প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
২০০২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। এশিয়া মহাদেশে প্রথমবারের মতো এই ফুটবল মহাযজ্ঞ যৌথভাবে আয়োজন করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।
সেই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে চেয়েছিলেন ফুটবল নক্ষত্র ডিয়েগো ম্যারাডোনা। কিন্তু শুরুতেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় জাপানের ভিসা আইন। তার মাদক সেবনের পুরনো রেকর্ড থাকার কারণে জাপান সরকার ম্যারাডোনার ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।
১৯৯১ সালে কোকেন সেবনের দায়ে তিনি আইনি জটিলতায় পড়েছিলেন।
জাপানের প্রচলিত আইনে বিদেশিদের জন্য মাদকসংক্রান্ত অপরাধের রেকর্ড থাকলে সেই দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে জাপানে যাওয়ার আবেদন করেও, আর্জেন্টিনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ম্যারাডোনা শুরুতে অনুমতি পাননি।
ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার খবর পেয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ম্যারাডোনার যুক্তি ছিল, “আমি কাউকে হত্যা করিনি, জাপানের আইনকেও অসম্মান করেনি।তাহলে তাকে কেন আটকে দেওয়া হলো?
নিজের অবস্থান বোঝাতে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করেন। প্রয়াত এই কিংবদন্তি মতামত ব্যক্ত করেন, ‘আমি কাউকে হত্যা করিনি এবং জাপানের আইনকে সম্মান করি। আমি জাপানে কোনো পারমাণবিক বোমা ফেলিনি। এটা ভীষণ বৈপরীত্যের বিষয়। যদি জাপানিরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে চায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দেরও জাপানে ঢুকতে দেওয়া উচিত নয়।’
ম্যারাডোনার এই মন্তব্যের পেছনে ছিল ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা হামলার ইতিহাস। এতে দেড় লাখ থেকে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ প্রাণ হারান। তার সেই বক্তব্য ছিল প্রকৃতপক্ষে জাপানের সিদ্ধান্তের প্রতি ক্ষোভ ও বৈষম্যের অভিযোগ।
আর্জেন্টিনার পর্যটন ও ক্রীড়া দূত হিসেবে জাপানে এসেছিলেন ম্যারাডোনা।
কিন্তু, শেষ পর্যন্ত জাপানের অবস্থান পরিবর্তন হয়। আর্জেন্টিনা সরকারের অনুরোধের পর তাকে জাপানে প্রবেশের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়। ম্যারাডোনাকে আর্জেন্টিনার পর্যটন ও ক্রীড়া দূত হিসেবে জাপানে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১১ জুন ভিসা অনুমোদনের পর ২৮ জুন তিনি টোকিও শহরে পৌঁছান।
জাপানে গিয়ে ম্যারাডোনা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচও দেখেন। ইয়োকোহামায় জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়।
যদিও, জাপানের সঙ্গে ম্যারাডোনার সম্পর্ক এতোদিন সুখকর ছিল না। ৯০-এর দশকে জাপানের শীর্ষ ফুটবল লিগ (জে১ লিগ) শুরুর আগে নাগোইয়া গ্রাম্পাসের সঙ্গে তিনি চুক্তির খুব কাছাকাছি ছিলেন।
কিন্তু, কোকেন টেস্টে পজিটিভ হয়ে ম্যারাডোনা ১৫ মাসের জন্য সব ধরনের ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ হয়ে যান এবং সেই কারণে সেই চুক্তি থেকে সরে আসে গাড়ি প্রস্তুতকারক বিখ্যাত কোম্পানি টয়োটার মালিকানাধীন ক্লাব নাগোইয়া গ্রাম্পাস। বিকল্প হিসেবে তারা ইংলিশ কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারকে দলে ভেড়ায়।
মাদকসংক্রান্ত অতীতের কারণে ১৯৯৪ সালেও জাপান তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর প্রতিবাদে জানায় আর্জেন্টিনা দল নির্ধারিত প্রস্তুতি ম্যাচ বাতিল করে।
আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দলের হয়ে ম্যারাডোনা প্রথম ট্রফি জিতেছিলেন জাপানের মাটিতে।
তবে জাপানে ম্যারাডোনার সুখস্মৃতি ও আছে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে প্রথম ট্রফিটি তিনি অর্জন করেছিলেন সেই দেশেই!
এখন যেটিকে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ বলা হয়, ১৯৭৯ সালে সেই টুর্নামেন্টের নাম ছিল ফিফা বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপ। জাপানে অনুষ্ঠিত ওই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা।
ফাইনালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয় পেয়ে শেষ গোলটি করেছিলেন ম্যারাডোনা। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও উঠেছিল তার হাতে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন