রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৫৯ এম
লালনসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীন আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছেন।
আজ (১৩ সেপ্টেম্বর) লালনসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী ও লালনসম্রাজ্ঞীখ্যাত ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন এবং গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর এক বছর পরও তার কণ্ঠের গান, সংগীতসাধনা ও লালনের দর্শনের প্রতি তার নিবেদন শ্রোতাদের মনে অমলিন হয়ে আছে।
ফরিদা পারভীন কেবল একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি লালনগীতি ও বাঙালির লোকজ দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রচারক হিসেবেও কাজ করেছেন। তার কণ্ঠে লালন সাঁইয়ের গান দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যায়। লালনের মানবতাবাদ, জীবনবোধ ও দর্শন সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে ফরিদা পারভীনের ভূমিকা ছিল অনেকটাই অনন্য।
ফরিদা পারভীন ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানার শাওল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার শৈশব ও বেড়ে ওঠা কুষ্টিয়ার পরিবেশে। তিনি ছোটবেলায় মাগুরায় ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে গানে তার হাতেখড়ি নেন।
১৯৬৮ সালে তিনি রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নজরুলসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সংগীতজীবন শুরু করেন। ১৯৭৩ সালের দিকে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে সাধক মোকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে লালনসংগীতে তালিম নিতে শুরু করেন। এরপর তিনি খোদা বক্স সাঁই, ব্রজেন দাস, বেহাল সাঁই, ইয়াছিন সাঁই ও করিম সাঁইয়ের কাছ থেকেও তালিম নেন।
লালনের বাণী ও সুর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ফরিদা পারভীনের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। তার গাওয়া লালনের গান দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। গানের টানে তিনি বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে ছুটে বেড়িয়েছেন।
সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান। ১৯৯৩ সালে অন্ধ প্রেম চলচ্চিত্রের নিন্দার কাঁটা গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা গায়িকার সম্মান অর্জন করে। এছাড়া, তিনি ২০০৮ সালে জাপান সরকারের ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার পুরস্কারও লাভ করেন।
ফরিদা পারভীন কেবল গান গাইতেন না, বরং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে লোকসংগীত ও লালনগীতি ছড়িয়ে দেওয়ার কাজেও যুক্ত ছিলেন। প্রায় ১৭ বছর আগে প্রখ্যাত বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিমের সঙ্গে মিলে ঢাকার তেজগাঁওয়ে ‘অচিন পাখি সংগীত একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে লোকগান, নজরুলসংগীত, আধুনিক ও শাস্ত্রীয় সংগীতের পাশাপাশি ছবি আঁকা, গিটার ও তবলা শেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী সংগীতের তালিম নিচ্ছেন। তিন বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা—বিভিন্ন বয়সের মানুষ রয়েছেন তাদের মধ্যে। ফরিদা পারভীনের মৃত্যুর এক বছর পরও তার প্রতিষ্ঠিত সংগীত একাডেমিতে চলছে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি একাই পরিচালনা করছেন গাজী আবদুল হাকিম।
ফরিদা পারভীনের স্মৃতি কথা বলতে গিয়ে তিনি গণমাধ্যমকে উল্লেখ করেছেন যে, তার শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তবে, ফরিদা পারভীনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। বাংলা লোকগান পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার যে স্বপ্ন ফরিদা পারভীন দেখেছিলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ফরিদা পারভীনের সঙ্গে পাঁচ দশকের বেশি সময়ের সম্পর্ক ছিল বরেণ্য সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমানের। তাদের সম্পর্ক ছিল বড়ো বোন ও ছোটো বোনের মতো। প্রিয় শিল্পীকে স্মরণ করে ফেরদৌসী রহমান গণমাধ্যমকে জানান, অন্যরা অনেক সময় মুখ দিয়ে গান গাইলেও, ফরিদা পারভীনের গান শুনলে মনে হত তিনি একেবারে ভেতর থেকে গাইছেন। গানের প্রতিটি কথা ও সারমর্ম উপলব্ধি করে তিনি গান গাইতেন।
ফেরদৌসী রহমান আরও জানান, ফরিদা পারভীনের গান যেমন সহজ-সরল ও মিষ্টি ছিল, তার জীবনও ছিল তেমনই সহজ-সরল। তার মধ্যে কোনো জটিলতা দেখেননি তিনি।
ফরিদা পারভীনের সন্তানদের ইচ্ছা ছিল, মাকে কুষ্টিয়া পৌর শহরে তার মা-বাবার কবরের পাশে সমাহিত করার। শেষ পর্যন্ত সেই ইচ্ছাই পূরণ হয়েছে। কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ফরিদা পারভীনকে স্মরণ করে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সংগীত প্রতিষ্ঠান নানা আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ বেতারে আজ (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রচার হবে তাকে নিয়ে এক ঘণ্টার বিশেষ অনুষ্ঠান। সেখানে তার গান পরিবেশন করবেন নাসরিন আক্তার বিউটি ও সাজিয়া সুলতানা পুতুল। বাঁশি বাজাবেন গাজী আবদুল হাকিম।
এছাড়া, আজ (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় অচিন পাখি সংগীত একাডেমিতেও স্মরণ আয়োজন থাকবে। সেখানে একাডেমির কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা ফরিদা পারভীনের জীবন এবং সংগীতে তার অবদান নিয়ে আলোচনা করবেন।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের একটি মিলনায়তনে ফরিদা পারভীনের গান ও জীবন নিয়ে আরও একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, বলছেন গাজী আবদুল হাকিম।
এক বছর ধরে ফরিদা পারভীনের কণ্ঠে নতুন কোনো গান শোনা যায়নি। তবে, তার গাওয়া গান, শেখানো সুর, লালনের বাণী এবং সংগীতসাধনার উত্তরাধিকার এখনও বয়ে চলেছেন তার শিক্ষার্থীরা। গানে ও সাধনায় রেখে যাওয়া এই উত্তরাধিকারই বাঁচিয়ে রাখছে লালনসম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীনের স্মৃতি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জয়রামপুর রেলস্টেশনে সাগরদাঁড়ি-কপোতাক্ষ ট্রেনের আপ-ডাউন স্টপেজসহ বিভিন্ন দাবিতে রেলপথ অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার সময় জয়রামপুর রেলস্টেশনে রেলপথ অবরোধ করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। দামুড়হুদা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে প্রায় ২০ মিনিট থামিয়ে রেলপথ অবরোধকারীরা ৮ দাবি পেশ করেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা রেল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে রেলপথ অবমুক্ত করে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।
৮ দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনে সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের আন্তঃনগর বিরতি। স্টেশন মাস্টারসহ স্টেশনের প্রয়োজনীয় লোকবল পুনর্বহাল করতে হবে। লুপ লাইন চালু এবং টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করা। স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম আধুনিকীকরণ, অবকাঠামোগত সংস্কার ও উন্নয়ন করা। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত স্টেশনের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত হওয়ায় একই নকশায় নতুন করে হলঘর নির্মাণ করা। পোড়াদহ-গোয়ালন্দঘাট রুটে চলাচলকারী শাটল ট্রেনটি দর্শনা পর্যন্ত বর্ধিত করতে হবে এবং লোকাল ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি লোকাল ট্রেনের বগি সংখ্যা বাড়ানো।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, রেল প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি এখানে এসেছি। ডিআরএম পাকশী এই আন্দোলনের প্রতিনিধিদেরকে আগামী সোমবার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। হয়তো পজিটিভ কিছু হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আক্তার সিদ্দিকী, স্থানীয় সিনিয়র নাগরিক পিয়ার আলী, সাবেক সেনা সদস্য লাজিব আক্তার সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম উপস্থিত হন।
তিনি মন্তব্য করেন, চাকরির পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে সরকার নিজেদের দলীয় লোক নিয়োগের এজেন্ডা হাতে নিয়েছে। নুরুল ইসলাম সাদ্দাম মন্তব্য করেন, যদি সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে বিরত না থাকে, তবে আবারও আন্দোলন শুরু করা হবে। তিনি বললেন, “শতভাগ মেধার ভিত্তিতেই দেশ গড়ে উঠবে এবং মেধার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করতে হবে।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় এসব কথা বলেন তিনি।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও বলেন, “পিএসসি সংস্কার করতে হবে, নির্বাচন কমিশন সংস্কার করতে হবে, মহা হিসাব নিরীক্ষকের ওই জায়গাটাও সংস্কার করতে হবে।” রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোগুলোকে সংস্কার করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পিএসসির গঠনমূলক সব সংস্কার করতে হবে। জুলাইয়ের অন্যতম দাবি ছিল সাংবিধানিক সব সংস্কার করা।”
তিনি বলেন, সংস্কারের জন্য সংবিধান সংস্কার কমিটিতে শপথ নিতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর শপথ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বললেন, “তবে তারা (বিএনপি) শপথ নেয়নি।” সেইসাথে তিনি উল্লেখ করলেন, “আপনারা মনে করছেন, তরুণ প্রজন্ম কিছুই বোঝে না, তারা এমনি এমনি জুলাই বিপ্লব করেছে। সরকারকে অনুরোধ জানাই, বর্তমান প্রজন্মকে দুর্বল মনে করবেন না, আমাদের মেধাকে নষ্ট করবেন না।” তিনি মন্তীব্য করেন, “বিশ্ববিদ্যালয় যে আন্দোলন করেছে, সেই আন্দোলনের কারণেই আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন।”
আরও পড়ার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসন সংকট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “এলাকা এলাকার রাস্তাঘাটে বিশ্ববিদ্যালয় বানানো হচ্ছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের শতভাগ থাকার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে না।”
তিনি বলেন, “যে বিশ্ববিদ্যালয় তার ছাত্রদের থাকার জায়গা দিতে পারে না, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের থাকার নৈতিক কোনো অধিকার নেই।”
শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট প্রসঙ্গে বলেন, “শিক্ষার্থীরা এত কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় তাদের থাকার সিটের ব্যবস্থা করতে পারে না।” রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়তো ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী থাকতে পারে, আর ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী বাইরে থাকে। এই ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর থাকার বন্দোবস্ত বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারেনি।
তিনি বলেন, “পিএসসিতে হাজার হাজার কোটি টাকা বাজেট দেওয়া হয়, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয় না।” শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করতে শেখা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে বলতে হবে, “আগামী দুই বছরের মধ্যে শতভাগ আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।”
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “শিক্ষার্থীরা জুলাইয়ের পরে এসে সব গণরুম ভেঙে দিয়ে চুরমার করে ফেলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুম ভেঙে দিয়ে ছোট ছোট সিট করে দেওয়া হয়েছে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এখন মেধার ভিত্তিতে সিট পাচ্ছে।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে প্রায় চার হাজার নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের আলোচিত ইসলামি বক্তা জাকির নায়েকের প্রত্যর্পণ সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই বিষয়টি সম্পর্কে আলোচনা হয়, যা ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ের আলোচনায় স্বাভাবিকভাবেই সেসব স্পর্শকাতর বিষয় উঠে আসে। দুই দেশের স্বার্থ এবং সম্পর্কের ব্যবস্থাপনার জন্য এই বিষয়টির গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রয়োজন। তবে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার তালিকায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জাকির নায়েকের প্রত্যর্পণের সম্ভাবনা নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে তার দেশকে আইনের শাসন বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, ভারত সরকারের প্রত্যর্পণের দাবির প্রেক্ষাপট তারা উপলব্ধি করছেন। তবে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনকে সম্মান জানিয়ে এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব বজায় রেখে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে।
ভারতের সরকার ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে জাকির নায়েককে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়ে রেখেছে। তবে মালয়েশিয়ার অবস্থান হলো, যদি নির্দিষ্ট এবং গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়, তাহলে প্রচলিত আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
এদিকে উল্লেখ্য, এর আগে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ ১৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক চকলেট দিবস। এই মিষ্টি স্বাদের খাবারকে কেন্দ্র করে সারা বিশ্ব জুড়ে নানা আয়োজন থাকে। দিনটি কেবল চকলেট খাওয়ার জন্য নয়, বরং এর ইতিহাস জানার, বিভিন্ন স্বাদের চকলেট চেখে দেখার এবং প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
চকলেটের প্রতি ভালোবাসা না থান মানুষের সংখ্যা অনেকটাই কম। দুধ চকলেট, গাঢ় চকলেট কিংবা বিভিন্ন স্বাদের মিষ্টি চকলেট—পছন্দের ধরন ভিন্ন হলেও চকলেট আমাদের মধ্যে অনেকের কাছে বিশেষ এক আনন্দের খাবার হয়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক চকলেট দিবসে ঘরেই আয়োজন করা যেতে পারে একটি ছোট্ট চকলেট আসর। দুধ চকলেট, গাঢ় চকলেট এবং ভিন্ন মাত্রার কোকোযুক্ত চকলেটকে ছোট ছোট টুকরো করে সাজানো যেতে পারে।
প্রতিটি টুকরো খাওয়ার পর পানি বা সাদামাটা বিস্কুট নিয়ে খেলে স্বাদের পার্থক্য বোঝা সহজ হয়। কোন টুকরোটিতে ফলের মতো স্বাদ রয়েছে, কোনটিতে তেতো ভাব আছে অথবা কোনটিতে মিষ্টি ও মোলায়েম স্বাদ—এভাবে সবাই নিজের পছন্দের চকলেট বেছে নিতে পারবেন।
আজকের এই দিনে শিশুদের রান্নাঘরের সঙ্গে পরিচিত করার জন্য ভালো সময়। চকলেট, বাদামের মাখন ও ওটস দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় চকলেটের ছোট বল। গলানো চকলেটের সঙ্গে বাদামের মাখন ও ওটস মিশিয়ে ছোট ছোট বল বানিয়ে কিছুক্ষণ ঠান্ডা করে নিলেই তৈরি হয়। শিশুরা ওটস গোনা, মিশ্রণ নেড়ে দেওয়া কিংবা বলের ওপর নকশা করার মতো কাজগুলো করতে পারে। বড় শিশুরা উপকরণ মাপা ও সময় ঠিক রাখার দায়িত্ব নিতে পারে।
তবে যদি কারও জন্য কোনো খাবারে অ্যালার্জি বা বিশেষ খাদ্য সমস্যা থাকে, তাহলে উপকরণের তালিকা দেখে নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে আলাদা পাত্র ও রান্নার জায়গা ব্যবহার করা ভালো।
চকলেটের মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে নোনতা বাদামের মচমচে স্বাদও বেশ ভালোভাবে মিলে যায়। তাই চকলেটের পাশে অল্প নোনতা বাদাম রাখা যেতে পারে। কিন্তু যদি কোন কারণে বাদাম উপযোগী না হয়, তাহলে বাদামকে এড়িয়ে চলাই ভালো। বাড়তি চকলেটের মিষ্টি পরিচিতজন বা প্রতিবেশীর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। উপকরণের তালিকা লিখে দিলে তা সহায়ক হবে।
দিনের শেষে পরিবারের সবাই মিলে বসে কোনো প্রিয় গল্পের বই পড়া যেতে পারে। শিশুদের নিয়ে গল্পের চরিত্রগুলোর সংলাপ অভিনয় করে পড়লেও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হবে। গল্প পড়ার সময় শেষ চকলেটের টুকরোটি খাওয়ার জন্য রেখে দিতে পারেন। এতে রান্নাঘরের ব্যস্ততার পর দিনের শেষটিও হতে পারে শান্ত ও আনন্দময়।
চকলেট দিবসের শুরু যেভাবে হয়েছিল, তা অভিজ্ঞান অনুযায়ী কয়েক হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাস রয়েছে। দক্ষিণ মেক্সিকো অঞ্চলের প্রাচীন জনগণের মধ্যে কোকো বীজ থেকে পানীয় তৈরি করা হতো প্রায় চার হাজার বছর আগে। তখন চকলেট ছিল বিশেষ ও মূল্যবান খাবার। অন্যান্য সামাজিক ও ধর্মীয় আচারেও এর ব্যবহার ছিল।
মায়া ও আজটেকদের মধ্যে কোকো বীজের ব্যবহার আরও প্রসারিত হয়। কোনো এক সময় কোকো বীজ বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবেও ব্যবহৃত হতে থাকে। মায়ারা চকলেটকে দেবতাদের পানীয় হিসাবে দেখতো।
প্রায় ষোড়শ শতকে চকলেট ইউরোপে আসে। পরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চকলেটের দোকান জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। চকলেট তৈরির প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে তা সাধারণ মানুষের জন্যও সহজলভ্য হয়ে যায়।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে শেষভাগে ইউরোপে চকলেটের বার তৈরি ও বিক্রি শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে কেক, বিস্কুট, মিষ্টি, পানীয়সহ নানা খাবারে চকলেটের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে।
চকলেট কেবল মিষ্টান্ন তৈরিতেই ব্যবহৃত হয় না বরং কিছু রান্নায় গাঢ় চকলেট বা কোকোও ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন মাংসের খাবার, ঝোল, সালাদ ও অন্যান্য পদেও বিশেষ স্বাদ আনতে চকলেট ব্যবহার করা সম্ভব।
এছাড়া চকলেট দিয়ে কেক, ব্রাউনি, বিস্কুট, কাপকেক কিংবা চুলা ছাড়াই নানারকম খাবার তৈরি করা যায়।
আন্তর্জাতিক চকলেট দিবস তাই কেবল চকলেট খাওয়ার উপলক্ষ নয়। প্রিয় খাবারটির ইতিহাস জানা, নতুন স্বাদ চেখে দেখা, নিজের হাতে কিছু তৈরি করা এবং পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার একটি সুন্দর সুযোগ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ