প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা প্রাণনাশের হুমকি, মারধর এবং তাঁর সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা করার অভিযোগ করেছেন তাঁর একমাত্র ছেলে, দুই নাতি ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে। কুলসুম বেগম নামের ওই বৃদ্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান, নিজের ও দুই নাতনীর নিরাপত্তা নিয়ে তিনি চরম আতঙ্কে রয়েছেন। কুলসুম বেগম, বালিয়াকান্দি সদরের ওয়াপদা এলাকার মৃত পরশ উল্লাহর স্ত্রী।
১১ সেপ্টেম্বর বালিয়াকান্দি থানায় দেওয়া অভিযোগে কুলসুম বেগম বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে তাঁর ছেলে ইমান আলী সেখ তাঁকে প্রতিনিয়ত মারধর ও জীবননাশের চেষ্টা করতেন। একপর্যায়ে তিনি বাড়ীতে বসবাস করতে না পেরে পার্শ্ববর্তী নিজের নামে ৪৬ শতাংশ জমি কিনে সেখানে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। এর বিএস খতিয়ান নং ৫৫৭, এসএ রেকর্ড তাঁর নিজ নামেই রয়েছে।
অভিযোগের মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন, বিবাদীরা নিয়মিত কোনো কাজকর্ম করেন না এবং তাঁকে ভরণপোষণও দেন না। বরং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণে নিয়মিতভাবে টাকা নেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর দুই নাতনীর কাছ থেকেও সংসারের অভাব-অনটন ও সন্তানের চিকিৎসার কথা বলে টাকা নেওয়ার চেষ্টা হয়।
কুলসুম বেগমের অভিযোগ, তাঁর স্বামীর জীবদ্দশায় কষ্ট করে গড়ে তোলা সম্পত্তির বেশিরভাগই বিবাদীরা বিক্রি করে দিয়েছেন। তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জমি বিক্রি করে টাকা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁর ভোগদখলে থাকা বসতভিটায় ৪৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ জমি বিবাদীগণের অনুরোধে আর্থিক সাহায্য হিসেবে দুই নাতনী ফারজানা আক্তার ও শান্তার নামে রেজিষ্ট্রি করা হয়, প্রতি শতাংশ ভর্তি মোটা অংকের টাকা ইমান আলী, মিলন ও ইমরান নেয় দলিলের সাক্ষী ও শনাক্তকারী হিসেবে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিলন সেখ মাদকের টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ফারজানা আক্তারের নামে থাকা জমিতে নির্মিত একটি বসতঘর বিক্রি করে দেন। এ সময় কুলসুম বেগম ও তাঁর দুই নাতনী সেখানে গিয়ে ঘরটি বিক্রি না করার অনুরোধ করলে মিলন শেখ তাঁকে বুকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর ইমরান সেখ একটি ধারালো দা নিয়ে তাঁদের দিকে এগিয়ে আসেন বলে অভিযোগটি উঠে এসেছে। এ সময় বিবাদীরা প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অতীতেও বিবাদীগণের দ্বারা হুমকি ও মারধরের ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে কুলসুম বেগম ২০১৬ সালে একটি জিডি করেন, যার নম্বার ৭৩২।
এদিকে, বর্তমানে তাঁর নামীয় রেকর্ডীয় ও ভোগদখলীয় সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করা হয়েছে বলেও বৃদ্ধার অভিযোগ এসেছে। তিনি জানান, এ-সংক্রান্ত মামলার নোটিশ ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর এবং দুই নাতনীর নামে আদালত থেকে পাঠানো হয়েছে।
সর্বশেষ গত দুই দিন ধরে এবং ১১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে মিলন শেখ তাঁর পুকুরে মাছ ধরছেন এবং ইমরান সেখকে সেখানে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কুলসুম বেগম। প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি নিজের সম্পত্তিতেও যেতে পারছেন না বলেও জানান।
কুলসুম বেগমের আশঙ্কা, তাঁর ছেলে ও দুই নাতির উল্লেখযোগ্য আয়-রোজগার না থাকায় এবং তাঁর জীবিত থাকার কারণে বিবাদীরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে যেকোনো সময় হামলা করতে পারেন। তাই তিনি নিজের ও দুই নাতনীর জীবন এবং সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বৃদ্ধার নাতনী শান্তা খাতুন বলেন, “নানীর ভরণপোষণ আমরাই করি। তার ছেলে বা নাতি মিলন, ইমরান কোন প্রকার ভরণপোষণ দেয় না, উল্টো জমি আত্মসাতের চেষ্টা সহ বিভিন্ন সময় নানা ইস্যু তৈরি করে নানীর থেকে টাকা নেয়। মামা ও তার ছেলেরা তাদের সব জমি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়েছে, এখন নানী ও আমাদের সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছে। মিলন সেখ অতীতে তার দাদীকে মারধর করেছে, ইমরান সেখ আমাকেও মারধরের উদ্যেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।”
বৃদ্ধা কুলসুম বেগম বলেন, “আমাকে প্রতিনিয়ত মারধর করে বাড়ি ছাড়া করেছে, ছেলে কোনো কাজ কর্ম না করে সব সম্পত্তি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয় আমার থেকেই গ্রহণ করে। সবশেষ আমার বসতভিটার প্রায় ১৪ শতাংশ জমি আমার দুই নাতনী ফারজানা ও শান্তার নামে রেজিষ্ট্রি করার মাধ্যমে আমার ছেলে, মিলন ও ইমরান প্রায় অর্ধকোটি টাকা নেয়। এখন সে সব টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় সেই একই খতিয়ানের জমি আবার রেকর্ড সংশোধনের মামলা করে আমাকে ভিটা ছাড়ার চেষ্টা করছে মিলন ও ইমরান। আমার ছেলের কোনো হিতাহিত জ্ঞান নেই, ওরা টাকার পাগল।”
মায়ের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ইমান আলী সেখ বলেন, “আমি কিছু বলতো পারবো না, মিলন সব জানে, ওর সাথে কথা বলতে হবে।”
বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, “বৃদ্ধার অভিযোগের বিষয়টিতে অবগত আছি। তিনি একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন, যা দ্রæত তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন