিংও দিন দিন তীব্র হচ্ছে। বর্তমানে গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির প্রায় সকল বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহের স্বল্পতায় ভুগছে। অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণে থাকা কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রও এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তাই সব মিলিয়ে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন অবস্থান নিম্নমুখী। বর্তমানে দেশ বিদ্যুতের মোট ২৯ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা থাকার পরও অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। এই অবস্থা বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ কমানোর ফলে তৈরি হয়েছে, যেখানে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বৃদ্ধি করা হলে খরচ বেড়ে যাবে। কিন্তু তারপরও তেলচালিত কেন্দ্রগুলোকে বেশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে ৬ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। তবে বেশিরভাগ তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে জ্বালানি তেলের সরবরাহে স্বল্পতা দেখা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য পাওয়া যায়।
একটি সূত্র অনুযায়ী, দেশে মোট ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ৬৪টি, বেসরকারি ৭০টি এবং ভারত ও চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। এর মধ্যে ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। আর বাকিগুলো সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন করেছে। তাছাড়া দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিটেও উৎপাদন বন্ধ ছিল। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। তবে চাইলেও তেলচালিত কেন্দ্র থেকে সবসময় উৎপাদন করা সম্ভব নয়। কারণ মাঝে মাঝে বিরতির কারণে অর্ধেক পর্যন্ত সক্ষমতা ব্যবহার করা যায়। ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূত্র জানায়, ২০২০-২০২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে বেসরকারি তেলচালিত কেন্দ্রগুলোর ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বকেয়া বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন কমানো হয়েছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া ও পিডিবির বিরোধগুলো নিষ্পত্তি করা গেলে তেলচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হতে পারে। জ্বালানি সঙ্কট দূরীকরণে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এলএনজি কেনা, অযোগ্য জাহাজে এলএনজি আমদানি এবং চীনের অনভিজ্ঞ কোম্পানির সঙ্গে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগের মধ্যে সংকট কাটানোর লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। পরিস্থিতির উন্নয়নে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা এবং চুরি বন্ধ হবে না; সংকটও কাটবে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার মেগাওয়াটের একটু বেশি। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা পাচ্ছে না। দেশে ৮টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট; কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ৫ হাজার মেগাওয়াটেরও কম। মূলত কারিগরি ত্রুটির কারণে পটুয়াখালীর পায়রা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া বড়পুকুরিয়া কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটেও কারিগরি ত্রুটি রয়েছে। ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা দেড় হাজার মেগাওয়াট; কিন্তু কয়লা সরবরাহের চাপের কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র।
সূত্রে আরো জানা যায়, দেশের গ্রামের পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি সমিতি বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এছাড়া কিছু এলাকায় পিডিবি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানকে একই এলাকায় একাধিকবার লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বর্তমানে দেশে দিনে ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন নিয়মিত কমছে। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছে। এলএনজি সরবরাহেও कमी এসেছে। বর্তমানে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। তবে গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেলে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায় এবং সঙ্কট বাড়তে থাকে। যদিও ১৫ আগস্ট এক্সিলারেটের টার্মিনাল গ্যাস সরবরাহের জন্য উপযোগী হলেও নির্ধারিত সময়ে এলএনজির কার্গো আসায় সরবরাহ বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না। বরং গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এর ফলে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমার পাশাপাশি শিল্পে উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া রান্না ও পরিবহনে গ্যাসের ভোগান্তি বেড়ে গেছে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশের দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ভারতের আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের সরবরাহ না বাড়ালে চাইলেও তেলচালিত কেন্দ্র থেকে সবসময় উৎপাদন করা যাচ্ছে না। বরং মাঝে মাঝে বিরতির কারণে অর্ধেক সক্ষমতা ব্যবহার করা যায়। যা বিদ্যুৎ ঘাটতির পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম এ প্রসঙ্গে জানান, তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এলএনজি কেনা, অযোগ্য জাহাজে এলএনজি আমদানি এবং চীনের অনভিজ্ঞ কোম্পানির সঙ্গে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ উদ্যোগের মধ্যে সংকট উত্তরণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এজন্য কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, চুরি বন্ধ হবে না; সংকটও কাটবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্যাস লাইনের লিকেজ এবং সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে সারাদেশে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এসব ঘটনায় মৃত্যু, দগ্ধ ও ক্ষতি হলেও কেউই অবহেলাজনিত ঘটনার দায় নিচ্ছে না। গত ৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি বাসায় গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে তিনজন দগ্ধ হয়ে মারা যায়। কিন্তু এই ঘটনায় মামলায় এগোতে রাজি হয়নি নিহতদের স্বজনরা। দেশে বিগত ২০২৫ সালে সিলিন্ডার ও সিলিন্ডারের সঙ্গে যুক্ত উপকরণের লিকেজ থেকে মোট এক হাজার ৪১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২০০৪ সালে ঘটেছিল ৭৪৮টি দুর্ঘটনা। স্রেফ এক বছরের ব্যবধানে দেশে ২৯৩টি দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি বাড়ার পরও সিলিন্ডার আমদানি, বাজারজাতকরণ ও নিরাপত্তা-পরীক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের তদারকি সংস্থাগুলোর সাড়া নেই। একই সময়ে এসব দুর্ঘটনার জন্য কোনও মামলা রুজু করছে না ভুক্তভোগীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রাহকদের অসচেতনতা ও তদারকি সংস্থাগুলোর উদাসীনতায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। মূলত সঠিক নিয়মে সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল না করা, মানহীন সুরক্ষার যন্ত্রাংশের ব্যবহার, সঠিক পদ্ধতিতে রক্ষণাবেক্ষণ না করাসহ মেয়াদোত্তীর্ণ বোতল এবং চুলার পাশে সিলিন্ডার রাখার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে জনসচেতনা বৃদ্ধি করা এবং অবহেলাজনিত কারণে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা প্রয়োজন যাতে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সংশ্লিষ্টসূত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে বিগত ২০২৫ সালে ২৭ হাজার ৫৯টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে ৮৫ জনের মৃত্যু ও ২৬৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে চুলা থেকে ২ হাজার ৯০৯টি, গ্যাস সিলিন্ডার যন্ত্রাংশের লিকেজ থেকে ৯২০টি এবং গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণের ফলে ১২১টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ২০২৪ সালে সারা দেশে গ্যাস সিলিন্ডার যন্ত্রাংশের লিকেজ থেকে ৫৩৯টি, সিলিন্ডার বিস্ফোরণজনিত ২৯টি, গ্যাসের সরবরাহ লাইনের লিকেজ থেকে ৩৭৯টি এবং শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থেকে ৬১টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে, আগুনের ঘটনায় বাস্তবিক হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কারণ অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে পাওয়া মৃতদেহই রেকর্ড হয়, কিন্তু দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহতদের মৃত্যুর কোনও সংখ্যা নেই।
সূত্র জানাচ্ছে, বর্তমানে দেশে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারকারী ৬০ লাখের বেশি গ্রাহক রয়েছেন এবং তাদের একটি বড় অংশ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করছে। চাহিদা মেটাতে বাজারে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৩০ কোম্পানির অন্তত ২ কোটি সিলিন্ডার রয়েছে। গত এক বছরে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৩২৩টি এলপিজি সিলিন্ডার আমদানি হয়েছে। এর পাশাপাশি ৩ লাখ ১ হাজার ১৯০টি সিলিন্ডার আমদানি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দেশে সিলিন্ডার তৈরির জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মিত ৩৫ লাখ ৮২৯টি এলপিজি সিলিন্ডার দেশে বাজারজাত করলেও সেগুলোর মান পরীক্ষার জন্য কোনও অনুমোদিত পরীক্ষণকেন্দ্র নেই। তাছাড়া অনেক অসাধু ব্যবসায়ী, বড় সিলিন্ডার থেকে ছোট সিলিন্ডারে অবৈধভাবে গ্যাস স্থানান্তর করেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে সহায়ক।
অবশ্যই মনে রাখতে হবে, দেশের আগুনে পোড়া অধিকাংশ রোগীর চিকিৎসা ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে হয়ে থাকে। সিলিন্ডার ও লাইনের গ্যাস লিকেজ সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় গতবছর ওই বার্ন ইনস্টিটিউটে যথাক্রমে ১৬২ ও ৮৩ জন ভর্তি হয়েছেন। তাছাড়া দগ্ধ কয়েকজনকে মৃতাবস্থায় এখানে আনা হয়েছিল। তবে ভর্তি রোগীদের মধ্যে কতজন মারা গেছেন, তা জানা নেই। চিকিৎসকদের মতে, গ্যাসের আগুনে দগ্ধ রোগীদের সমস্যা সাধারণত বাড়ে। শরীরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং গ্যাস বা ধোঁয়ায় শ্বাসনালি পুড়িয়ে ফেলার কারণে শারীরিক ট্রমার মাধ্যমে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। বেশিরভাগ দগ্ধদের ভাষ্য হলো, ঘরে গ্যাস লিকেজ টের পাওয়া যায়নি এবং চুলা জ্বালানোর সময় বিস্ফোরণ ঘটেছে।
এদিকে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মেহেদী খান জানান, অনেক অসাধু ব্যবসায়ী গভীর রাতে বড় সিলিন্ডার থেকে ছোট সিলিন্ডারেতে অবৈধভাবে গ্যাস স্থানান্তর করছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের ছিল না কোনও বৈধ লাইসেন্স। দেশের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের তদারকি করার জন্য সারা দেশে মাত্র ১৪ কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে জেলাপর্যায়ে সংস্থার কোনও অফিস খোলা হয়নি। ফলে শুধুমাত্র বিভাগীয় পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দুর্ঘটনা ঘটালে গুরুত্ব বুঝে পরিদর্শন করা হয় এবং লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলা পাওয়া গেলে তাদের অনুমোদন বাতিল করা হচ্ছে। অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলাও করা হচ্ছে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, লাইনের গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ এবং সিলিন্ডার বিস্ফোরণ উভয় কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটছে। নিম্নমানের হোসপাইপ, রেগুলেটর, নজেল, ভালভের কারণে লিকেজ ঘটে। নানা কারণেই ঘরে জমে থাকা গ্যাসের গন্ধ তেমন টের পাওয়া যায় না। ফলে আগুন জ্বালানোর সময় বিপদ ঘটে। এই বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, নিম্নমানের সিলিন্ডার অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে এলে গ্যাসের চাপ বেড়ে বিস্ফোরণ তৈরি করে। সিলিন্ডারের হাইড্রোলিক পরীক্ষা করা হচ্ছে না। দুর্ঘটনায় সিলিন্ডার আমদানি থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার দায়ভার রয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদেরও সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশ বাহিনীতে পদোন্নতি নিয়ে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে যে, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যাদের রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং তদবির ভালো, সেই ব্যক্তিরা পদোন্নতি পাচ্ছেন। অথচ যোগ্যতাসম্পন্ন অনেক পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি হচ্ছে না। বরং একজনকে ডিঙ্গিয়ে অনায়াসে আরেকজন উচ্চপদে চলে যাচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে, এক ব্যাচ রেখে পরের ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে, অনেক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাকে জুনিয়রের অধীনে কাজ করতে হচ্ছে। মূলত, বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি পর্যন্ত পদোন্নতি হয়ে থাকে। আর ডিআইজি থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত পদোন্নতি গ্রহণ করা হয় সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমে। নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের অর্থাৎ কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত পদোন্নতি পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে হয়। এসব পদোন্নতি কমিটির প্রধান হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং পুলিশের আইজিপি দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় বর্তমানে সরকারও বিগত সরকারগুলোর মতো দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্যের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। যা পুলিশ বাহিনীর মধ্যে ক্ষোভ ব্রিজায়িত করছে। পুলিশ বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশে পদোন্নতির ক্ষেত্রে পিএসসির মেধাক্রম, কর্মদক্ষতা, আচরণ, বিভাগীয় মামলা, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হয়। তার বাইরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়। বর্তমানে দেশের পুলিশ ক্যাডারে, এএসপি হিসাবে ১ হাজার ২২২টি, অতিরিক্ত এসপি ১ হাজার ১টি, এসপি ৫৯৩টি, অতিরিক্ত ডিআইজি ২৪৬টি, ডিআইজি ১১৮টি ও অতিরিক্ত আইজিপি ২২টি মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে। বর্তমানে অতিরিক্ত আইজিপি গ্রেড-১-এ ২ জন, অতিরিক্ত আইজিপি ২১ জন, ডিআইজি ৭৮ জন, সুপারনিউমারারি ডিআইজি ২ জন, অতিরিক্ত ডিআইজি ১৬৩ জন, অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্ব) ১০ জন, সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি ১০৩ জন, এসপি ৪৬২ জন, সুপারনিউমারারি এসপি ৯২ জন, অতিরিক্ত এসপি ৮৭১ জন, এএসপি ৫৫৬ জন, শিক্ষানবিশ এএসপি ২৯০ জন, ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) ৪ হাজার ৭২৯ জন, ইন্সপেক্টর (টিটি) ৯৮৪ জন, ইন্সপেক্টর (সশস্ত্র) ৮৩৬ জন, এসআই (নিরস্ত্র) ১৯ হাজার ২০৪ জন, সার্জেন্ট (শিক্ষানবিশ) ৮৫ জন, সার্জেন্ট ২ হাজার ২৫ জন, টিএসআই ৪৪৬ জন, এসআই (সশস্ত্র) ২০ হাজার ৬৩৮ জন, এটিএসআই ২ হাজার জন, এএসআই (সশস্ত্র) ৬ হাজার ৮৫৭ জন, নায়েক ৭ হাজার ২০ জন এবং কনস্টেবল ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৫০ জন সদস্য পুলিশ বাহিনীতে রয়েছে।
সূত্র জানাচ্ছে যে, পুলিশ বাহিনীতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে একজনকে ডিঙ্গিয়ে অন্যজনকে পদোন্নতি দেয়া এবং তদবিরের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে দেখা গেছে যে, অন্যদের ডিঙ্গিয়ে বিসিএস ৭ম ব্যাচের ৫ জন কর্মকর্তার মধ্যে দুজন অতিরিক্ত আইজিপি হন, অথচ ওই ব্যাচের অন্য দুই কর্মকর্তা অবসরে যান ডিআইজি থেকেই। ৮ম ব্যাচেও একই অবস্থা ছিল। ওই ব্যাচের কিছু কর্মকর্তা অবসরে এসপি পদে ছিলেন। আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত ডিআইজি থেকে অবসরে গেছেন। এমনকি পিএসসির মেধাতালিকায় যে কর্মকর্তার নাম এক নম্বরে ছিল, তারও পদোন্নতি হয়নি। এছাড়া পুলিশ বাহিনীর ১২তম ব্যাচের ক্ষেত্রেও একই দশা ছিল। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওই ব্যাচের অনেকের পদোন্নতি হয়েছে। তবে পদোন্নতি বঞ্চিতদের মতে, রাজনৈতিক তদবির ও অন্যান্য কারণে তাদের পদোন্নতি প্রাপ্তিতে সমস্যা হচ্ছে। তাদের চাকরির মেয়াদও শেষ হয়ে যাচ্ছে। সংক্ষিপ্ত করে বললে, এখনো ১৫তম ব্যাচের ১৫ জন পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন। একইভাবে ১৭ ব্যাচেও একই ঘটনা ঘটেছে। যদিও ১৭ ব্যাচে ৪৯ জন থাকলেও তাদের পিএসসির তালিকা অনুযায়ী পদোন্নতি হয়নি।
তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের ১৮তম ব্যাচের ৫৫ জন কর্মকর্তার অনেকেই এখনো পদোন্নতি পাননি। পাশাপাশি, ২০তম ব্যাচে ১০৬ জন, ২১তম ব্যাচের ৪৯ জন, ২২তম ব্যাচের ৪২ জন, ২৪তম ব্যাচের ২০১ জন, ২৫তম ব্যাচের ১৯২ জন, ২৭তম ব্যাচের ১৩৭ জন, ২৮তম ব্যাচের ১৮০ জন, ২৯তম ব্যাচের ৩৫ জন, ৩০তম ব্যাচের ১৮৪ জন, ৩১তম ব্যাচের ১৮৩ জন, ৩৩তম ব্যাচের ১৫৫ জন, ৩৪তম ব্যাচের ১৪৭ জন, ৩৫তম ব্যাচের ১১৪ জন, ৩৬তম ব্যাচের ১১৩ জন, ৩৭তম ব্যাচের ৯৭ জন এবং ৩৮তম ব্যাচে ৯৭ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের অনেকেই এখনো পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত। পদোন্নতির ধারাবাহিকতা না থাকায় বর্তমানে পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্যদের মধ্যে সিনিয়রদের প্রতি শ্রদ্ধা কমে আসছে। বর্তমানে অনেক পুলিশ কর্মকর্তারা স্যার সম্বোধন ছাড়াই কাজ করছেন।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতি সরকারী আমলেই তদবিরের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতি দেয়া হয়। বর্তমান সময়ে এর ব্যতিক্রম ঘটছে না। বরং পূর্বের মতো নিয়মের বাইরে গিয়ে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে এখনও পিএসসির মেধাক্রম অনুসরণ করা হচ্ছে। যদিও উক্ত তালিকার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া উচিত। কিন্তু প্রতিটি ব্যাচে একইভাবে পদোন্নতি প্রদান করা হচ্ছে। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন অভিযোগের সম্মুখীন। বর্তমানে পদোন্নতি নিয়ে সুপারনিউমারারি এসপি সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের উদ্বেগ, জুনিয়রদের আগে পদায়ন করা হলে বাহিনীর চেইন অব কমান্ড বজায় থাকবে না।
অন্যদিকে, বিগত ২০২২ সালে ২৮তম ব্যাচের ২৫ জন কর্মকর্তা এসপি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়। পরে ২০২৩ সালের নভেম্বরে একই ব্যাচের আরও ১০৩ জনসহ অন্যান্য ব্যাচের ১৫০ জন কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারারি এসপি পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। বিভিন্ন সময়ে শূন্য পদের বিপরীতে ৮০ জন কর্মকর্তার নিয়মিত পদায়ন হলেও এখনো ওই ব্যাচের ৬০ জন কর্মকর্তা একই পদে রয়েছেন। তারা নিয়মিত পদায়নের চোখে দিন গুনছেন। এসপিদের পাশাপাশি, অতিরিক্ত ডিআইজিদের ক্ষেত্রেও একই পরিস্তিতি বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর ৩০তম ব্যাচের পদোন্নতির জন্য প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তবে সেই প্রস্তাবের সেক্ষেত্রে, শূন্য পদের জন্য ২৮ ও ২৯তম ব্যাচের সুপারনিউমারারিদের আগে সমন্বয় জরুরী। এরপর পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এইভাবে সিনিয়রিটির দিকে নজর দিলে আগে ২৮ ও ২৯-এর পরে ৩০তম ব্যাচ আসবে। আর শূন্য পদের বিপরীতে পদোন্নতি প্রদান করা উচিত। তাহলেই বাহিনীতে শৃঙ্খলা রক্ষা করতে সক্ষম হব। তবে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশ প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পুনর্গঠনের উদ্যোগ ব্যাহত হয়। বর্তমান সরকারের সময়েও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। ফলে কাজের মূল্যায়নের মানদণ্ড নিয়ে ভেতরে-বাইরে নানা প্রশ্ন উঠছে। এমনকি প্রকৃত মূল্যায়ন ও স্বচ্ছতার অভাবের কারণে নতুন বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। আর এই কারণেই পুলিশ বাহিনী উন্নতি করতে পারছে না। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশে সুবিধাবাদী কিছু গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের ইচ্ছানুযায়ী অপরাধীদের অসামান্য পদোন্নতি ঘটানো হচ্ছে এবং যোগ্যরা বাদ পড়ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইমানের পর ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আমল হলো সালাত বা নামাজ। নামাজ হচ্ছে ইসলামের প্রাণ। মু’মিন ও কাফেরের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো নামাজ।
ফরজ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি নফল নামাজ পড়ার বিধান ইসলামী শরিয়তে আছে। নামাজ দুনিয়ার সব খারাপ ও অন্যায় কাজ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
নিচে ঢাকা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য বর্তমান সময়ে নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
ফজর- ভোর ৪: ২৯ মিনিট
জোহর- দুপুর ১১: ৫৮ মিনিট
আসর- দুপুর ৪: ২১ মিনিট
মাগরিব- সন্ধ্যা ৬: ০৫ মিনিট
এশা- রাত ৭: ২১ মিনিট
আরও দেখুন
ব্রেকিং নিউজ অ্যালার্ট
বিজ্ঞাপন স্পেস
সারাদেশের খবর
নামাজ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি কেবল আমাদের দৈহিক পবিত্রতা নিশ্চিত করে না, বরং আত্মাকে পরিশুদ্ধও করে। আজকের এই নামাজের সময়সূচি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জাত জীবনের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, আল্লাহর জন্য সময় বের করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লা লিগায় হারের ধাক্কাকে কাটিয়ে জয়ের ধারায় ফিরে এসেছে রিয়াল মাদ্রিদ। তারা সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রায়ো ভায়েকানোকে ৪-১ গোলে হারিয়ে উল্লেখযোগ্য জয় তুলে নিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। দলের পক্ষে জোড়া গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এছাড়াও, আলভারো কারেরাস ও জুড বেলিংহাম একটি করে গোল করে রিয়ালের এই জয়ে বিশেষ অবদান রাখেন।
এই জয়ের ফলে, পাঁচটি ম্যাচে চার জয় নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান করা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে ফেলেছে রিয়াল।
গত সপ্তাহে রিয়াল বেতিসের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর, এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে স্বাগতিকরা। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ডি-বক্সের মধ্যে আলভারো কারেরাস ফাউলের শিকার হলে রিয়াল একটি পেনাল্টি পেয়ে যায়। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে।
এর মাত্র তিন মিনিট পর, ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কারেরাস। এমবাপ্পে দ্বারা বাড়ানো পাস ধরে দারুণ শটে রায়োর জালে বল পাঠান রিয়ালের এই লেফট-ব্যাক।
প্রথমার্ধের ৩৫ মিনিটে, রিয়ালের তৃতীয় গোলটি আসে বেলিংহামের পা থেকে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাট-ব্যাক থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন ইংলিশ মিডফিল্ডার। বিরতির ঠিক আগে, এমবাপ্পের শক্তিশালী শট পোস্টে না লাগলে প্রথমার্ধে ব্যবধান আরও বাড়াতে পারত রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ মিনিটে সার্জিও কামেলো গোল করে রায়োকে ম্যাচে ফেরার একটি সম্ভাবনা দেখান। তবে এরপর অন্যদিকে সফরকারীরা স্বাগতিকদের ওপর বিশেষ চাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়নি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই ধরে রাখে রিয়াল।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আসা রিয়ালের চতুর্থ গোলটি আসে। আরদা গুলেরের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। চলতি লা লিগায় এটি ফরাসি তারকার ষষ্ঠ গোল হিসেবে চিহ্নিত হলো।
রায়ো ভায়েকানের বিরুদ্ধে এই জয়ের মাধ্যমে ঘরের মাঠে শেষ ১৫ ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ ১৪তম জয় তুলে নিল। ম্যাচজুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারও অর্জন করেছেন জুড বেলিংহাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ