রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৫৬ এম
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ৫০টি মামলা করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে, বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগের ৪০ জন, লালবাগ বিভাগের ৪২ জন, ওয়ারী বিভাগের ৬৫ জন, মতিঝিল বিভাগের ৬৮ জন, তেজগাঁও বিভাগের ৯৫ জন, মিরপুর বিভাগের ২০৩ জন, গুলশান বিভাগের ৫৫ জন, উত্তরা বিভাগের ৪৯ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগের ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানকালে ৭ কেজি ৯৬৫ গ্রাম গাঁজা, ২১১ পিস ইয়াবা, ১০৬ গ্রাম হেরোইন, ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি শর্টগান, ১টি ইয়ারগান, ১ রাউন্ড গুলি, ১টি ম্যাগাজিন, ১টি গুলির খোসা, ৩২টি রেডবল কার্তুজ, ৫৫টি মোবাইল ফোন, ৭টি ফয়েল পেপার, ৩টি গ্যাস লাইট, ১টি সাদা বোতলের অ্যালকোহল, ১টি অটোরিকশা, ৩টি মোটরসাইকেল, ৪টি চাকু, ২টি স্টিলের ব্লেড, ১টি চাপাতি এবং ১ লাখ ৮ হাজার ২২০ টাকা জব্দ করা হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লালনসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীন আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছেন।
আজ (১৩ সেপ্টেম্বর) লালনসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী ও লালনসম্রাজ্ঞীখ্যাত ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন এবং গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর এক বছর পরও তার কণ্ঠের গান, সংগীতসাধনা ও লালনের দর্শনের প্রতি তার নিবেদন শ্রোতাদের মনে অমলিন হয়ে আছে।
ফরিদা পারভীন কেবল একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি লালনগীতি ও বাঙালির লোকজ দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রচারক হিসেবেও কাজ করেছেন। তার কণ্ঠে লালন সাঁইয়ের গান দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যায়। লালনের মানবতাবাদ, জীবনবোধ ও দর্শন সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে ফরিদা পারভীনের ভূমিকা ছিল অনেকটাই অনন্য।
ফরিদা পারভীন ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানার শাওল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার শৈশব ও বেড়ে ওঠা কুষ্টিয়ার পরিবেশে। তিনি ছোটবেলায় মাগুরায় ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে গানে তার হাতেখড়ি নেন।
১৯৬৮ সালে তিনি রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নজরুলসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সংগীতজীবন শুরু করেন। ১৯৭৩ সালের দিকে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে সাধক মোকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে লালনসংগীতে তালিম নিতে শুরু করেন। এরপর তিনি খোদা বক্স সাঁই, ব্রজেন দাস, বেহাল সাঁই, ইয়াছিন সাঁই ও করিম সাঁইয়ের কাছ থেকেও তালিম নেন।
লালনের বাণী ও সুর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ফরিদা পারভীনের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। তার গাওয়া লালনের গান দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। গানের টানে তিনি বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে ছুটে বেড়িয়েছেন।
সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান। ১৯৯৩ সালে অন্ধ প্রেম চলচ্চিত্রের নিন্দার কাঁটা গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা গায়িকার সম্মান অর্জন করে। এছাড়া, তিনি ২০০৮ সালে জাপান সরকারের ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার পুরস্কারও লাভ করেন।
ফরিদা পারভীন কেবল গান গাইতেন না, বরং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে লোকসংগীত ও লালনগীতি ছড়িয়ে দেওয়ার কাজেও যুক্ত ছিলেন। প্রায় ১৭ বছর আগে প্রখ্যাত বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিমের সঙ্গে মিলে ঢাকার তেজগাঁওয়ে ‘অচিন পাখি সংগীত একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে লোকগান, নজরুলসংগীত, আধুনিক ও শাস্ত্রীয় সংগীতের পাশাপাশি ছবি আঁকা, গিটার ও তবলা শেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী সংগীতের তালিম নিচ্ছেন। তিন বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা—বিভিন্ন বয়সের মানুষ রয়েছেন তাদের মধ্যে। ফরিদা পারভীনের মৃত্যুর এক বছর পরও তার প্রতিষ্ঠিত সংগীত একাডেমিতে চলছে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি একাই পরিচালনা করছেন গাজী আবদুল হাকিম।
ফরিদা পারভীনের স্মৃতি কথা বলতে গিয়ে তিনি গণমাধ্যমকে উল্লেখ করেছেন যে, তার শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তবে, ফরিদা পারভীনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। বাংলা লোকগান পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার যে স্বপ্ন ফরিদা পারভীন দেখেছিলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ফরিদা পারভীনের সঙ্গে পাঁচ দশকের বেশি সময়ের সম্পর্ক ছিল বরেণ্য সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমানের। তাদের সম্পর্ক ছিল বড়ো বোন ও ছোটো বোনের মতো। প্রিয় শিল্পীকে স্মরণ করে ফেরদৌসী রহমান গণমাধ্যমকে জানান, অন্যরা অনেক সময় মুখ দিয়ে গান গাইলেও, ফরিদা পারভীনের গান শুনলে মনে হত তিনি একেবারে ভেতর থেকে গাইছেন। গানের প্রতিটি কথা ও সারমর্ম উপলব্ধি করে তিনি গান গাইতেন।
ফেরদৌসী রহমান আরও জানান, ফরিদা পারভীনের গান যেমন সহজ-সরল ও মিষ্টি ছিল, তার জীবনও ছিল তেমনই সহজ-সরল। তার মধ্যে কোনো জটিলতা দেখেননি তিনি।
ফরিদা পারভীনের সন্তানদের ইচ্ছা ছিল, মাকে কুষ্টিয়া পৌর শহরে তার মা-বাবার কবরের পাশে সমাহিত করার। শেষ পর্যন্ত সেই ইচ্ছাই পূরণ হয়েছে। কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ফরিদা পারভীনকে স্মরণ করে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সংগীত প্রতিষ্ঠান নানা আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ বেতারে আজ (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রচার হবে তাকে নিয়ে এক ঘণ্টার বিশেষ অনুষ্ঠান। সেখানে তার গান পরিবেশন করবেন নাসরিন আক্তার বিউটি ও সাজিয়া সুলতানা পুতুল। বাঁশি বাজাবেন গাজী আবদুল হাকিম।
এছাড়া, আজ (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় অচিন পাখি সংগীত একাডেমিতেও স্মরণ আয়োজন থাকবে। সেখানে একাডেমির কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা ফরিদা পারভীনের জীবন এবং সংগীতে তার অবদান নিয়ে আলোচনা করবেন।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের একটি মিলনায়তনে ফরিদা পারভীনের গান ও জীবন নিয়ে আরও একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, বলছেন গাজী আবদুল হাকিম।
এক বছর ধরে ফরিদা পারভীনের কণ্ঠে নতুন কোনো গান শোনা যায়নি। তবে, তার গাওয়া গান, শেখানো সুর, লালনের বাণী এবং সংগীতসাধনার উত্তরাধিকার এখনও বয়ে চলেছেন তার শিক্ষার্থীরা। গানে ও সাধনায় রেখে যাওয়া এই উত্তরাধিকারই বাঁচিয়ে রাখছে লালনসম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীনের স্মৃতি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জয়রামপুর রেলস্টেশনে সাগরদাঁড়ি-কপোতাক্ষ ট্রেনের আপ-ডাউন স্টপেজসহ বিভিন্ন দাবিতে রেলপথ অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার সময় জয়রামপুর রেলস্টেশনে রেলপথ অবরোধ করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। দামুড়হুদা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে প্রায় ২০ মিনিট থামিয়ে রেলপথ অবরোধকারীরা ৮ দাবি পেশ করেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা রেল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে রেলপথ অবমুক্ত করে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।
৮ দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনে সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের আন্তঃনগর বিরতি। স্টেশন মাস্টারসহ স্টেশনের প্রয়োজনীয় লোকবল পুনর্বহাল করতে হবে। লুপ লাইন চালু এবং টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করা। স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম আধুনিকীকরণ, অবকাঠামোগত সংস্কার ও উন্নয়ন করা। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত স্টেশনের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত হওয়ায় একই নকশায় নতুন করে হলঘর নির্মাণ করা। পোড়াদহ-গোয়ালন্দঘাট রুটে চলাচলকারী শাটল ট্রেনটি দর্শনা পর্যন্ত বর্ধিত করতে হবে এবং লোকাল ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি লোকাল ট্রেনের বগি সংখ্যা বাড়ানো।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, রেল প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি এখানে এসেছি। ডিআরএম পাকশী এই আন্দোলনের প্রতিনিধিদেরকে আগামী সোমবার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। হয়তো পজিটিভ কিছু হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আক্তার সিদ্দিকী, স্থানীয় সিনিয়র নাগরিক পিয়ার আলী, সাবেক সেনা সদস্য লাজিব আক্তার সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম উপস্থিত হন।
তিনি মন্তব্য করেন, চাকরির পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে সরকার নিজেদের দলীয় লোক নিয়োগের এজেন্ডা হাতে নিয়েছে। নুরুল ইসলাম সাদ্দাম মন্তব্য করেন, যদি সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে বিরত না থাকে, তবে আবারও আন্দোলন শুরু করা হবে। তিনি বললেন, “শতভাগ মেধার ভিত্তিতেই দেশ গড়ে উঠবে এবং মেধার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করতে হবে।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় এসব কথা বলেন তিনি।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও বলেন, “পিএসসি সংস্কার করতে হবে, নির্বাচন কমিশন সংস্কার করতে হবে, মহা হিসাব নিরীক্ষকের ওই জায়গাটাও সংস্কার করতে হবে।” রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোগুলোকে সংস্কার করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পিএসসির গঠনমূলক সব সংস্কার করতে হবে। জুলাইয়ের অন্যতম দাবি ছিল সাংবিধানিক সব সংস্কার করা।”
তিনি বলেন, সংস্কারের জন্য সংবিধান সংস্কার কমিটিতে শপথ নিতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর শপথ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বললেন, “তবে তারা (বিএনপি) শপথ নেয়নি।” সেইসাথে তিনি উল্লেখ করলেন, “আপনারা মনে করছেন, তরুণ প্রজন্ম কিছুই বোঝে না, তারা এমনি এমনি জুলাই বিপ্লব করেছে। সরকারকে অনুরোধ জানাই, বর্তমান প্রজন্মকে দুর্বল মনে করবেন না, আমাদের মেধাকে নষ্ট করবেন না।” তিনি মন্তীব্য করেন, “বিশ্ববিদ্যালয় যে আন্দোলন করেছে, সেই আন্দোলনের কারণেই আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন।”
আরও পড়ার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসন সংকট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “এলাকা এলাকার রাস্তাঘাটে বিশ্ববিদ্যালয় বানানো হচ্ছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের শতভাগ থাকার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে না।”
তিনি বলেন, “যে বিশ্ববিদ্যালয় তার ছাত্রদের থাকার জায়গা দিতে পারে না, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের থাকার নৈতিক কোনো অধিকার নেই।”
শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট প্রসঙ্গে বলেন, “শিক্ষার্থীরা এত কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় তাদের থাকার সিটের ব্যবস্থা করতে পারে না।” রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়তো ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী থাকতে পারে, আর ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী বাইরে থাকে। এই ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর থাকার বন্দোবস্ত বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারেনি।
তিনি বলেন, “পিএসসিতে হাজার হাজার কোটি টাকা বাজেট দেওয়া হয়, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয় না।” শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করতে শেখা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে বলতে হবে, “আগামী দুই বছরের মধ্যে শতভাগ আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।”
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “শিক্ষার্থীরা জুলাইয়ের পরে এসে সব গণরুম ভেঙে দিয়ে চুরমার করে ফেলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুম ভেঙে দিয়ে ছোট ছোট সিট করে দেওয়া হয়েছে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এখন মেধার ভিত্তিতে সিট পাচ্ছে।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে প্রায় চার হাজার নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের আলোচিত ইসলামি বক্তা জাকির নায়েকের প্রত্যর্পণ সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই বিষয়টি সম্পর্কে আলোচনা হয়, যা ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ের আলোচনায় স্বাভাবিকভাবেই সেসব স্পর্শকাতর বিষয় উঠে আসে। দুই দেশের স্বার্থ এবং সম্পর্কের ব্যবস্থাপনার জন্য এই বিষয়টির গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রয়োজন। তবে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার তালিকায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জাকির নায়েকের প্রত্যর্পণের সম্ভাবনা নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে তার দেশকে আইনের শাসন বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, ভারত সরকারের প্রত্যর্পণের দাবির প্রেক্ষাপট তারা উপলব্ধি করছেন। তবে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনকে সম্মান জানিয়ে এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব বজায় রেখে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে।
ভারতের সরকার ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে জাকির নায়েককে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়ে রেখেছে। তবে মালয়েশিয়ার অবস্থান হলো, যদি নির্দিষ্ট এবং গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়, তাহলে প্রচলিত আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
এদিকে উল্লেখ্য, এর আগে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ