শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৩৩ পি.এম
বুন্দেসলিগার রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে এফসি আউগ্সবুর্গের বিপক্ষে ড্র করে বায়ার ০৪ লেভারকুসেন। শেষ মুহূর্তের গোলে আউগ্সবুর্গের বিরুদ্ধে ২-২ ব্যবধানে ম্যাচ ড্র করে হার এড়ায় লেভারকুসেন।
আউগ্সবুর্গের ঘরের মাঠ, ডব্লিউডব্লিউকে অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধে লেভারকুসেন এগিয়ে গেলেও, দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিকরা দুটি গোল করে অসাধারণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। তবে শেষ সময়ে প্যাট্রিক শিকের গোলে ১ পয়েন্ট নিশ্চিত করে কার্লেস মার্টিনেজ নভেলের শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই সফরকারী লেভারকুসেন বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য দেখায়। আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ১৮ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ান কোফানে।
তার দারুণ গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে লেভারকুসেন।
কিন্তু বিরতি থেকে ফিরে আউগ্সবুর্গ খোলস ছেড়ে বের হয়। ম্যাচের ৫০ মিনিটে ফ্যাবিয়ান রাইডারের আসিস্ট থেকে আউগ্সবুর্গকে সমতায় ফেরান স্ট্রাইকার মাইকেল গ্রেগরিৎস্ক। ঠিক ৫ মিনিট পরে, অর্থাৎ ৫৫ মিনিটে, হেনেস বেহরেন্সের পাস থেকে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করে ডব্লিউডব্লিউকে অ্যারেনাকে উল্লাসে মাতান গ্রেগরিৎস্ক।
২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে লেভারকুসেন আক্রমণের ধারা বাড়ায়, যেখানে তারা পুরো ম্যাচে মোট ২৫টি শট নেয়।
ম্যাচ যখন আউগ্সবুর্গের জয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন ৮৯ মিনিটে লেভারকুসেনের বদলি স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিক দৃশ্যপটে হাজির হন। মালিক তিলমানের বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে আউগ্সবুর্গের জাল কাঁপান তিনি। ফলে নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা পায় বায়ার লেভারকুসেন।
পুরো ম্যাচে ৫৯ শতাংশ বল পজিশন এবং ১৪টি কর্নার আদায় করেও পূর্ণ ৩ পয়েন্ট না পাওয়ার আবেগ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে লেভারকুসেনকে।
অন্যদিকে ঘরের মাঠে দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জয় হাতছাড়া হলো এফসি আউগ্সবুর্গের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে গত কয়েক দিনে ৪৬ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাটির ইয়েমেন মিশনের প্রধান আবদুসসাত্তর এসোয়েভ সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে এই তথ্য অবহিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দিনে প্রায় ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাস্তুচ্যুতদের অধিকাংশই ইয়েমেনের অভ্যন্তরেই অন্য অঞ্চলে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তাৎক্ষণিকভাবে, তাইজ গভর্নরেটে মোচা শহরের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর অনেকে তাইজ শহর ও আশপাশের বিভিন্ন জেলায় আশ্রয় নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন বলে তিনি জানান।
এসোয়েভ বলেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হলো জরুরি আশ্রয়। সেইসাথে খাদ্য, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রয়োজনও রয়েছে। এসব মৌলিক সহায়তা প্রদান করার চেষ্টা করছে আইওএম।
ইয়েমেনে বর্তমান পরিস্থিতির আগেই, প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়ে ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। নতুন করে সংঘাত এবং তহবিল সংকটের কারণে দেশটির মানবিক পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (কর্ণফুলী ইপিজেড) দুই দশকের পথচলা পূর্ণ করেছে। ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই ইপিজেডের উদ্বোধন করেছিলেন। ২০ বছরের পথচলায় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্য রপ্তানি করেছে ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
২০০৬ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর পর কর্ণফুলী ইপিজেড থেকে প্রথম রপ্তানি শুরু হয় ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে। পাওলো ফুটওয়্যার (বিডি) লি. এ ইপিজেড থেকে প্রথম পণ্য রপ্তানি করে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৯.৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে রপ্তানির যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪,১৫৬.৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
কর্ণফুলী ইপিজেডের রপ্তানি কেবল গার্মেন্টসেই সীমাবদ্ধ নেই। গার্মেন্টসের বাইরে এখান থেকে রপ্তানি হচ্ছে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সামগ্রী, বাইসাইকেল, চামড়াজাত পণ্য, ফার্নিচার, ব্যাগ, আন্ডারগার্মেন্টস, ফ্যাশন ও সেফটি শুর মতো পণ্য, যা দেশের রপ্তানির ঝুড়িকে বৈচিত্র্যময় করেছে। বিশ্বের অন্যতম প্রখ্যাত ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হয় এসব পণ্য।
কর্ণফুলী ইপিজেডের ‘দুই দশকের রূপান্তর ও বিকাশ’ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আজ এ তথ্য জানানো হয়।
এ সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম স্টিল মিলসের জায়গায় গড়ে ওঠা কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (কর্ণফুলী ইপিজেড) দুই দশকের যাত্রার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
এ সময় কর্ণফুলী ইপিজেড-এর নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক, বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভির হোসেন, বেপজার নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) আনোয়ার পারভেজ, কম্পবেলি গ্লোবাল লিমিটেডের সিইও লি হেঙ্গো উপস্থিত ছিলেন।
কর্ণফুলী ইপিজেড-এর নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক বলেন, চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কর্ণফুলী নদীর তীরে একসময় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল চিটাগাং স্টিল মিলস লি.। কর্ণফুলী নদীতীরে কারখানাটির অবস্থান হওয়ায় ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে এর অভ্যন্তরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পশ্চাৎপদতা, উৎপাদন ব্যয়ের চাপ এবং ব্যবস্থাপনার নানা সমস্যার কারণে মিলটি ধীরে ধীরে লোকসানের মুখে পড়ে। ফলশ্রুতিতে ১৯৯৮ সালে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে লে-অফ ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৯৯৯ সালের ৭ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চিটাগং স্টিল মিলস লিমিটেড (সিএসএম) স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। ফলে বহু শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। যে এলাকায় প্রতিদিন হাজারো শ্রমিকের পদচারণা ছিল, সেখানে নেমে আসে নীরবতা। সমাপ্তি ঘটে চিটাগং স্টিল মিলসের।
তিনি জানান, তবে একটি সমাপ্তিই জন্ম দেয় আরেকটি শুরুর। এই অচলাবস্থা দূর করার জন্য তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী, বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চিটাগাং স্টিল মিলস লিমিটেডকে চট্টগ্রাম ইপিজেডের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পত্রের মাধ্যমে অনুরোধ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্টিল মিল এলাকার জমিতে ইপিজেড স্থাপন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পতেঙ্গার এই এলাকাকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বেপজার অধীনে শুরু হয় নতুনভাবে শিল্পায়নের উদ্যোগ।
২০০৪ সালে স্টিল মিলের জমি দুই ধাপে বেপজাকে হস্তান্তর করা হয়। প্রথম ধাপে ২০০৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ৭৪ একর এবং দ্বিতীয় ধাপে একই বছরের ২০ ডিসেম্বর ১৪৮.৪২ একর অর্থাৎ সব মিলিয়ে বিলুপ্ত চট্টগ্রাম স্টিল মিলসের সমুদয় জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বেপজার নিকট হস্তান্তর করা হয়। শুরু হয় রূপান্তরের প্রক্রিয়া। পুরোনো স্থাপনা সরিয়ে জমি উন্নয়ন করা হয়। সেই জায়গাতেই গড়ে ওঠে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল—কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (কর্ণফুলী ইপিজেড)। যেখানে আধুনিক অবকাঠামো, কারখানা, ইউটিলিটি সুবিধা একত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৬ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কর্ণফুলী ইপিজেড উদ্বোধন করেন।
নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশের বিনিয়োগকারী কর্ণফুলী ইপিজেডে বিনিয়োগ করেছে। দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চীন, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়া। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১.৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ নিয়ে যাত্রা শুরু করা কর্ণফুলী ইপিজেডে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮৭.৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এই ইপিজেডের ২৫৮টি শিল্পপ্লট (প্রতিটির আয়তন ২ হাজার বর্গমিটার), ৫টি স্ট্যান্ডার্ড ফ্যাক্টরি ভবন (মোট ফ্লোর স্পেস ৪৯ হাজার ৭৯৮ বর্গমিটার)-এর পুরোটাই ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কর্ণফুলী ইপিজেডে মোট ৪০টি প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে, যার মধ্যে ২৯টি শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন, তিনটি যৌথ মালিকানাধীন এবং বাকি ৮টি দেশীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ৫টি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিকের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান ও আরও প্রায় ১ লাখ মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে বলে তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা প্রাণনাশের হুমকি, মারধর এবং তাঁর সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা করার অভিযোগ করেছেন তাঁর একমাত্র ছেলে, দুই নাতি ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে। কুলসুম বেগম নামের ওই বৃদ্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান, নিজের ও দুই নাতনীর নিরাপত্তা নিয়ে তিনি চরম আতঙ্কে রয়েছেন। কুলসুম বেগম, বালিয়াকান্দি সদরের ওয়াপদা এলাকার মৃত পরশ উল্লাহর স্ত্রী।
১১ সেপ্টেম্বর বালিয়াকান্দি থানায় দেওয়া অভিযোগে কুলসুম বেগম বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে তাঁর ছেলে ইমান আলী সেখ তাঁকে প্রতিনিয়ত মারধর ও জীবননাশের চেষ্টা করতেন। একপর্যায়ে তিনি বাড়ীতে বসবাস করতে না পেরে পার্শ্ববর্তী নিজের নামে ৪৬ শতাংশ জমি কিনে সেখানে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। এর বিএস খতিয়ান নং ৫৫৭, এসএ রেকর্ড তাঁর নিজ নামেই রয়েছে।
অভিযোগের মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন, বিবাদীরা নিয়মিত কোনো কাজকর্ম করেন না এবং তাঁকে ভরণপোষণও দেন না। বরং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণে নিয়মিতভাবে টাকা নেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর দুই নাতনীর কাছ থেকেও সংসারের অভাব-অনটন ও সন্তানের চিকিৎসার কথা বলে টাকা নেওয়ার চেষ্টা হয়।
কুলসুম বেগমের অভিযোগ, তাঁর স্বামীর জীবদ্দশায় কষ্ট করে গড়ে তোলা সম্পত্তির বেশিরভাগই বিবাদীরা বিক্রি করে দিয়েছেন। তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জমি বিক্রি করে টাকা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁর ভোগদখলে থাকা বসতভিটায় ৪৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ জমি বিবাদীগণের অনুরোধে আর্থিক সাহায্য হিসেবে দুই নাতনী ফারজানা আক্তার ও শান্তার নামে রেজিষ্ট্রি করা হয়, প্রতি শতাংশ ভর্তি মোটা অংকের টাকা ইমান আলী, মিলন ও ইমরান নেয় দলিলের সাক্ষী ও শনাক্তকারী হিসেবে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিলন সেখ মাদকের টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ফারজানা আক্তারের নামে থাকা জমিতে নির্মিত একটি বসতঘর বিক্রি করে দেন। এ সময় কুলসুম বেগম ও তাঁর দুই নাতনী সেখানে গিয়ে ঘরটি বিক্রি না করার অনুরোধ করলে মিলন শেখ তাঁকে বুকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর ইমরান সেখ একটি ধারালো দা নিয়ে তাঁদের দিকে এগিয়ে আসেন বলে অভিযোগটি উঠে এসেছে। এ সময় বিবাদীরা প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অতীতেও বিবাদীগণের দ্বারা হুমকি ও মারধরের ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে কুলসুম বেগম ২০১৬ সালে একটি জিডি করেন, যার নম্বার ৭৩২।
এদিকে, বর্তমানে তাঁর নামীয় রেকর্ডীয় ও ভোগদখলীয় সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করা হয়েছে বলেও বৃদ্ধার অভিযোগ এসেছে। তিনি জানান, এ-সংক্রান্ত মামলার নোটিশ ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর এবং দুই নাতনীর নামে আদালত থেকে পাঠানো হয়েছে।
সর্বশেষ গত দুই দিন ধরে এবং ১১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে মিলন শেখ তাঁর পুকুরে মাছ ধরছেন এবং ইমরান সেখকে সেখানে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কুলসুম বেগম। প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি নিজের সম্পত্তিতেও যেতে পারছেন না বলেও জানান।
কুলসুম বেগমের আশঙ্কা, তাঁর ছেলে ও দুই নাতির উল্লেখযোগ্য আয়-রোজগার না থাকায় এবং তাঁর জীবিত থাকার কারণে বিবাদীরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে যেকোনো সময় হামলা করতে পারেন। তাই তিনি নিজের ও দুই নাতনীর জীবন এবং সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বৃদ্ধার নাতনী শান্তা খাতুন বলেন, “নানীর ভরণপোষণ আমরাই করি। তার ছেলে বা নাতি মিলন, ইমরান কোন প্রকার ভরণপোষণ দেয় না, উল্টো জমি আত্মসাতের চেষ্টা সহ বিভিন্ন সময় নানা ইস্যু তৈরি করে নানীর থেকে টাকা নেয়। মামা ও তার ছেলেরা তাদের সব জমি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়েছে, এখন নানী ও আমাদের সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছে। মিলন সেখ অতীতে তার দাদীকে মারধর করেছে, ইমরান সেখ আমাকেও মারধরের উদ্যেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।”
বৃদ্ধা কুলসুম বেগম বলেন, “আমাকে প্রতিনিয়ত মারধর করে বাড়ি ছাড়া করেছে, ছেলে কোনো কাজ কর্ম না করে সব সম্পত্তি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয় আমার থেকেই গ্রহণ করে। সবশেষ আমার বসতভিটার প্রায় ১৪ শতাংশ জমি আমার দুই নাতনী ফারজানা ও শান্তার নামে রেজিষ্ট্রি করার মাধ্যমে আমার ছেলে, মিলন ও ইমরান প্রায় অর্ধকোটি টাকা নেয়। এখন সে সব টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় সেই একই খতিয়ানের জমি আবার রেকর্ড সংশোধনের মামলা করে আমাকে ভিটা ছাড়ার চেষ্টা করছে মিলন ও ইমরান। আমার ছেলের কোনো হিতাহিত জ্ঞান নেই, ওরা টাকার পাগল।”
মায়ের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ইমান আলী সেখ বলেন, “আমি কিছু বলতো পারবো না, মিলন সব জানে, ওর সাথে কথা বলতে হবে।”
বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, “বৃদ্ধার অভিযোগের বিষয়টিতে অবগত আছি। তিনি একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন, যা দ্রæত তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতির প্রয়োজনে সরকার যদি চাইলে বিরোধী দল যেকোনো সময় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলে সাংগঠনিক সফরের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, বিরোধী দলও দায়িত্বহীন নয়। সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ের দায়িত্ব রয়েছে দেশের প্রতি। সুতরাং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার কাজে নিষ্ঠা সহযোগিতা করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য দেশে ও বিদেশে দক্ষ টেকনিক্যাল টিম রয়েছে। জাতির স্বার্থে এসব বিশেষজ্ঞদের সরকারের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হলেও, সরকার থেকে এখনো কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী তাদের একটি টিম গঠন করে প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা বলেছেন।
তিনি আরো বলেন, ছয় দফা জনদাবি নিয়ে তারা দ্বিতীয়বারের মতো রাজপথে নেমেছেন। কিন্তু আন্দোলনের নামে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা দেশের ক্ষতি করার উদ্দেশ্য তাদের নেই।
জনগণের সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দাবির আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা তিনি জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের জন্য আন্দোলন করে জনগণের ক্ষতি করতে চান না। একসময় সরকার জনগণের দাবি বিবেচনা করে মেনে নিতে বাধ্য হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ