রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১০ এম
নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের বড় বাগান এলাকায় ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও বিভিন্ন ধরনের চার্জ আরোপের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ট্রান্সফরমারটি বিদ্যুৎ অফিসের ব্যবস্থাপনায় সংযুক্ত করা হয়েছিল। সম্প্রতি ওই ট্রান্সফরমারটি পুড়ে যাওয়ার পর নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়। এরপর থেকেই বিদ্যুৎ বিলের কাগজে বিভিন্ন গ্রাহকের নামে বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত করে বিল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।গ্রাহকদের দাবি, বিগত সময়ে তারা প্রতি মাসে ৬০০, ৭০০, ৯০০ কিংবা সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছিলেন। কিন্তু নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের পর কোনো কোনো গ্রাহকের নামে ৩ হাজার, ৪ হাজার, ৬ হাজার এমনকি ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।গ্রাহকদের ভাষ্য, ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ার কারণে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। এটি বিদ্যুৎ অফিসের ব্যবস্থাপনার বিষয় হলেও এখন সেই কারণে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের পর থেকেই বিলের কাগজে বিভিন্ন গ্রাহকের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত চার্জ দেখা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।এ বিষয়ে কয়েকজন গ্রাহক বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের বলেন বলে দাবি করেছেন, “আপনারা নতুন ট্রান্সফরমার লাগিয়েছেন, এ কারণে আপনাদের এই চার্জ দিতে হবে। আর এই টাকা পরিশোধ না করলে আপনাদের নামে মামলা হবে।গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এমন বক্তব্য শোনার পর থেকেই তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—আগে যেখানে একই ধরনের বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মাসে ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল আসত, সেখানে হঠাৎ করে কয়েক হাজার টাকা বিল আসার কারণ কী?গ্রাহকদের আরও দাবি, অতিরিক্ত বিলের টাকা পরিশোধ করার পর পরবর্তীতে সেই অর্থ সমন্বয় বা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও তা দীর্ঘ সময় পরে ফেরত দেওয়া হতে পারে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের আর্থিক ভোগান্তিতে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।স্থানীয় গ্রাহকরা বিষয়টি তদন্ত করে অতিরিক্ত বিল ও চার্জ আরোপের প্রকৃত কারণ স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিল নির্ধারণ এবং অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তা দ্রুত সমন্বয় বা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের কালনী নদীর তীরে জন্ম নিয়েছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের গান ও জীবনসংগ্রামের মাধ্যমে ভাটি বাংলার সংস্কৃতিকে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি—বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম।
শাহ আবদুল করিম জন্মগ্রহণ করেন ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯১৬ সালে, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে। দরিদ্র পরিবারে তাঁর শৈশব কেটেছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ কম পেলেও সাধনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি স্বশিক্ষিত শিল্পী হয়ে ওঠেন।
গানের জগতে পথচলা
ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর আকর্ষণ ছিল। বাউল ও লোকসংগীতের সাধনার মাধ্যমে তিনি নিজস্ব গানের ধারা তৈরি করেন। তাঁর গানে প্রেম, আধ্যাত্মিকতা, মানুষের সুখ-দুঃখ, অধিকার ও জীবনসংগ্রামের কথা উঠে এসেছে।
প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর
শাহ আবদুল করিমের গান ছিল অন্যায়, বৈষম্য, কুসংস্কার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা। একই সঙ্গে এতে মানবতা, সাম্য ও ভালোবাসার বার্তা ছিল। তিনি ছিলেন গীতিকার, সুরকার, গায়ক ও গণমানুষের শিল্পী।
জনপ্রিয় কিছু গান
তাঁর পরিচিত গানগুলোর মধ্যে রয়েছে—
“আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম”
“গাড়ি চলে না, চলে না”
“বন্দে মায়া লাগাইছে”
“বসন্ত বাতাসে”
“কেন পিরিতি শিখাইলা”
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
বাংলা লোকসংগীতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ২০০১ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে। তিনি পাঁচ শতাধিক গান রচনা করেছেন বলে বিভিন্ন জীবনীসূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
দীর্ঘ ৯৩ বছরের জীবন শেষে ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৯ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর গান আজও নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়।
কালনী নদীর তীরে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি প্রমাণ করে গেছেন—একজন সত্যিকারের শিল্পী তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকেন।
শাহ আবদুল করিম ভাটি বাংলার গর্ব, মাটি ও মানুষের কণ্ঠস্বর এবং বাংলা লোকসংগীতের এক অমর কিংবদন্তি। তাঁর গান, দর্শন ও মানবতার বাণী আজও ভাটি বাংলার বাতাসে বেঁচে আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঘটনাবহুল এ বিশ্বে প্রতিদিন ঘটে নানান ঘটনা। উদ্ভাবন-উন্মোচন ঘটে অনেক কিছুর। জন্মের পাশাপাশি মৃত্যুও হয় অনেকের। রোজকার এসব ঘটনার মধ্যে বিশেষ কিছু ঘটনা স্থায়ীভাবে দাগ কাটে মানুষের মনে। কিছু উঠে যায় ইতিহাসের পাতায়।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ঘটনাবলি
১১২৫ - ডিউক লোথারিয়াস জার্মানির রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন।
১২৫০ - ক্রসেড যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় খ্রিস্টান ও মুসলমানদের মধ্যে ঐতিহাসিক মানসুরিয়ে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
১৫০১ - মাইকেল এঞ্জেলো বিখ্যাত ডেভিড মূর্তি নির্মাণ শুরু করেন।
১৬০৯ - অভিযাত্রী হেনরী হাডসন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে একটি নদী খুঁজে পান, পরবর্তীকালে নদীটির নাম রাখা হয় হাডসন নদী। স্থানীয় আদিবাসীরা নদীটিকে ডাকতেন মু-হে-কুন-নে-তুক নামে।
১৭৮০ - বহুতল ভবনে উঠানামা করার জন্য ব্যবহৃত লিফট বা এলিভেটর আবিষ্কৃত হয়।
১৭৮৮ - নিউইয়র্ক সিটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাজধানী হয়।
১৭৮৯ - মার্কিন সরকার নিউইয়র্ক ব্যাংক থেকে প্রথম ঋণ নেয়।
১৮৪৭ - আমেরিকা-মেক্সিকো যুদ্ধে মেক্সিকো দখল করে যুক্তরাষ্ট্র।
১৮৯৮ - প্যারিসের ২০ হাজার রাজমিস্ত্রি ধর্মঘট করে।
১৯২২ - লিবিয়ার আজিজিয়ায় পৃথিবীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয় ১৩৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট।
১৯২৯ - ৬৩ দিন অনশনের পর বিপ্লবী যতীন দাস লাহোর কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৪০ - বাকিংহাম প্যালেসে বোমাবর্ষণ করে জার্মানি।
১৯৪৩ - জেনারেল চিয়াং কাইশেক চীনা প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হন।
১৯৪৮ - ভারতের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী বল্লভভাই পাতিল স্বাধীন হায়দ্রাবাদ রাজ্যকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করতে হায়দ্রাবাদে সেনাবাহিনীকে প্রবেশের অনুমতি দেন।
১৯৫৯ - চাঁদের উদ্দেশে রাশিয়ার লুনিক-২ নামক রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়।
১৯৯৫ - শ্রীলঙ্কায় বিমান দুর্ঘটনায় ৭৫ জন নিহত হন।
১৯৯৮ - বুরকিনো যশো স্থলমাইন নিষিদ্ধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
২০০০ - তুরস্কে ভূমিকম্পে ১০৮ জনের মৃত্যু হয়।
২০০১ - পূর্ব তিমুরে পার্লামেন্ট সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এটাই প্রথম পার্লামেট।
২০০৮ - ভারতের দিল্লিতে এক সিরিজ বোমা হামলায় ৩০ নিহত ও ১৩০ জন আহত হন।
জন্ম
৭৮৬ - আল মামুন ইবনে হারুন, আব্বাসীয় খলিফা।
১০৮৭ - জন দ্বিতীয় কমনেনাস, বাইজেনটাইন সম্রাট।
১৬৯৪ - জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন, বাঙালি শ্রুতিধর ও পণ্ডিত।
১৬৯৪ - ইয়ংজো জোসেওন, কোরিয়ার শাসক।
১৮৭৩ - কন্সতান্তিন কারাতেওদোরি, গ্রিক গণিতবিদ।
১৮৭৬ - শেরউড অ্যান্ডারসন, মার্কিন ঔপন্যাসিক ও ছোটগল্পকার।
১৮৮৬ - রবার্ট রবিনসন, ব্রিটিশ জৈব রসায়নবিদ এবং রসায়নে নোবেলজয়ী।
১৮৮৭ - লেওপল্ড রুজিচকা, ক্রোয়েশীয়-সুইস বিজ্ঞানী এবং যৌথভাবে রসায়নে নোবেলজয়ী।
১৯০৪ - সৈয়দ মুজতবা আলী, বাংলাদেশি সাহিত্যিক।
১৯১৬ - রুয়াল দাল, ওয়েল্সীয় সাহিত্যিক।
১৯৬৯ - শেন ওয়ার্ন, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার।
১৯৭৩ - ফাবিও কান্নাভারো, ইতালীয় ফুটবলার।
১৯৮৯ - টমাস মুলার, জার্মান ফুটবলার।
মৃত্যু
১৫৯৮ - স্পেনের রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ।
১৮৭২ - লুডউইগ ফয়েরবাক, জার্মানির বস্তুবাদী দার্শনিক।
১৯১০ - রজনীকান্ত সেন, বিশিষ্ট বাঙালি কবি এবং সুরকার।
১৯২৪ - ভূপেন্দ্রনাথ বসু, ভারতীয় রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং ১৯১৪ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি।
১৯২৯ - যতীন্দ্র নাথ দাস, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ বিপ্লবী।
২০১৩ - আনোয়ার হোসেন, বাংলা চলচ্চিত্রের ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ খ্যাত কিংবদন্তি অভিনেতা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ