মোঃ শাহিন ,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৮ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ৪৪ বোতল মদ ও ২৮ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)।
আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ ভোর ৫টায় ৫৩ বিজিবি’র অধীনস্থ ফতেপুর বিওপির একটি বিশেষ টহলদল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানাধীন পাকা ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জব্দকৃত ৪৪ বোতল ভারতীয় মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৬,০০০ টাকা এবং ২৮ বোতল ফেন্সিডিলের মূল্য ১১,২০০ টাকা; যার মোট মূল্য ৭৭,২০০ (সাতাত্তর হাজার দুইশত) টাকা। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ইতোমধ্যে শিবগঞ্জ থানায় জমা করা হয়েছে।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ৫৩ বিজিবি কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে এ পর্যন্ত ভারতীয় ১৮৮ বোতল নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ, ৪৯ বোতল নেশাজাতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ, ২৮ বোতল ফেন্সিডিল এবং ৬৫ বোতল মদ জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সবসময় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযানের নামে প্রায় ৪০ ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে।অভিযোগের পর তাঁকে সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেস থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ। অভিযুক্ত কনস্টেবল জাকির হোসেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মরা পাগলা নদীর কালীনগর ব্রিজের পাশে এ ঘটনা ঘটে। রাজশাহীর এক ব্যবসায়ী নিঝুম তাঁর ব্যবসায়িক অর্ডারের বিপরীতে প্রায় ৪০ ভরি গলিত স্বর্ণ চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর কাছে পাঠান। স্বর্ণের চালানটি রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে আসেন নিঝুমের দুলাভাই মোহাম্মদ আলী। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিঝুমের অভিযোগ, মোহাম্মদ আলী স্বর্ণের চালানটি ব্যবসায়ীর কাছে হস্তান্তরের পরপরই পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেন সাদাপোশাকে সেখানে উপস্থিত হন। পরে পুলিশ পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে স্বর্ণগুলো নিয়ে চলে যান। তাঁর দাবি, মোহাম্মদ আলী ও তাঁর ছেলে নয়ন কনস্টেবল জাকিরকে ব্যবহার করে স্বর্ণগুলো আত্মসাৎ করেছেন।
ঘটনার পর নিঝুম বিষয়টি জানতে পেরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে কালীনগর ব্রিজ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেন। ফুটেজে ঘটনার কিছুক্ষণ আগে কনস্টেবল জাকিরকে মোটরসাইকেলে করে আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে কালীনগর ব্রিজের দিকে যেতে দেখা যায় বলে তিনি দাবি করেন। এদিকে জাকির হোসেন কালীনগর ব্রিজ এলাকায় যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও স্বর্ণ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, নিঝুম কারণ ছাড়াই তাঁকে ঘটনায় জড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁদের নিজেদের এবং মীমাংসার জন্য বসার কথা ছিল। তবে জাকিরের সঙ্গে মোহাম্মদ আলী ও তাঁর ছেলে নয়নের ঘন ঘন মোবাইল ফোনে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার আগে-পরে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার ফোনালাপ হয়েছে। এমনকি ঘটনার দিন স্বর্ণের চালান নিয়ে মোহাম্মদ আলী কালীনগর ব্রিজ এলাকায় অবস্থান করার সময় জাকিরও ওই এলাকায় ছিলেন বলে ফোনকলের লোকেশন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এসময় তাঁদের মধ্যেএকাধিকবার ফোনে কথোপকথনও হয়।
তবে এসব ফোনালাপের সঙ্গে স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর কনস্টেবল জাকির এক মাসের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান। ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিলে তাঁকে সদর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাতকে অভিযোগটি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেছেন। আগামী ১০ দিনের মধ্যে পুলিশ সুপারের কাছে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাত বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কনস্টেবল জাকিরকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১৯৪ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র্যাব-৯ এর একটি বিশেষ টিম।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) র্যাব-৯-এর মিডিয়া শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জের একটি বিশেষ টিম তাহিরপুর থানাধীন বাদাঘাট ইউনিয়নের লাউড়েরগড় বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন ব্যক্তি তিনটি প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে বস্তাগুলো তল্লাশি করে ১৯৪ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, উদ্ধার করা মদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তাহিরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেক্সিকোর মাদকচক্রের কাছে অস্ত্র সরবরাহের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে আসায় উগান্ডার সেনাপ্রধানের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে।
উগান্ডার কারা বিভাগের প্রধান এ সময় শনিবার এএফপিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ওয়াশিংটন গত জুলাইয়ে জানিয়েছিল যে, তারা কাতুঙ্গি মাইকেল ম্পেইরওয়ে এবং আরও তিনজনের বিরুদ্ধে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার মূল্যের অস্ত্র সরবরাহের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, এসব অস্ত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল কুখ্যাত কার্টেল দে জালিস্কো নুয়েভা জেনেরাসিয়ন (সিজেএনজি)-এর কাছেও অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা।
উগান্ডার সেনাপ্রধান মুহুজি কাইনেরুগাবার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ম্পেইরওয়ে এবং তার সঙ্গে অভিযুক্ত বুলগেরিয়া, Kenya ও তানজানিয়ার তিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মেশিনগান, রকেট লঞ্চার ও অ্যান্টি-পার্সেনেল মাইন সরবরাহের পরিকল্পনার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মার্কিন কৌঁসুলিদের অভিযোগ অনুযায়ী জানা গেছে, তারা মাদকচক্রগুলোর কাছে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমানবিধ্বংসী কামান সরবরাহের প্রচেষ্টা করছিলেন।
উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনি কাইনেরুগাবার বাবা।
উগান্ডার কারা বিভাগের মহাপরিচালক জনসন বায়াবাশাইজা এএফপিকে জানান, ম্পেইরওয়েকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন তিনি তাদের হেফাজতে আছেন।’
উগান্ডার এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার তথ্যমতে, সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও কূটনীতিক ম্পেইরওয়েকে ২৭ জুন কাম্পালার একটি অভিজাত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। দুই দিন পর তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রায় ১৪ হাজার ৮০০ জনকে আটক করার পর এক সপ্তাহের মধ্যে সৌদি আরব থেকে ১২ হাজার ৫৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চালানো যৌথ তল্লাশি অভিযানে ১৪ হাজার ৭৯৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৭ হাজার ৫০৪ জনের বিরুদ্ধে আবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে ৩ হাজার ৭৮৩ জনকে, এবং শ্রমবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছেন ৩ হাজার ৫০৯ জন।
এছাড়া, অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১ হাজার ২৭৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ ইথিওপিয়ার নাগরিক, ৪৪ শতাংশ ইয়েমেনের নাগরিক এবং ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের। অন্যদিকে, অবৈধভাবে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টা করার সময় আরো ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গত এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৫৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আরো ১৮ হাজার ৬৭৭ জনকে ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য তাদের নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ৩ হাজার ৪৮৭ জনকে ভ্রমণের ব্যবস্থা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় দেয়ার বা তাদের কর্মে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগে আরো ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে মোট ৩০ হাজার ২৫৭ জন প্রবাসী অভিবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ৫২৯ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৭২৮ জন নারী।
সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, অবৈধভাবে কাউকে দেশে প্রবেশে সহায়তা করা, পরিবহন বা আশ্রয় দেয়া কিংবা অন্য কোনো সহায়তা করার জন্য সর্বচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বচ্চ ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানাসহ শাস্তির বিধান রয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন এবং তাদের আশ্রয় দেয়ার কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তিও জব্দ করা হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ