প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি ও নীতিমালার আলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সিলেবাস ও কর্মপদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনার কাজ শুরু করেছে।
তিনি শনিবার সাংবাদিকদের সামনে রাজধানীর নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর প্লিনারি সেশনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন।
ড. মাহ্দী আমিন শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে বলেছেন, সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে, যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও একইভাবে এগিয়ে আসে।
‘ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত বাংলাদেশের জন্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম): উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির মেরুদণ্ড নির্মাণ’ শীর্ষক ওই সেশনে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিনি বলেন, দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির জন্য ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজের বিদ্যমান নীতিগত ব্যবধান দূর করতে হবে। এটির মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থানমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
অধ্যাপক আমানুল্লাহ আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে এপ্রেন্টিসশিপ ও ইন্টার্নশিপের ব্যবধান ঘুচিয়ে সমন্বিত ‘এসটিইএম ক্যারিয়ার গাইডেন্স’ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
এছাড়াও আধুনিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘ইন্ডাস্ট্রি-ফিট সার্টিফিকেট’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি পরামর্শ দেন, সরকারের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত। এই উদ্যোগ দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির পাশাপাশি সময়োপযোগী গবেষণার গতিবিধি বাড়াবে।
অধ্যাপক আমানুল্লাহ এসটিইএম শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং বলেন, নারীদের উপস্থিতি এখনও আশাব্যঞ্জক নয়; এই কারণে নারী শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহ ও প্রণোদনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপকতা স্থান হিসেবে জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ গ্র্যাজুয়েট তৈরি হয়, যার মধ্যে প্রায় ৫ লাখই আসেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে। তাই দক্ষ ও কর্মসংস্থানমুখী গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকাঠামোতে দ্রুত বড় ধরনের রূপান্তরের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
ভিসি অধ্যাপক আমানুল্লাহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে আধুনিক ল্যাবরেটরি ও কম্পিউটার সুবিধা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। তিনি জানান, সরকারি উদ্যোগে এবং ইউনিসেফের সহায়তায় এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি জরিপ চলছে এবং জরিপের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্লিনারি সেশনে মো. আনোয়ার হোসেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. ম তামিম এবং ইউনিসেফ, ইউএনডিপি ও গ্রামীণফোনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।
‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া তিন দিনের ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১০টি উদ্ভাবন প্রদর্শন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিসহ এর অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরা এসব উদ্ভাবন নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছেন। মেলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১১ থেকে ১৫ নম্বর স্টল বরাদ্দ রয়েছে। এ মেলা আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন