প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
আজ ১৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক চকলেট দিবস। এই মিষ্টি স্বাদের খাবারকে কেন্দ্র করে সারা বিশ্ব জুড়ে নানা আয়োজন থাকে। দিনটি কেবল চকলেট খাওয়ার জন্য নয়, বরং এর ইতিহাস জানার, বিভিন্ন স্বাদের চকলেট চেখে দেখার এবং প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
চকলেটের প্রতি ভালোবাসা না থান মানুষের সংখ্যা অনেকটাই কম। দুধ চকলেট, গাঢ় চকলেট কিংবা বিভিন্ন স্বাদের মিষ্টি চকলেট—পছন্দের ধরন ভিন্ন হলেও চকলেট আমাদের মধ্যে অনেকের কাছে বিশেষ এক আনন্দের খাবার হয়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক চকলেট দিবসে ঘরেই আয়োজন করা যেতে পারে একটি ছোট্ট চকলেট আসর। দুধ চকলেট, গাঢ় চকলেট এবং ভিন্ন মাত্রার কোকোযুক্ত চকলেটকে ছোট ছোট টুকরো করে সাজানো যেতে পারে।
প্রতিটি টুকরো খাওয়ার পর পানি বা সাদামাটা বিস্কুট নিয়ে খেলে স্বাদের পার্থক্য বোঝা সহজ হয়। কোন টুকরোটিতে ফলের মতো স্বাদ রয়েছে, কোনটিতে তেতো ভাব আছে অথবা কোনটিতে মিষ্টি ও মোলায়েম স্বাদ—এভাবে সবাই নিজের পছন্দের চকলেট বেছে নিতে পারবেন।
আজকের এই দিনে শিশুদের রান্নাঘরের সঙ্গে পরিচিত করার জন্য ভালো সময়। চকলেট, বাদামের মাখন ও ওটস দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় চকলেটের ছোট বল। গলানো চকলেটের সঙ্গে বাদামের মাখন ও ওটস মিশিয়ে ছোট ছোট বল বানিয়ে কিছুক্ষণ ঠান্ডা করে নিলেই তৈরি হয়। শিশুরা ওটস গোনা, মিশ্রণ নেড়ে দেওয়া কিংবা বলের ওপর নকশা করার মতো কাজগুলো করতে পারে। বড় শিশুরা উপকরণ মাপা ও সময় ঠিক রাখার দায়িত্ব নিতে পারে।
তবে যদি কারও জন্য কোনো খাবারে অ্যালার্জি বা বিশেষ খাদ্য সমস্যা থাকে, তাহলে উপকরণের তালিকা দেখে নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে আলাদা পাত্র ও রান্নার জায়গা ব্যবহার করা ভালো।
চকলেটের মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে নোনতা বাদামের মচমচে স্বাদও বেশ ভালোভাবে মিলে যায়। তাই চকলেটের পাশে অল্প নোনতা বাদাম রাখা যেতে পারে। কিন্তু যদি কোন কারণে বাদাম উপযোগী না হয়, তাহলে বাদামকে এড়িয়ে চলাই ভালো। বাড়তি চকলেটের মিষ্টি পরিচিতজন বা প্রতিবেশীর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। উপকরণের তালিকা লিখে দিলে তা সহায়ক হবে।
দিনের শেষে পরিবারের সবাই মিলে বসে কোনো প্রিয় গল্পের বই পড়া যেতে পারে। শিশুদের নিয়ে গল্পের চরিত্রগুলোর সংলাপ অভিনয় করে পড়লেও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হবে। গল্প পড়ার সময় শেষ চকলেটের টুকরোটি খাওয়ার জন্য রেখে দিতে পারেন। এতে রান্নাঘরের ব্যস্ততার পর দিনের শেষটিও হতে পারে শান্ত ও আনন্দময়।
চকলেট দিবসের শুরু যেভাবে হয়েছিল, তা অভিজ্ঞান অনুযায়ী কয়েক হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাস রয়েছে। দক্ষিণ মেক্সিকো অঞ্চলের প্রাচীন জনগণের মধ্যে কোকো বীজ থেকে পানীয় তৈরি করা হতো প্রায় চার হাজার বছর আগে। তখন চকলেট ছিল বিশেষ ও মূল্যবান খাবার। অন্যান্য সামাজিক ও ধর্মীয় আচারেও এর ব্যবহার ছিল।
মায়া ও আজটেকদের মধ্যে কোকো বীজের ব্যবহার আরও প্রসারিত হয়। কোনো এক সময় কোকো বীজ বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবেও ব্যবহৃত হতে থাকে। মায়ারা চকলেটকে দেবতাদের পানীয় হিসাবে দেখতো।
প্রায় ষোড়শ শতকে চকলেট ইউরোপে আসে। পরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চকলেটের দোকান জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। চকলেট তৈরির প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে তা সাধারণ মানুষের জন্যও সহজলভ্য হয়ে যায়।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে শেষভাগে ইউরোপে চকলেটের বার তৈরি ও বিক্রি শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে কেক, বিস্কুট, মিষ্টি, পানীয়সহ নানা খাবারে চকলেটের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে।
চকলেট কেবল মিষ্টান্ন তৈরিতেই ব্যবহৃত হয় না বরং কিছু রান্নায় গাঢ় চকলেট বা কোকোও ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন মাংসের খাবার, ঝোল, সালাদ ও অন্যান্য পদেও বিশেষ স্বাদ আনতে চকলেট ব্যবহার করা সম্ভব।
এছাড়া চকলেট দিয়ে কেক, ব্রাউনি, বিস্কুট, কাপকেক কিংবা চুলা ছাড়াই নানারকম খাবার তৈরি করা যায়।
আন্তর্জাতিক চকলেট দিবস তাই কেবল চকলেট খাওয়ার উপলক্ষ নয়। প্রিয় খাবারটির ইতিহাস জানা, নতুন স্বাদ চেখে দেখা, নিজের হাতে কিছু তৈরি করা এবং পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার একটি সুন্দর সুযোগ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন