রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৯ এম
ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব প্রদান করে সারা দেশে লিফলেট বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রেডিও ও টেলিভিশনে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক কর্মসূচি বারবার প্রচারিত হবে বলে নেতৃত্বের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আজ রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের বৈঠকের তথ্য প্রকাশ করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
এ সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। এই সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের সঠিক বাস্তবায়নের ওপর আলোচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে মশারি প্রদান করা হবে। এটি একটি উদ্যোগ যা প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং ডেঙ্গু সংক্রমণের বিরুদ্ধে মানুষের রক্ষার্থে নিয়েছেন। সভায় অন্যান্য উদ্যোগ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
রুহুল কবির রিজভী জানালেন, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গার্লস গাইড, স্কাউটসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা এবং শিক্ষার্থীরা সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করার কাজ করবে।
তিনি বলেন, বিএনপি ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ঢাকাসহ পুরো দেশে একটি প্রচারপত্র বিতরণ করবে। দেশের স্বনামধন্য চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এই প্রচারপত্র প্রস্তুত করা হবে।
তিনি আরো বলেন, সামাজিক গণমাধ্যম, রেডিও ও টেলিভিশনে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান বারবার প্রচার করা হবে এবং দলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
রুহুল বলেন, ডেঙ্গু সচেতনতায় বিএনপি এবং সরকার যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সেগুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবগত করা হবে। এছাড়া, ডেঙ্গু প্রতিরোধে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সেগুলোও জনগণের কাছে প্রচার করা হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরো বলেন, স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ ও হাটবাজারে আবর্জনা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নিশ্চিত করা হবে।
এতে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে আবর্জনা ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে দল থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, যেসব দলীয় পদ শূন্য রয়েছে, সেগুলো পূরণের জন্য পর্যায়ক্রমে পরিচালনার কথা হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, কাউন্সিলের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনেক নেতা মারা গেছেন এবং সেসব শূন্য পদে কাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে তা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।
রুহুল কবির রিজভী জানালেন, দলের সাবেক মহাসচিব এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আসন শূন্য ঘোষিত হওয়ায় আগামী ২৯ অক্টোবর সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণের তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর দলের পল্টন কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে এবং ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে।
রুহুল কবির রিজভী বলেছিলেন, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় স্থায়ী কমিটি তথা দলের মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করছেন। আজও তিনি তিনটি জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং নির্দেশনা প্রদান করেন।
রুহুল কবির রিজভী আরো জানান, বর্তমানে দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হবে না। দলের প্রতীকে নির্বাচন হবে না। দল কোনো একজন ব্যক্তিকে সমর্থন করতে পারে। ইউপি চেয়ারম্যান পদে দল যাকে সমর্থন করবে, সকলের উচিত তার পক্ষে গিয়ে কথা বলা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বারবার সবাইকে নির্দেশনা দিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন একটি ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের আচমকা ঝোড়ো গতির অভিযান। ইয়েমেনের উপকূল ধরে হুতি যোদ্ধাদের দক্ষিণমুখী এই অগ্রাভিযান কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাবেল মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসছে তাদের হাতের নাগালে।
এই কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গভীর অস্বস্তিতে পড়েছে। লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবেও পরিচিত এই সংকীর্ণ জলপথটি হুতির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি সংঘাতের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানি লোহিত সাগরের বন্দরগুলোর ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এখন হুতির ইয়েমেন এবং আফ্রিকার মধ্যবর্তী বাবেল মান্দেব প্রণালির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পেরিম দ্বীপে পৌঁছে যাওয়ার ফলে রিয়াদের সেই বিকল্প জ্বালানি রুটও চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতোমধ্যেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আর এখন বাবেল মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি তেহরানকে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান জ্বালানি করিডোরের ওপর বাড়তি কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে।
এই সংকট তখন ধীরে ধীরে ঘনীভূত হচ্ছে যখন মার্কিন রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ কঠিন সময় কাটাচ্ছেন। রেকর্ড পরিমাণ নিম্নমুখী জনসমর্থন এবং আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনে নিজের দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে এই সংঘাত ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এখন, এই পরিস্থিতিতে, গত বৃহস্পতিবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলে হুতিদের দমনে সরাসরি সামরিক সহায়তা চেয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন এই মুহূর্তে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াবে না, তবে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি বাবেল মান্দেব প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তা বৈশ্বিক পেট্রোলিয়াম সরবরাহের প্রায় সাত শতাংশ এবং মোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এপ্রিল শতাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সামনে এখন অত্যন্ত কঠিন বিকল্প রয়েছে, হয় মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সরাসরি মাঠে নামিয়ে হুতিদের প্রতিহত করা, নয়তো সৌদি আরব ও আঞ্চলিক মিত্রদের এই ভয়াবহ লড়াইয়ে একা ছেড়ে দেওয়া।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রতিদিনের রান্নায় ব্যবহৃত সবজিগুলোর মধ্যে আলু অন্যতম। তাই অনেকেই একসঙ্গে বেশ কিছু আলু কিনে সংরক্ষণ করে থাকেন। তবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হলে আলুতে দ্রুত অঙ্কুর গজাতে পারে, আবার পচেও যেতে পারে। কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে আলু দীর্ঘদিন সতেজ এবং ভালো রাখা সম্ভব।
আলু সংরক্ষণের জন্য ঠান্ডা, শুষ্ক এবং আলো কম এমন জায়গা সবচেয়ে উপযোগী। অতিরিক্ত তাপ, আর্দ্রতা ও উজ্জ্বল আলো আলুতে অঙ্কুর গজানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করে দিতে পারে। তাই সংরক্ষণের জায়গা নির্বাচনের সময় এসব বিষয়গুলি মাথায় রাখা জরুরি।
আলুর পাশে পেঁয়াজ বা রসুন রাখা উচিত নয়। পেঁয়াজে থাকা আর্দ্রতা এবং পেঁয়াজ-রসুন থেকে নির্গত কিছু গ্যাস আলুতে অঙ্কুরোদগমের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে পারে। তাই এই সবজিগুলো আলাদা জায়গায় রাখা ভালো।
বাজার থেকে আনার পর আলু প্লাস্টিকের ব্যাগে রেখে দেওয়া ঠিক নয়। এতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে না এবং ব্যাগের ভেতরে আর্দ্রতা জমে যায়। ফলে আলু দ্রুত পচে যেতে পারে কিংবা অঙ্কুর গজাতে পারে। এর পরিবর্তে পাট বা সুতির ব্যাগ কিংবা বাতাস চলাচল করতে পারে এমন জালের ঝুড়ি ব্যবহার করা যেতে পারে।
আলু রাখার জন্য কাগজের ব্যাগও কার্যকর। কাগজ আলো থেকে আলুকে আড়াল করার পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্দ্রতাও শোষণ করতে পারে। ফলে আলু সংরক্ষণের জন্য তুলনামূলকভাবে উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয় এবং তা দীর্ঘসময় ভালো থাকে।
চুলা, ওভেন বা অন্য কোনো তাপের উৎসের পাশে আলু রাখা উচিত নয়। রান্নাঘরের তাপমাত্রা সাধারণত বাড়ির অন্যান্য জায়গার তুলনায় বেশি থাকে, যা আলু দ্রুত নষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারে। তাই আলুর জন্য অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা, শুষ্ক এবং বাতাস চলাচল করে এমন জায়গা বেছে নিতে হবে।
সংরক্ষণ করা আলুগুলো কিছু দিন পরপর পরীক্ষা করা উচিত। যদি কোনো আলুতে পচন বা অঙ্কুর গজানোর লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে সেটি দ্রুত আলাদা করে ফেলুন। কারণ একটি নষ্ট আলু আশপাশের অন্যান্য আলুগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সঠিকভাবে আলু সংরক্ষণ করলে শুধু দীর্ঘদিন সতেজ এবং শক্ত রাখা যায় না, একই সঙ্গে খাবারের অপচয়ও কমানো সম্ভব। তাই আলু কেনার পর সংরক্ষণের পদ্ধতির দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটার জো রুট রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়েই চলেছেন। নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি, যেটি পাকিস্তানের বিপক্ষে বার্মিংহ্যাম টেস্টে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংস খেলার মাধ্যমে হয়েছে। রুট এই ইনিংসের মাধ্যমে ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকারকে পেছনে ফেলে এবার টেস্টে সবচেয়ে বেশি অর্ধশতকের মালিক হয়েছেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজের শেষ টেস্টে রুট ইংল্যান্ডের ৮ উইকেটের জয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ৬৯ বল মোকাবিলা করে ৬২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তার এই ইনিংস একদিকে দলের জয়কে নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে রেকর্ড বইয়ে নতুন একটি অধ্যায় যোগ করেছে।
বার্মিংহ্যাম টেস্টে অর্ধশতক তুলে নেয়ার পর রুটের টেস্টে ৫০ বা তার বেশি রানের ইনিংসের সংখ্যা ৬৯টিতে পৌঁছেছে। এর আগে ৬৮টি অর্ধশতকের রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। ৩৫ বছর বয়সী রুট এবার ভারতীয় কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে এলেন।
টেস্টে সবচেয়ে বেশি অর্ধশতকের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা শিবনারায়ণ চন্দরপল, যিনি ৬৬টি অর্ধশতক করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার অ্যালান বোর্ডার এবং ভারতের রাহুল দ্রাবিড়ের রয়েছে যথাক্রমে ৬৩টি করে অর্ধশতক।
তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া সিরিজটি রুটের জন্য ব্যাট হাতে খুব উজ্জ্বল ছিল না। পাঁচ ইনিংসে তার সংগ্রহ ছিল মাত্র ১৬৪ রান, যেখানে তিনি কোনো শতক পাননি এবং দুইবার এক অঙ্কের রানেই ফিরে যেতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে, বার্মিংহ্যামে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংসটি রুটের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছে।
অর্ধশতকের রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার পর রুট শচীনের আরেকটি বড় রেকর্ডের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছেন। তার সামনে সুযোগ রয়েছে টেস্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় শচীনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার।
শচীন টেন্ডুলকার ৩২৯ ইনিংসে ১৫ হাজার ২৯১ রান করেছেন। অপরদিকে, রুট এখন পর্যন্ত ৩০৯ ইনিংসে ১৪ হাজার ২৭৮ রান সংগ্রহ করেছেন। এর মানে, শচীনের টেস্ট রানসংখ্যা ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হতে রুটের প্রয়োজন ১ হাজার ১৪ রান।
বর্তমান ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে, টেস্ট ক্রিকেটের রান সংগ্রাহকের তালিকাতেও শচীনকে পিছনে ফেলায় সম্ভাবনা রয়েছে ইংল্যান্ডের এই ব্যাটারের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন জ্বালানি সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে লোডশেডিংও দিন দিন তীব্র হচ্ছে। বর্তমানে গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির প্রায় সকল বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহের স্বল্পতায় ভুগছে। অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণে থাকা কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রও এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তাই সব মিলিয়ে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন অবস্থান নিম্নমুখী। বর্তমানে দেশ বিদ্যুতের মোট ২৯ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা থাকার পরও অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। এই অবস্থা বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ কমানোর ফলে তৈরি হয়েছে, যেখানে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বৃদ্ধি করা হলে খরচ বেড়ে যাবে। কিন্তু তারপরও তেলচালিত কেন্দ্রগুলোকে বেশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে ৬ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। তবে বেশিরভাগ তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে জ্বালানি তেলের সরবরাহে স্বল্পতা দেখা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য পাওয়া যায়।
একটি সূত্র অনুযায়ী, দেশে মোট ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ৬৪টি, বেসরকারি ৭০টি এবং ভারত ও চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। এর মধ্যে ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। আর বাকিগুলো সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন করেছে। তাছাড়া দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিটেও উৎপাদন বন্ধ ছিল। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। তবে চাইলেও তেলচালিত কেন্দ্র থেকে সবসময় উৎপাদন করা সম্ভব নয়। কারণ মাঝে মাঝে বিরতির কারণে অর্ধেক পর্যন্ত সক্ষমতা ব্যবহার করা যায়। ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূত্র জানায়, ২০২০-২০২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে বেসরকারি তেলচালিত কেন্দ্রগুলোর ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বকেয়া বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন কমানো হয়েছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া ও পিডিবির বিরোধগুলো নিষ্পত্তি করা গেলে তেলচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হতে পারে। জ্বালানি সঙ্কট দূরীকরণে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এলএনজি কেনা, অযোগ্য জাহাজে এলএনজি আমদানি এবং চীনের অনভিজ্ঞ কোম্পানির সঙ্গে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগের মধ্যে সংকট কাটানোর লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। পরিস্থিতির উন্নয়নে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা এবং চুরি বন্ধ হবে না; সংকটও কাটবে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার মেগাওয়াটের একটু বেশি। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা পাচ্ছে না। দেশে ৮টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট; কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ৫ হাজার মেগাওয়াটেরও কম। মূলত কারিগরি ত্রুটির কারণে পটুয়াখালীর পায়রা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া বড়পুকুরিয়া কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটেও কারিগরি ত্রুটি রয়েছে। ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা দেড় হাজার মেগাওয়াট; কিন্তু কয়লা সরবরাহের চাপের কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র।
সূত্রে আরো জানা যায়, দেশের গ্রামের পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি সমিতি বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এছাড়া কিছু এলাকায় পিডিবি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানকে একই এলাকায় একাধিকবার লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বর্তমানে দেশে দিনে ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন নিয়মিত কমছে। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছে। এলএনজি সরবরাহেও कमी এসেছে। বর্তমানে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। তবে গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেলে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায় এবং সঙ্কট বাড়তে থাকে। যদিও ১৫ আগস্ট এক্সিলারেটের টার্মিনাল গ্যাস সরবরাহের জন্য উপযোগী হলেও নির্ধারিত সময়ে এলএনজির কার্গো আসায় সরবরাহ বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না। বরং গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এর ফলে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমার পাশাপাশি শিল্পে উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া রান্না ও পরিবহনে গ্যাসের ভোগান্তি বেড়ে গেছে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশের দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ভারতের আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের সরবরাহ না বাড়ালে চাইলেও তেলচালিত কেন্দ্র থেকে সবসময় উৎপাদন করা যাচ্ছে না। বরং মাঝে মাঝে বিরতির কারণে অর্ধেক সক্ষমতা ব্যবহার করা যায়। যা বিদ্যুৎ ঘাটতির পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম এ প্রসঙ্গে জানান, তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এলএনজি কেনা, অযোগ্য জাহাজে এলএনজি আমদানি এবং চীনের অনভিজ্ঞ কোম্পানির সঙ্গে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ উদ্যোগের মধ্যে সংকট উত্তরণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এজন্য কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, চুরি বন্ধ হবে না; সংকটও কাটবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ