রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪০ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি ও নীতিমালার আলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সিলেবাস ও কর্মপদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনার কাজ শুরু করেছে।
তিনি শনিবার সাংবাদিকদের সামনে রাজধানীর নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর প্লিনারি সেশনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন।
ড. মাহ্দী আমিন শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে বলেছেন, সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে, যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও একইভাবে এগিয়ে আসে।
‘ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত বাংলাদেশের জন্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম): উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির মেরুদণ্ড নির্মাণ’ শীর্ষক ওই সেশনে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিনি বলেন, দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির জন্য ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজের বিদ্যমান নীতিগত ব্যবধান দূর করতে হবে। এটির মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থানমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
অধ্যাপক আমানুল্লাহ আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে এপ্রেন্টিসশিপ ও ইন্টার্নশিপের ব্যবধান ঘুচিয়ে সমন্বিত ‘এসটিইএম ক্যারিয়ার গাইডেন্স’ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
এছাড়াও আধুনিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘ইন্ডাস্ট্রি-ফিট সার্টিফিকেট’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি পরামর্শ দেন, সরকারের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত। এই উদ্যোগ দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির পাশাপাশি সময়োপযোগী গবেষণার গতিবিধি বাড়াবে।
অধ্যাপক আমানুল্লাহ এসটিইএম শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং বলেন, নারীদের উপস্থিতি এখনও আশাব্যঞ্জক নয়; এই কারণে নারী শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহ ও প্রণোদনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপকতা স্থান হিসেবে জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ গ্র্যাজুয়েট তৈরি হয়, যার মধ্যে প্রায় ৫ লাখই আসেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে। তাই দক্ষ ও কর্মসংস্থানমুখী গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকাঠামোতে দ্রুত বড় ধরনের রূপান্তরের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
ভিসি অধ্যাপক আমানুল্লাহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে আধুনিক ল্যাবরেটরি ও কম্পিউটার সুবিধা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। তিনি জানান, সরকারি উদ্যোগে এবং ইউনিসেফের সহায়তায় এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি জরিপ চলছে এবং জরিপের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্লিনারি সেশনে মো. আনোয়ার হোসেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. ম তামিম এবং ইউনিসেফ, ইউএনডিপি ও গ্রামীণফোনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।
‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া তিন দিনের ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১০টি উদ্ভাবন প্রদর্শন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিসহ এর অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরা এসব উদ্ভাবন নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছেন। মেলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১১ থেকে ১৫ নম্বর স্টল বরাদ্দ রয়েছে। এ মেলা আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১ বছর ৬ মাসের সাজা পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিসহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত জোরারগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পিএসআই কামরুল হাসান সঙ্গীয় ফোর্সসহ শনিবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে ইছাখালী ইউনিয়নের বেপজার গেটের সামনে থেকে ২৫ পিস ইয়াবাসহ মো. বাদশা (৩৬) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেন। একই দিন রাত ১১টা ৫ মিনিটে এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বারইয়ারহাট কমফোর্ট হাসপাতালের সামনে মহাসড়ক থেকে ১৫ পিস ইয়াবাসহ মো. সুমন (৪৩) নামের অপর মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেন।
এদিকে রোববার সকালে উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় ১ বছর ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. আউলিয়া হোসেন ওরফে শহিদকে গ্রেফতার করেন এএসআই মো. আব্দুল মমিন। এছাড়া যৌতুক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি শাহাদাত হোসেন এবং অপর এক মামলার আসামি মোশারফ হোসেন ওরফে ফুলসার (৪৪)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পৃথক অভিযানে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫১ ধারায় মো. মাহাবুবুল ইসলাম রাব্বি (২০) ও প্রিন্স দেবনাথ (২০) নামে দুজনকে এবং পেনাল কোডের নিয়মিত মামলার আসামি মো. শরিফুল ইসলাম রাসেল (৪০)-কে বারইয়ারহাট বাজার ও বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব আব্দুল হালিম জানান, গ্রেফতারকৃত ৮ আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুইডেনে আজ সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে। এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে এবার প্রথমবারের মতো উগ্র ডানপন্থীরা সরকারে আসবে, নাকি বামপন্থী বিরোধীরা আবার তারা ক্ষমতায় ফিরবে— সেই বিষয়টি নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।
এ সংক্রান্ত খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে পাওয়া গেছে। দীর্ঘকাল ধরে চলমান জনমত জরিপে বামপন্থী জোটের চারটি দল রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের চেয়ে বেশ এগিয়ে ছিল। এই জোটের মধ্যে উগ্র ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলও রয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারের শেষ মুহূর্তে দেখা যায়, দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবধান কমে এসে প্রায় সমানে সমান অবস্থানে পৌঁছে গেছে। বিরোধীদলীয় নেতা এবং সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসের প্রধান ম্যাগদালেনা অ্যান্ডারসন মন্তব্য করেছেন, যদি বামপন্থী চার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তবে তারা কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সমস্যার সম্মুখীন হওয়া পরিবারগুলোকে সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অন্যদিকে বিদায়ী রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন উল্লেখ করেছেন, তার সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের ফলাফল সংগঠিত অপরাধ ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সন্তোষজনকভাবে এসেছে বলেই, এখন তিনি সাধারণ সুইডিশ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করবেন।
গত চার বছর ধরে ক্রিস্টারসন উগ্র ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের সমর্থনে সরকার পরিচালনা করেছেন। এবারের নির্বাচনে যদি ডানপন্থী চার দল জয়ী হয়, তবে প্রথমবারের মতো ওই অভিবাসনবিরোধী দলের সরকারে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন।
ভোটকেন্দ্রগুলো স্থানীয় সময় রাত ৮টায় বন্ধ হবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জরিপ প্রকাশ করা হবে। তার পর প্রথম নির্ভরযোগ্য ফলাফল কয়েক ঘণ্টা পর পাওয়া যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ২০২২ সালের একটি মারামারি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত থাকা এনামুল শেখ (৩২)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বানা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার আরাজি রুদ্রবানা থেকে এনামুল শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার এনামুল শেখ ওই এলাকার ইদ্রিস শেখের ছেলে।
আলফাডাঙ্গা থানার এএসআই মো. জাকির হোসাইন বলেন, ২০২২ সালের একটি মারামারি মামলায় এনামুল শেখের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর থেকেই তিনি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ছিলেন।
আলফাডাঙ্গা থানার ওসি সোহেল সরোয়ার বলেন, একটি মারামারি মামলায় এনামুল শেখের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। শনিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ৪৪ বোতল মদ ও ২৮ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)।
আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ ভোর ৫টায় ৫৩ বিজিবি’র অধীনস্থ ফতেপুর বিওপির একটি বিশেষ টহলদল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানাধীন পাকা ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জব্দকৃত ৪৪ বোতল ভারতীয় মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৬,০০০ টাকা এবং ২৮ বোতল ফেন্সিডিলের মূল্য ১১,২০০ টাকা; যার মোট মূল্য ৭৭,২০০ (সাতাত্তর হাজার দুইশত) টাকা। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ইতোমধ্যে শিবগঞ্জ থানায় জমা করা হয়েছে।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ৫৩ বিজিবি কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে এ পর্যন্ত ভারতীয় ১৮৮ বোতল নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ, ৪৯ বোতল নেশাজাতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ, ২৮ বোতল ফেন্সিডিল এবং ৬৫ বোতল মদ জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সবসময় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ