প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের কালনী নদীর তীরে জন্ম নিয়েছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের গান ও জীবনসংগ্রামের মাধ্যমে ভাটি বাংলার সংস্কৃতিকে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি—বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম।
শাহ আবদুল করিম জন্মগ্রহণ করেন ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯১৬ সালে, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে। দরিদ্র পরিবারে তাঁর শৈশব কেটেছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ কম পেলেও সাধনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি স্বশিক্ষিত শিল্পী হয়ে ওঠেন।
গানের জগতে পথচলা
ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর আকর্ষণ ছিল। বাউল ও লোকসংগীতের সাধনার মাধ্যমে তিনি নিজস্ব গানের ধারা তৈরি করেন। তাঁর গানে প্রেম, আধ্যাত্মিকতা, মানুষের সুখ-দুঃখ, অধিকার ও জীবনসংগ্রামের কথা উঠে এসেছে।
প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর
শাহ আবদুল করিমের গান ছিল অন্যায়, বৈষম্য, কুসংস্কার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা। একই সঙ্গে এতে মানবতা, সাম্য ও ভালোবাসার বার্তা ছিল। তিনি ছিলেন গীতিকার, সুরকার, গায়ক ও গণমানুষের শিল্পী।
জনপ্রিয় কিছু গান
তাঁর পরিচিত গানগুলোর মধ্যে রয়েছে—
“আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম”
“গাড়ি চলে না, চলে না”
“বন্দে মায়া লাগাইছে”
“বসন্ত বাতাসে”
“কেন পিরিতি শিখাইলা”
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
বাংলা লোকসংগীতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ২০০১ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে। তিনি পাঁচ শতাধিক গান রচনা করেছেন বলে বিভিন্ন জীবনীসূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
দীর্ঘ ৯৩ বছরের জীবন শেষে ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৯ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর গান আজও নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়।
কালনী নদীর তীরে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি প্রমাণ করে গেছেন—একজন সত্যিকারের শিল্পী তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকেন।
শাহ আবদুল করিম ভাটি বাংলার গর্ব, মাটি ও মানুষের কণ্ঠস্বর এবং বাংলা লোকসংগীতের এক অমর কিংবদন্তি। তাঁর গান, দর্শন ও মানবতার বাণী আজও ভাটি বাংলার বাতাসে বেঁচে আছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন