রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪৩ পি.এম
চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১ বছর ৬ মাসের সাজা পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিসহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত জোরারগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পিএসআই কামরুল হাসান সঙ্গীয় ফোর্সসহ শনিবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে ইছাখালী ইউনিয়নের বেপজার গেটের সামনে থেকে ২৫ পিস ইয়াবাসহ মো. বাদশা (৩৬) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেন। একই দিন রাত ১১টা ৫ মিনিটে এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বারইয়ারহাট কমফোর্ট হাসপাতালের সামনে মহাসড়ক থেকে ১৫ পিস ইয়াবাসহ মো. সুমন (৪৩) নামের অপর মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেন।
এদিকে রোববার সকালে উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় ১ বছর ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. আউলিয়া হোসেন ওরফে শহিদকে গ্রেফতার করেন এএসআই মো. আব্দুল মমিন। এছাড়া যৌতুক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি শাহাদাত হোসেন এবং অপর এক মামলার আসামি মোশারফ হোসেন ওরফে ফুলসার (৪৪)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পৃথক অভিযানে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫১ ধারায় মো. মাহাবুবুল ইসলাম রাব্বি (২০) ও প্রিন্স দেবনাথ (২০) নামে দুজনকে এবং পেনাল কোডের নিয়মিত মামলার আসামি মো. শরিফুল ইসলাম রাসেল (৪০)-কে বারইয়ারহাট বাজার ও বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব আব্দুল হালিম জানান, গ্রেফতারকৃত ৮ আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুইডেনে আজ সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে। এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে এবার প্রথমবারের মতো উগ্র ডানপন্থীরা সরকারে আসবে, নাকি বামপন্থী বিরোধীরা আবার তারা ক্ষমতায় ফিরবে— সেই বিষয়টি নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।
এ সংক্রান্ত খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে পাওয়া গেছে। দীর্ঘকাল ধরে চলমান জনমত জরিপে বামপন্থী জোটের চারটি দল রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের চেয়ে বেশ এগিয়ে ছিল। এই জোটের মধ্যে উগ্র ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলও রয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারের শেষ মুহূর্তে দেখা যায়, দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবধান কমে এসে প্রায় সমানে সমান অবস্থানে পৌঁছে গেছে। বিরোধীদলীয় নেতা এবং সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসের প্রধান ম্যাগদালেনা অ্যান্ডারসন মন্তব্য করেছেন, যদি বামপন্থী চার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তবে তারা কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সমস্যার সম্মুখীন হওয়া পরিবারগুলোকে সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অন্যদিকে বিদায়ী রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন উল্লেখ করেছেন, তার সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের ফলাফল সংগঠিত অপরাধ ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সন্তোষজনকভাবে এসেছে বলেই, এখন তিনি সাধারণ সুইডিশ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করবেন।
গত চার বছর ধরে ক্রিস্টারসন উগ্র ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের সমর্থনে সরকার পরিচালনা করেছেন। এবারের নির্বাচনে যদি ডানপন্থী চার দল জয়ী হয়, তবে প্রথমবারের মতো ওই অভিবাসনবিরোধী দলের সরকারে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন।
ভোটকেন্দ্রগুলো স্থানীয় সময় রাত ৮টায় বন্ধ হবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জরিপ প্রকাশ করা হবে। তার পর প্রথম নির্ভরযোগ্য ফলাফল কয়েক ঘণ্টা পর পাওয়া যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ২০২২ সালের একটি মারামারি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত থাকা এনামুল শেখ (৩২)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বানা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার আরাজি রুদ্রবানা থেকে এনামুল শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার এনামুল শেখ ওই এলাকার ইদ্রিস শেখের ছেলে।
আলফাডাঙ্গা থানার এএসআই মো. জাকির হোসাইন বলেন, ২০২২ সালের একটি মারামারি মামলায় এনামুল শেখের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর থেকেই তিনি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ছিলেন।
আলফাডাঙ্গা থানার ওসি সোহেল সরোয়ার বলেন, একটি মারামারি মামলায় এনামুল শেখের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। শনিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ৪৪ বোতল মদ ও ২৮ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)।
আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ ভোর ৫টায় ৫৩ বিজিবি’র অধীনস্থ ফতেপুর বিওপির একটি বিশেষ টহলদল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানাধীন পাকা ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জব্দকৃত ৪৪ বোতল ভারতীয় মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৬,০০০ টাকা এবং ২৮ বোতল ফেন্সিডিলের মূল্য ১১,২০০ টাকা; যার মোট মূল্য ৭৭,২০০ (সাতাত্তর হাজার দুইশত) টাকা। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ইতোমধ্যে শিবগঞ্জ থানায় জমা করা হয়েছে।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ৫৩ বিজিবি কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে এ পর্যন্ত ভারতীয় ১৮৮ বোতল নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ, ৪৯ বোতল নেশাজাতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ, ২৮ বোতল ফেন্সিডিল এবং ৬৫ বোতল মদ জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সবসময় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযানের নামে প্রায় ৪০ ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে।অভিযোগের পর তাঁকে সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেস থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ। অভিযুক্ত কনস্টেবল জাকির হোসেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মরা পাগলা নদীর কালীনগর ব্রিজের পাশে এ ঘটনা ঘটে। রাজশাহীর এক ব্যবসায়ী নিঝুম তাঁর ব্যবসায়িক অর্ডারের বিপরীতে প্রায় ৪০ ভরি গলিত স্বর্ণ চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর কাছে পাঠান। স্বর্ণের চালানটি রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে আসেন নিঝুমের দুলাভাই মোহাম্মদ আলী। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিঝুমের অভিযোগ, মোহাম্মদ আলী স্বর্ণের চালানটি ব্যবসায়ীর কাছে হস্তান্তরের পরপরই পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেন সাদাপোশাকে সেখানে উপস্থিত হন। পরে পুলিশ পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে স্বর্ণগুলো নিয়ে চলে যান। তাঁর দাবি, মোহাম্মদ আলী ও তাঁর ছেলে নয়ন কনস্টেবল জাকিরকে ব্যবহার করে স্বর্ণগুলো আত্মসাৎ করেছেন।
ঘটনার পর নিঝুম বিষয়টি জানতে পেরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে কালীনগর ব্রিজ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেন। ফুটেজে ঘটনার কিছুক্ষণ আগে কনস্টেবল জাকিরকে মোটরসাইকেলে করে আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে কালীনগর ব্রিজের দিকে যেতে দেখা যায় বলে তিনি দাবি করেন। এদিকে জাকির হোসেন কালীনগর ব্রিজ এলাকায় যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও স্বর্ণ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, নিঝুম কারণ ছাড়াই তাঁকে ঘটনায় জড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁদের নিজেদের এবং মীমাংসার জন্য বসার কথা ছিল। তবে জাকিরের সঙ্গে মোহাম্মদ আলী ও তাঁর ছেলে নয়নের ঘন ঘন মোবাইল ফোনে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার আগে-পরে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার ফোনালাপ হয়েছে। এমনকি ঘটনার দিন স্বর্ণের চালান নিয়ে মোহাম্মদ আলী কালীনগর ব্রিজ এলাকায় অবস্থান করার সময় জাকিরও ওই এলাকায় ছিলেন বলে ফোনকলের লোকেশন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এসময় তাঁদের মধ্যেএকাধিকবার ফোনে কথোপকথনও হয়।
তবে এসব ফোনালাপের সঙ্গে স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর কনস্টেবল জাকির এক মাসের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান। ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিলে তাঁকে সদর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাতকে অভিযোগটি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেছেন। আগামী ১০ দিনের মধ্যে পুলিশ সুপারের কাছে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাত বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কনস্টেবল জাকিরকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ