ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাপানের ভিসা না পেয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত সামনে এনেছিলেন ম্যারাডোনা


জাপানের ভিসা না পেয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত সামনে এনেছিলেন ম্যারাডোনা

২০০২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। এশিয়া মহাদেশে প্রথমবারের মতো এই ফুটবল মহাযজ্ঞ যৌথভাবে আয়োজন করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।

সেই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে চেয়েছিলেন ফুটবল নক্ষত্র ডিয়েগো ম্যারাডোনা। কিন্তু শুরুতেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় জাপানের ভিসা আইন। তার মাদক সেবনের পুরনো রেকর্ড থাকার কারণে জাপান সরকার ম্যারাডোনার ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।

১৯৯১ সালে কোকেন সেবনের দায়ে তিনি আইনি জটিলতায় পড়েছিলেন।

আরও পড়ুন: কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাকৃবিতে আন্তর্জাতিক প্রকল্পের উদ্বোধন

জাপানের প্রচলিত আইনে বিদেশিদের জন্য মাদকসংক্রান্ত অপরাধের রেকর্ড থাকলে সেই দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে জাপানে যাওয়ার আবেদন করেও, আর্জেন্টিনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ম্যারাডোনা শুরুতে অনুমতি পাননি।

ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার খবর পেয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ম্যারাডোনার যুক্তি ছিল, “আমি কাউকে হত্যা করিনি, জাপানের আইনকেও অসম্মান করেনি।তাহলে তাকে কেন আটকে দেওয়া হলো?

নিজের অবস্থান বোঝাতে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করেন। প্রয়াত এই কিংবদন্তি মতামত ব্যক্ত করেন, ‘আমি কাউকে হত্যা করিনি এবং জাপানের আইনকে সম্মান করি। আমি জাপানে কোনো পারমাণবিক বোমা ফেলিনি। এটা ভীষণ বৈপরীত্যের বিষয়। যদি জাপানিরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে চায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দেরও জাপানে ঢুকতে দেওয়া উচিত নয়।’

ম্যারাডোনার এই মন্তব্যের পেছনে ছিল ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা হামলার ইতিহাস। এতে দেড় লাখ থেকে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ প্রাণ হারান। তার সেই বক্তব্য ছিল প্রকৃতপক্ষে জাপানের সিদ্ধান্তের প্রতি ক্ষোভ ও বৈষম্যের অভিযোগ।

আরও পড়ুন: ঢাকার বড় চ্যালেঞ্জ যানজট ও রাস্তায় হকারের অব্যবস্থাপনা: ডিএসসিসি প্রশাসক

আর্জেন্টিনার পর্যটন ও ক্রীড়া দূত হিসেবে জাপানে এসেছিলেন ম্যারাডোনা। 

কিন্তু, শেষ পর্যন্ত জাপানের অবস্থান পরিবর্তন হয়। আর্জেন্টিনা সরকারের অনুরোধের পর তাকে জাপানে প্রবেশের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়। ম্যারাডোনাকে আর্জেন্টিনার পর্যটন ও ক্রীড়া দূত হিসেবে জাপানে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১১ জুন ভিসা অনুমোদনের পর ২৮ জুন তিনি টোকিও শহরে পৌঁছান।

জাপানে গিয়ে ম্যারাডোনা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচও দেখেন। ইয়োকোহামায় জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়।

যদিও, জাপানের সঙ্গে ম্যারাডোনার সম্পর্ক এতোদিন সুখকর ছিল না। ৯০-এর দশকে জাপানের শীর্ষ ফুটবল লিগ (জে১ লিগ) শুরুর আগে নাগোইয়া গ্রাম্পাসের সঙ্গে তিনি চুক্তির খুব কাছাকাছি ছিলেন।

আরও পড়ুন: ব্রিকস দেশগুলোর জন্য ‘ওপেন-সোর্স এআই জোন’ গঠনের প্রস্তাব সি চিন পিংয়ের

কিন্তু, কোকেন টেস্টে পজিটিভ হয়ে ম্যারাডোনা ১৫ মাসের জন্য সব ধরনের ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ হয়ে যান এবং সেই কারণে সেই চুক্তি থেকে সরে আসে গাড়ি প্রস্তুতকারক বিখ্যাত কোম্পানি টয়োটার মালিকানাধীন ক্লাব নাগোইয়া গ্রাম্পাস। বিকল্প হিসেবে তারা ইংলিশ কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারকে দলে ভেড়ায়।

মাদকসংক্রান্ত অতীতের কারণে ১৯৯৪ সালেও জাপান তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর প্রতিবাদে জানায় আর্জেন্টিনা দল নির্ধারিত প্রস্তুতি ম্যাচ বাতিল করে।

আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দলের হয়ে ম্যারাডোনা প্রথম ট্রফি জিতেছিলেন জাপানের মাটিতে। 

তবে জাপানে ম্যারাডোনার সুখস্মৃতি ও আছে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে প্রথম ট্রফিটি তিনি অর্জন করেছিলেন সেই দেশেই!

আরও পড়ুন: রোমান্টিক নাটক-সিনেমা নির্মাণ বন্ধে সেই আইনজীবীর ফের রিট

এখন যেটিকে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ বলা হয়, ১৯৭৯ সালে সেই টুর্নামেন্টের নাম ছিল ফিফা বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপ। জাপানে অনুষ্ঠিত ওই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা।

ফাইনালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয় পেয়ে শেষ গোলটি করেছিলেন ম্যারাডোনা। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও উঠেছিল তার হাতে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু ঘিরে তোলপাড়, কর্মহীনতা, বকেয়া পাওনা ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাছুদুর রহমান আসলাম

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ পি.এম


পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু ঘিরে তোলপাড়, কর্মহীনতা, বকেয়া পাওনা ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ

বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো সংবাদ মাধ্যম ও পেশাজীবী সমাজকে স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন এই গুণী মানুষ, এবং তাঁর এমন করুণ পরিণতি শুধুই একটি মৃত্যু নয়। এটি সাংবাদিকতা পেশার চরম অনিরাপত্তা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অন্যায়ের ঘৃণ্য দলিল।

দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরোর সাবেক প্রধান এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর পর বেরিয়ে আসছে তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোর চরম দুর্দশা ও লড়াইয়ের কাহিনি। ২০২৩ সালে দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরো প্রধানের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর, এভাবে তাঁকে দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়ার পেছনে ছিল গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের শিকার হতে হয়েছিল পুলক চ্যাটার্জিকে। তৎকালীন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এবং তাঁর চাচা আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বরিশাল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পুলক চ্যাটার্জি পেশাগত কারণে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর সংবাদ কভার করা ও যোগাযোগ রক্ষা করার অভিযোগে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ আবুল খায়ের খোকন সেরনিয়াবাতের অসন্তুষ্টির উইঠে আসেন। ক্ষমতার দাপট ও রাজনৈতিক চাপের মুখে দৈনিক সমকাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ব্যুরো প্রধানের পদ থেকে বাদ দেন। স্থানীয় কিছু গণমাধ্যমকর্মীর অভিযোগ, ওই সময় রাজনৈতিক বিরোধের প্রভাব অনেক দায়িত্বশীল সাংবাদিকের পেশায় পড়ে ছিল।

স্বজনদের মতে, দায়িত্ব হারানোর পর তিনি দীর্ঘ সময় কর্মহীনতা, শারীরিক অসুস্থতা ও আর্থিক চাপের মধ্যে ছিলেন। দায়িত্ব হারানোর পর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় তিন বছর পুলক চ্যাটার্জি চরম কর্মহীনতা, অর্থাভাব, মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতায় কাটিয়েছেন। দীর্ঘ ১৮ বছর সেবা দেওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি তাঁর প্রাপ্য আইন সংগত পাওনা পরিশোধ করেনি। দীর্ঘদিন বকেয়া আদায়ের চেষ্টা করার পরও তিনি সমকালের কাছ থেকে নিজের রক্ত পানি করা রোজগারের টাকা পাননি।

মৃত্যুর আগে পুলক চ্যাটার্জি পাঁচটি চিরকুট (সুইসাইড নোট) লিখে গেছেন, যা তাঁর তীব্র যন্ত্রণার এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রতারণার নিদর্শন। নিজের সহকর্মী সুমন চৌধুরীকে লেখা এক চিরকুটে তিনি আকুতি জানিয়েছেন, যেন দৈনিক সমকালের কাছে জমে থাকা তাঁর বকেয়া পাওনা টাকা তাঁর অসহায় পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে লেখা এই চিরকুট প্রমাণ করে কীভাবে একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক পাওনা আটকে রেখে ধীরে ধীরে তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এমনকি চাকরি হারানোর পরও দীর্ঘদিনের প্রিয় কর্মস্থল সমকালের বরিশাল ব্যুরো অফিসে তিনি প্রায়ই যেতেন এবং অফিসের চাবিও ছিল তাঁর কাছে। বহুদিনের প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর আবেগ ও অসমাপ্ত পাওনার হিসাব নিয়ে ঘোরার পরেও প্রতিষ্ঠানটির নির্দয় আচরণ তাঁকে প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত করেছে।

এখন স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃত্বও এই চরম অন্যায়ের দায় এড়াতে পারে না। পুলক চ্যাটার্জি নিজে বরিশাল প্রেসক্লাবের মতো মর্যাদাপূর্ণ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। অথচ তাঁর তিন বছরের আর্থিক ও পেশাগত সংকটের সময় সহকর্মী ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো রহস্যজনকভাবে নীরব ছিল। সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের স্লোগান দেওয়া সংগঠনগুলো এক অভিজ্ঞ সহকর্মীকে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের মুখে একাকী ফেলে রেখে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

পুলক চ্যাটার্জির এই করুণ সমাপ্তি স্পষ্ট করে দেয় কিভাবে ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবে একজন পেশাদার সাংবাদিকের জীবন তছনছ করা হয়, এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দীর্ঘদিনের কর্মী বকেয়া না দিয়ে কীভাবে তাঁদের ফেলে দেয়। ১৮ বছরের নিষ্ঠাবান সাংবাদিকতার পুরস্কার যদি হয় চরম অভাব, পাওনা বকেয়া থাকা এবং অকাল মৃত্যু, তবে বর্তমান পরিস্থিতির দায় দৈনিক সমকাল কর্তৃপক্ষ, তৎকালীন রাজনৈতিক শক্তি এবং ব্যর্থ সাংবাদিক নেতৃত্বকে আজীবন বহন করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সমন্বয়ে গবেষণায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে: বেরোবি রেজিস্ট্রার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি প্রতিনিধি

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ পি.এম


ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সমন্বয়ে গবেষণায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে: বেরোবি রেজিস্ট্রার

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান মন্তব্য করেছেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সঙ্গে শিল্পখাতের (ইন্ডাস্ট্রি) সমন্বয় হলে বাংলাদেশের গবেষণা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।"

তিনি শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ বেরোবির উদ্ভাবনী গবেষণা প্রকল্প প্রদর্শনকালে এ কথা বলেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ মেলা ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলায় বেরোবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের নির্বাচিত চারটি উদ্ভাবনী গবেষণা প্রকল্প প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রজেক্টগুলো হলো—Silicon-based Perovskite Solar Cells, AgriTrace BD, Carbon Setu এবং DeshGuard AI।

অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির কোনো সমন্বয় নেই। বর্তমান সরকার এ বিষয়টি সমন্বয়ের চেষ্টা করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সমন্বয় হলে বাংলাদেশে গবেষণার ক্ষেত্রে বিশাল পরিবর্তন আসবে।”

তিনি আরো বলেন, “এই সমন্বয়হীনতার কারণে বাংলাদেশের সমসাময়িক অনেক দেশ আমাদের থেকে এগিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে শিল্পখাতের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে গবেষণার ফলাফল বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।”

মেলায় অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় বদ্ধপরিকর। ল্যাবরেটরির নতুন নতুন আবিষ্কার যখন বাণিজ্যিক বাজারে জায়গা পাবে, তখনই দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই ইনোভেশন ফেয়ার আমাদের তরুণ গবেষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা ও নেটওয়ার্ক তৈরির অনন্য সুযোগ।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান, দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিগত ১৮ বছরে বিদ্যুৎ-গ্যাস খাত ধ্বংস করা হয়েছে: ধর্মমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৯ পি.এম


বিগত ১৮ বছরে বিদ্যুৎ-গ্যাস খাত ধ্বংস করা হয়েছে: ধর্মমন্ত্রী

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ মন্তব্য করেছেন যে, বিগত ১৮ বছরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই ধ্বংসস্তূপ থেকে বিদ্যুৎ এবং গ্যাস খাতকে পুনর্গঠন করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকারকে সময় দিতে হবে।

তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, সরকারকে যদি প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হয়, তাহলে বর্তমান সংকট দ্রুত কেটে যাবে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব চত্বরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগ আয়োজিত মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেছেন, একটি বাচ্চা যখন জন্মগ্রহণ করে, তখনই যদি তাকে ‘আব্বা’ ডাকতে বলা হয়, সেটা কখনও সম্ভব হবে? বাচ্চাকে সময় দিতে হবে, তাকে বড় করতে হবে; যখন বাচ্চা বড় হবে তখন সে অটোমেটিক আব্বা ডাকবে। ঠিক তেমনি, বর্তমান সরকারকেও পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।

ধর্মমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারকে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হলে ইনশাআল্লাহ বর্তমান অবস্থা থাকবে না। মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ধৈর্যের সঙ্গে সঠিক পথে কাজ করে যেতে হবে এবং সরকারকে সময় ও সহযোগিতা দিলে দেশের সকল সংকটের সমাধান সম্ভব।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মাঝে ইসলামী জ্ঞানচর্চা, পাঠাভ্যাস ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রসারে মাসব্যাপী এই ইসলামী বইমেলা বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর মহান জীবন-আদর্শ এবং ইসলামের শান্তির ও কল্যাণময় বার্তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

ধর্মমন্ত্রী বলেছেন, বিগত ১৮ বছর ধরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার এবং আওয়ামী লীগীকরণ করা হয়েছিল। অতীতের মুজিববাদী প্রভাব থেকে মুক্ত করে এই প্রতিষ্ঠানকে পবিত্র কোরআন ও হাদিস প্রচারের প্রকৃত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সর্বপ্রকার অন্যায় ও অবিচার চিরতরে দূর করতে হবে। কোনো হালাল কাজের জন্য যেন কাউকেই এক পয়সাও দিতে না হয়, সেভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ বেরোবির চার উদ্ভাবনী গবেষণা প্রকল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি প্রতিনিধি,

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫০ পি.এম


বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ বেরোবির চার উদ্ভাবনী গবেষণা প্রকল্প

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ অংশ নিয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর। আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে ঢাকার নভোথিয়েটারে আয়োজিত একটি আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন দিনব্যাপী (১২-১৪ সেপ্টেম্বর) এই ঐতিহাসিক মেলার শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী দেশীয় গবেষণা ও মেধাভিত্তিক উদ্ভাবনগুলোকে ল্যাবরেটরির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে রূপান্তর এবং সরাসরি মূলধারার বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গবেষক প্রফেসর ডঃ মোঃ ফেরদৌস রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির কোন সমন্বয় নাই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর জনাব তারেক রহমান এই বিষয়টা সমন্বয় করার চেষ্টা করতেছে, আর এটা সমন্বয় হলে বাংলাদেশে গবেষণার বিশাল একটি পরিবর্তন হবে। এই সমন্বয়হীনতার কারণে বাংলাদেশের সম সাময়িক দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে গেছে, যেটা বাংলাদেশ করতে পারেনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী অংশগ্রহণ করেন এবং শিক্ষার্থী ও গবেষকদের প্রকল্প প্রদর্শন করেন। এ সময় উপাচার্য বলেন, “আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় বদ্ধপরিকর। ল্যাবরেটরির নতুন নতুন আবিষ্কার যখন বাণিজ্যিক বাজারে জায়গা পাবে, তখনই দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। এই ইনোভেশন ফেয়ার আমাদের তরুণ গবেষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা ও নেটওয়ার্ক তৈরির অনন্য সুযোগ।”

রাজধানীর নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত এই মেলায় বেরোবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের নির্বাচিত ৪টি উদ্ভাবনী গবেষণা প্রকল্প প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রকল্পগুলো হলো: ১. Silocon based perovskite solar cells, ২. Agritrace BD, ৩. Carbon Setu ও ৪. Deshguard AI।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেরোবি রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মোঃ ফেরদৌস রহমান, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ মিজানুর রহমান, দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ এমদাদুল হক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ কামরুজ্জামান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই রবিউস সানি, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৩৫
জোহর ১১:৪৯
আসর ০৪:০৭
মাগরিব ০৫:৪৭
ইশা ০৬:৫৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫০ সূর্যাস্ত : ০৫:৪৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%