ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জামিনে বেরিয়ে একই বিরোধে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আলফাডাঙ্গায় ভাতিজার পর আড়াই মাস পর চাচাকে খুন


জামিনে বেরিয়ে একই বিরোধে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আলফাডাঙ্গায় ভাতিজার পর আড়াই মাস পর চাচাকে খুন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে ভাতিজা হত্যার আড়াই মাসের মাথায় রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে রবি (৫৫) নামে এক চাচাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তিনি কাশিয়ানী সদর বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন। এ ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও তিনজন আহত হয়েছেন। নিহত রবি গত ২৬ জুন একই গ্রামের যে যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, সেই সুমন শেখের চাচা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রবি আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে।

হামলায় আহতরা হলেন—মোক্তার বিশ্বাস (৫৫), হৃদয় শেখ (২১) ও লিটন খান (৪০)। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে মোক্তার বিশ্বাস ও হৃদয় শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে মাঠে গড়াল ৫৩তম জাতীয় স্কুল-মাদ্রাসা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে কাশিয়ানী সদর বাজারের চায়ের দোকান বন্ধ করে রবি একই এলাকার আরও তিনজনের সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। তাঁরা কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র লোক তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ।

এ সময় হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের ওপর আঘাত করে। এতে রবি গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। হামলায় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও তিনজন আহত হন।

এর আগে চলতি বছরের ২৬ জুন সন্ধ্যায় একই ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া গ্রামের উকিল শেখের বাড়ির সামনে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় সুমন শেখ (২৪) নামে এক কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সুমন ছিলেন আলাউদ্দিন শেখের ছেলে এবং কাশিয়ানী এম.এ. খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। এ হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গ্রাম্য বিরোধ চলে আসছে। প্রায় চার বছর ধরে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা ও মামলা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুমনকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: ভাঙ্গায় বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে এশিয়ান টিভির সাংবাদিক নিহত

সুমন হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর সম্প্রতি জামিনে বের হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। তাঁদের জামিনে বের হওয়ার পর এলাকায় ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। এর মধ্যেই এবার সুমনের চাচা রবিউল ইসলাম রবি হত্যার শিকার হলেন।

তবে জামিনে থাকা ব্যক্তিদের কেউ রবিউল হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সুমন হত্যার পরও দুই পক্ষের বিরোধ ও উত্তেজনা থামেনি। বরং এলাকায় পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। এর মধ্যে রবিউল হত্যার ঘটনায় বড়ভাগসহ আশপাশের এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সুমন হত্যার পর থেকেই তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। তাঁদের দাবি, আগের হত্যাকাণ্ডের জের অব্যাহত থাকায় শেষ পর্যন্ত সুমনের চাচা রবিউল ইসলামকেও প্রাণ দিতে হলো।

আরও পড়ুন: ঢালচর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে আলোচনার শীর্ষে শাহে আলম ফরাজি

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা সার্কেল) মাসুদুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার কারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে, আড়াই মাসের ব্যবধানে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে চাচা-ভাতিজা দুজন নিহত হওয়ায় বড়ভাগ গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পোরশায় ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায় ও মামলা দেওয়ার হুমকি,ক্ষোভ গ্রাহকদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১০ এম


পোরশায় ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায় ও মামলা দেওয়ার হুমকি,ক্ষোভ গ্রাহকদের

নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের বড় বাগান এলাকায় ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও বিভিন্ন ধরনের চার্জ আরোপের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ট্রান্সফরমারটি বিদ্যুৎ অফিসের ব্যবস্থাপনায় সংযুক্ত করা হয়েছিল। সম্প্রতি ওই ট্রান্সফরমারটি পুড়ে যাওয়ার পর নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়। এরপর থেকেই বিদ্যুৎ বিলের কাগজে বিভিন্ন গ্রাহকের নামে বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত করে বিল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।গ্রাহকদের দাবি, বিগত সময়ে তারা প্রতি মাসে ৬০০, ৭০০, ৯০০ কিংবা সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছিলেন। কিন্তু নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের পর কোনো কোনো গ্রাহকের নামে ৩ হাজার, ৪ হাজার, ৬ হাজার এমনকি ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।গ্রাহকদের ভাষ্য, ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ার কারণে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। এটি বিদ্যুৎ অফিসের ব্যবস্থাপনার বিষয় হলেও এখন সেই কারণে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের পর থেকেই বিলের কাগজে বিভিন্ন গ্রাহকের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত চার্জ দেখা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।এ বিষয়ে কয়েকজন গ্রাহক বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের বলেন বলে দাবি করেছেন, “আপনারা নতুন ট্রান্সফরমার লাগিয়েছেন, এ কারণে আপনাদের এই চার্জ দিতে হবে। আর এই টাকা পরিশোধ না করলে আপনাদের নামে মামলা হবে।গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এমন বক্তব্য শোনার পর থেকেই তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—আগে যেখানে একই ধরনের বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মাসে ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল আসত, সেখানে হঠাৎ করে কয়েক হাজার টাকা বিল আসার কারণ কী?গ্রাহকদের আরও দাবি, অতিরিক্ত বিলের টাকা পরিশোধ করার পর পরবর্তীতে সেই অর্থ সমন্বয় বা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও তা দীর্ঘ সময় পরে ফেরত দেওয়া হতে পারে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের আর্থিক ভোগান্তিতে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।স্থানীয় গ্রাহকরা বিষয়টি তদন্ত করে অতিরিক্ত বিল ও চার্জ আরোপের প্রকৃত কারণ স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিল নির্ধারণ এবং অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তা দ্রুত সমন্বয় বা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীরাত চর্চা ২০২৬: অক্ষর পাঠাগারের জেলা-ব্যাপী কুইজ প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ সাইফুল ইসলাম তোহা. জেলা প্রতিনিধি বরগুনা

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১০ এম


সীরাত চর্চা ২০২৬: অক্ষর পাঠাগারের জেলা-ব্যাপী কুইজ প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ
 
বরগুনায় অক্ষর পাঠাগারের উদ্যোগে আয়োজিত জেলা-ব্যাপী ‘সীরাত চর্চা ২০২৬’ কুইজ প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বরগুনা জেলা গণগ্রন্থাগার অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
 
‘সীরাত চর্চা ২০২৬’-এর আওতায় বরগুনা জেলার ছয়টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব শেষে অনুষ্ঠানে কুইজের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
 
দিনব্যাপী আয়োজনে কুইজের পাশাপাশি ছিল বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা। এছাড়া ছিল বিশেষ আয়োজন ‘পাঠ প্রতিক্রিয়া’ প্রতিযোগিতা। সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয় নাতে রাসূল ﷺ প্রতিযোগিতা।
 
অনুষ্ঠানে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১৫ জনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কারের মধ্যে ছিল সনদ, ক্রেস্ট, সুন্নাহ সামগ্রী, হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন উপহার।
 
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বরগুনার উপপরিচালক জনাব শফিকুর রহমান। 
 
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন 
বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি জনাব হাফিজুর রহমান, জেলা গণগ্রন্থাগারের জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান জনাব এমদাদ হোসেন খান, এবং পাথরঘাটা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী জনাব মুবিনুর রহমান। এছাড়াও বরগুনার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
 
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অক্ষর পাঠাগারের সহকারী পরিচালক ওমর আজিজ।
 
আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মের মাঝে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনাদর্শ, নববী আখলাক ও সীরাত সম্পর্কে জ্ঞান ও আগ্রহ সৃষ্টি এবং বইপাঠ ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চাকে উৎসাহিত করাই ‘সীরাত চর্চা ২০২৬’-এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম: ভাটি বাংলার মাটি ও মানুষের কণ্ঠস্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হামিদুল ইসলাম, দিরাই ও শাল্লা প্রতিনিধি

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৩ এম


বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম: ভাটি বাংলার মাটি ও মানুষের কণ্ঠস্বর

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের কালনী নদীর তীরে জন্ম নিয়েছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের গান ও জীবনসংগ্রামের মাধ্যমে ভাটি বাংলার সংস্কৃতিকে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি—বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম।

শাহ আবদুল করিম জন্মগ্রহণ করেন ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯১৬ সালে, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে। দরিদ্র পরিবারে তাঁর শৈশব কেটেছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ কম পেলেও সাধনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি স্বশিক্ষিত শিল্পী হয়ে ওঠেন।
গানের জগতে পথচলা
ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর আকর্ষণ ছিল। বাউল ও লোকসংগীতের সাধনার মাধ্যমে তিনি নিজস্ব গানের ধারা তৈরি করেন। তাঁর গানে প্রেম, আধ্যাত্মিকতা, মানুষের সুখ-দুঃখ, অধিকার ও জীবনসংগ্রামের কথা উঠে এসেছে।

প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর
শাহ আবদুল করিমের গান ছিল অন্যায়, বৈষম্য, কুসংস্কার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা। একই সঙ্গে এতে মানবতা, সাম্য ও ভালোবাসার বার্তা ছিল। তিনি ছিলেন গীতিকার, সুরকার, গায়ক ও গণমানুষের শিল্পী।

জনপ্রিয় কিছু গান
তাঁর পরিচিত গানগুলোর মধ্যে রয়েছে—
“আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম”
“গাড়ি চলে না, চলে না”
“বন্দে মায়া লাগাইছে”
“বসন্ত বাতাসে”
“কেন পিরিতি শিখাইলা”

পুরস্কার ও স্বীকৃতি
বাংলা লোকসংগীতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ২০০১ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে। তিনি পাঁচ শতাধিক গান রচনা করেছেন বলে বিভিন্ন জীবনীসূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
দীর্ঘ ৯৩ বছরের জীবন শেষে ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৯ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর গান আজও নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়।
কালনী নদীর তীরে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি প্রমাণ করে গেছেন—একজন সত্যিকারের শিল্পী তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকেন।
শাহ আবদুল করিম ভাটি বাংলার গর্ব, মাটি ও মানুষের কণ্ঠস্বর এবং বাংলা লোকসংগীতের এক অমর কিংবদন্তি। তাঁর গান, দর্শন ও মানবতার বাণী আজও ভাটি বাংলার বাতাসে বেঁচে আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বিএনপি নেতাদের সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৪ এম


সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বিএনপি নেতাদের সংবাদ সম্মেলন

 

 
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ৬ নং দৈহারী ইউনিয়নে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ গোলাম মোস্তফা মৃধা ও রতন শেখ।
 
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় স্বরূপকাঠী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ প্রতিবাদ জানান।
 
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা মৃধা ও রতন শেখ বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওতে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে ওই অভিযোগের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
 
তারা বলেন, প্রকৃত ঘটনা যাচাই-বাছাই না করে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রচার করা অনাকাঙ্ক্ষিত। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।
 
সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগের কোনো প্রমাণ থাকলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। একই সঙ্গে প্রশাসনের প্রতি অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরার আহ্বান জানান তারা।
 
গোলাম মোস্তফা মৃধা ও রতন শেখ দাবি করেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনের সময় ভোটার ও প্রশাসনের লোকজনের যাতায়াতের সুবিধার্থে কিছু স্থানে গাছের ডালপালা কেটে ভাঙা পোল ও সাঁকো তৈরি করা হয়েছিল। তবে এটিকে সরকারি গাছ কাটার সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা হিসেবে প্রচার করা সঠিক নয় বলে তারা দাবি করেন।
 
এ সময় তারা দৈহারী ইউনিয়নের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, বিএনপির নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো, হয়রানি কিংবা অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
 
তারা বলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অনৈতিক বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার দায় দলের প্রকৃত নেতাকর্মীদের ওপর বর্তায় না। দলের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখানো হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের প্রতি দৈহারী ইউনিয়নের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তারা।
 
গোলাম মোস্তফা মৃধা ও রতন শেখ পুনরায় দাবি করেন, সরকারি গাছ কাটার অভিযোগের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তারা।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই রবিউস সানি, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৩৫
জোহর ১১:৪৯
আসর ০৪:০৭
মাগরিব ০৫:৪৭
ইশা ০৬:৫৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫০ সূর্যাস্ত : ০৫:৪৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%