শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৪০ পি.এম
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা প্রাণনাশের হুমকি, মারধর এবং তাঁর সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা করার অভিযোগ করেছেন তাঁর একমাত্র ছেলে, দুই নাতি ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে। কুলসুম বেগম নামের ওই বৃদ্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান, নিজের ও দুই নাতনীর নিরাপত্তা নিয়ে তিনি চরম আতঙ্কে রয়েছেন। কুলসুম বেগম, বালিয়াকান্দি সদরের ওয়াপদা এলাকার মৃত পরশ উল্লাহর স্ত্রী।
১১ সেপ্টেম্বর বালিয়াকান্দি থানায় দেওয়া অভিযোগে কুলসুম বেগম বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে তাঁর ছেলে ইমান আলী সেখ তাঁকে প্রতিনিয়ত মারধর ও জীবননাশের চেষ্টা করতেন। একপর্যায়ে তিনি বাড়ীতে বসবাস করতে না পেরে পার্শ্ববর্তী নিজের নামে ৪৬ শতাংশ জমি কিনে সেখানে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। এর বিএস খতিয়ান নং ৫৫৭, এসএ রেকর্ড তাঁর নিজ নামেই রয়েছে।
অভিযোগের মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন, বিবাদীরা নিয়মিত কোনো কাজকর্ম করেন না এবং তাঁকে ভরণপোষণও দেন না। বরং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণে নিয়মিতভাবে টাকা নেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর দুই নাতনীর কাছ থেকেও সংসারের অভাব-অনটন ও সন্তানের চিকিৎসার কথা বলে টাকা নেওয়ার চেষ্টা হয়।
কুলসুম বেগমের অভিযোগ, তাঁর স্বামীর জীবদ্দশায় কষ্ট করে গড়ে তোলা সম্পত্তির বেশিরভাগই বিবাদীরা বিক্রি করে দিয়েছেন। তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জমি বিক্রি করে টাকা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁর ভোগদখলে থাকা বসতভিটায় ৪৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ জমি বিবাদীগণের অনুরোধে আর্থিক সাহায্য হিসেবে দুই নাতনী ফারজানা আক্তার ও শান্তার নামে রেজিষ্ট্রি করা হয়, প্রতি শতাংশ ভর্তি মোটা অংকের টাকা ইমান আলী, মিলন ও ইমরান নেয় দলিলের সাক্ষী ও শনাক্তকারী হিসেবে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিলন সেখ মাদকের টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ফারজানা আক্তারের নামে থাকা জমিতে নির্মিত একটি বসতঘর বিক্রি করে দেন। এ সময় কুলসুম বেগম ও তাঁর দুই নাতনী সেখানে গিয়ে ঘরটি বিক্রি না করার অনুরোধ করলে মিলন শেখ তাঁকে বুকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর ইমরান সেখ একটি ধারালো দা নিয়ে তাঁদের দিকে এগিয়ে আসেন বলে অভিযোগটি উঠে এসেছে। এ সময় বিবাদীরা প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অতীতেও বিবাদীগণের দ্বারা হুমকি ও মারধরের ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে কুলসুম বেগম ২০১৬ সালে একটি জিডি করেন, যার নম্বার ৭৩২।
এদিকে, বর্তমানে তাঁর নামীয় রেকর্ডীয় ও ভোগদখলীয় সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করা হয়েছে বলেও বৃদ্ধার অভিযোগ এসেছে। তিনি জানান, এ-সংক্রান্ত মামলার নোটিশ ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর এবং দুই নাতনীর নামে আদালত থেকে পাঠানো হয়েছে।
সর্বশেষ গত দুই দিন ধরে এবং ১১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে মিলন শেখ তাঁর পুকুরে মাছ ধরছেন এবং ইমরান সেখকে সেখানে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কুলসুম বেগম। প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি নিজের সম্পত্তিতেও যেতে পারছেন না বলেও জানান।
কুলসুম বেগমের আশঙ্কা, তাঁর ছেলে ও দুই নাতির উল্লেখযোগ্য আয়-রোজগার না থাকায় এবং তাঁর জীবিত থাকার কারণে বিবাদীরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে যেকোনো সময় হামলা করতে পারেন। তাই তিনি নিজের ও দুই নাতনীর জীবন এবং সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বৃদ্ধার নাতনী শান্তা খাতুন বলেন, “নানীর ভরণপোষণ আমরাই করি। তার ছেলে বা নাতি মিলন, ইমরান কোন প্রকার ভরণপোষণ দেয় না, উল্টো জমি আত্মসাতের চেষ্টা সহ বিভিন্ন সময় নানা ইস্যু তৈরি করে নানীর থেকে টাকা নেয়। মামা ও তার ছেলেরা তাদের সব জমি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়েছে, এখন নানী ও আমাদের সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছে। মিলন সেখ অতীতে তার দাদীকে মারধর করেছে, ইমরান সেখ আমাকেও মারধরের উদ্যেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।”
বৃদ্ধা কুলসুম বেগম বলেন, “আমাকে প্রতিনিয়ত মারধর করে বাড়ি ছাড়া করেছে, ছেলে কোনো কাজ কর্ম না করে সব সম্পত্তি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয় আমার থেকেই গ্রহণ করে। সবশেষ আমার বসতভিটার প্রায় ১৪ শতাংশ জমি আমার দুই নাতনী ফারজানা ও শান্তার নামে রেজিষ্ট্রি করার মাধ্যমে আমার ছেলে, মিলন ও ইমরান প্রায় অর্ধকোটি টাকা নেয়। এখন সে সব টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় সেই একই খতিয়ানের জমি আবার রেকর্ড সংশোধনের মামলা করে আমাকে ভিটা ছাড়ার চেষ্টা করছে মিলন ও ইমরান। আমার ছেলের কোনো হিতাহিত জ্ঞান নেই, ওরা টাকার পাগল।”
মায়ের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ইমান আলী সেখ বলেন, “আমি কিছু বলতো পারবো না, মিলন সব জানে, ওর সাথে কথা বলতে হবে।”
বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, “বৃদ্ধার অভিযোগের বিষয়টিতে অবগত আছি। তিনি একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন, যা দ্রæত তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতির প্রয়োজনে সরকার যদি চাইলে বিরোধী দল যেকোনো সময় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলে সাংগঠনিক সফরের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, বিরোধী দলও দায়িত্বহীন নয়। সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ের দায়িত্ব রয়েছে দেশের প্রতি। সুতরাং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার কাজে নিষ্ঠা সহযোগিতা করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য দেশে ও বিদেশে দক্ষ টেকনিক্যাল টিম রয়েছে। জাতির স্বার্থে এসব বিশেষজ্ঞদের সরকারের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হলেও, সরকার থেকে এখনো কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী তাদের একটি টিম গঠন করে প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা বলেছেন।
তিনি আরো বলেন, ছয় দফা জনদাবি নিয়ে তারা দ্বিতীয়বারের মতো রাজপথে নেমেছেন। কিন্তু আন্দোলনের নামে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা দেশের ক্ষতি করার উদ্দেশ্য তাদের নেই।
জনগণের সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দাবির আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা তিনি জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের জন্য আন্দোলন করে জনগণের ক্ষতি করতে চান না। একসময় সরকার জনগণের দাবি বিবেচনা করে মেনে নিতে বাধ্য হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দীর্ঘ দুই বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের শিমরাইলকান্দি থেকে মেড্ডা এলাকা পর্যন্ত অংশে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্নস্থান থেকে আসা ৯টি নৌকা অংশ নেয়।
নৌকা বাইচ দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা তিতাস পাড়ে ভিড় জমান। এদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও দুপুরের পর থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। প্রতিযোগিতা শুরুর পর নদীর দুই তীর লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
দর্শনার্থী ইতালি প্রবাসী রনি আলম বলেন, নৌকা বাইচ আমাদের প্রাণের উৎসব। আমি ঢাকায় ছিলাম। বাইচ দেখতে আজ সকালে অনেক কষ্ট করে ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসেছি।
আরেক দর্শনার্থী আল আমিন শাহীন বলেন, নৌকা বাইচকে ঘিরে তিতাসপাড়ের মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। গোটা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আজ উৎসবমুখর। আমরা আনন্দিত। আমরা চাই প্রতি বছর এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হোক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বাসসকে বলেন, নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা এখানকার মানুষের প্রাণের উৎসব। আগামী বছর থেকে আরও জমজমাটভাবে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব বাসসকে বলেন, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং এখানকার সংস্কৃতি নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটা সাংস্কৃতিক রাজধানী। নৌকা বাইচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যেরই অংশ। মানুষ চায় প্রতিবছর নৌকা বাইচ হোক। আমরা আশা করি আগামী বছর থেকে নিয়মিতভাবে এটি আয়োজন করতে পারব।
প্রতিযোগিতায় প্রথমস্থান অর্জন করে সদর উপজেলার ক্ষমতাপুর গ্রামের শাপলা বয়েজ ক্লাবের নৌকা।
পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাবন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন চন্দ্র দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক ও সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ২০২৩ সালে তিতাস নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : ব্যস্ত সূচির মধ্যেও আগামী বছর নেপালের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে আগ্রহী বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে দুই দল প্রথমবারের মতো কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশ দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে, দুটিই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। তবে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দুই দল কখনো একে অপরের মুখোমুখি হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি বাংলাদেশের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) প্রস্তাবটিতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে সিরিজটি আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফীস বলেন, “বিসিবি ও নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে আলোচনা চলছে। আমাদের এফটিপি (ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম) ব্যস্ত সূচীতে ভরা। তারপরও এই চক্রের মধ্যে সুবিধাজনক একটি সময় বের করার চেষ্টা করছি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সিরিজটি হতে পারে।”
তিনি জানান, চলমান এফটিপি চক্রের মধ্যে সিরিজটি আয়োজন করতে দুই বোর্ডই আগ্রহী।
নাফীস বলেন, “আমরা এই চক্রের মধ্যেই সিরিজটি আয়োজন করতে চাই। নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনও অনুরোধ জানিয়েছে। আমরা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছি।”
সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে নেপাল। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের প্রতি সমর্থন জানানো এবং তাদের অনুপ্রাণিত করার উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব দেন নেপালের রাষ্ট্রদূত।
অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে বর্তমানে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।
চলতি মাসে এশিয়ান গেমস শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাবে। সেখানে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট এবং জিম্বাবুয়েকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে তারা।
এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি ক্যাম্প আগামীকাল রোববার মিরপুরে শুরু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খোলা হিসাবের সংখ্যা ২০২৬ সালের জুন শেষে বেড়ে ২৭.২২ মিলিয়নে দাঁড়িয়ে গেছে। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এই সংখ্যা ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ‘এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন, এপ্রিল-জুন ২০২৬’র তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত ৩০টি ব্যাংক ১৫ হাজার ৪২৪ জন এজেন্টের মাধ্যমে পরিচালিত ২০ হাজার ৫৯৭টি আউটলেটের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছিল। এ সময়ে এজেন্টের সংখ্যা ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আউটলেটের সংখ্যা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়েছে।
মোট ২ কোটি ৭২ লাখ ২৪ হাজার ২৫৬টি এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবের মধ্যে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৯১৮টি বা প্রায় ৫০ শতাংশ হিসাব নারীদের এবং আর ২ কোটি ৩০ লাখ ২৭ হাজার ৭৫৫টি হিসাব বা ৮৫ শতাংশ হিসাব গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকদের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এই সেবার চাহিদা বৃদ্ধির প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। প্রান্তিকে নারী গ্রাহকদের হিসাব ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা পুরুষ গ্রাহকদের হিসাব বৃদ্ধির তুলনায় বেশি।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমানতও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। জুন মাস শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১৯,০৭২.৯২ মিলিয়ন টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এ আমানত ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং এক বছর আগের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়েছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণে আরও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। জুন মাসের শেষে মোট ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০৮,৭০৩.৯৭ মিলিয়ন টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৪০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
জুনে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ঋণ-আমানত অনুপাত বেড়ে ৭৮ দশমিক ৭৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মার্চ মাসে ছিল ৭৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে ঋণ বিতরণের গতি বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে যুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ২৩টি ব্যাংক ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা মোট ঋণের ৬৪ দশমিক ১৭ শতাংশ বা ২৬২,২৬৩.৯৯ মিলিয়ন টাকা গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকরা লাভ করেছেন। তবে নারীরা পেয়েছেন মাত্র ৫২,০০২.০৬ মিলিয়ন টাকা বা মোট ঋণের ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ। এতে নারীদের ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানোর যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশে আসা রেমিট্যান্স বিতরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অব্যাহত রয়েছে। জুন মাসের শেষের দিকে এজেন্টদের মাধ্যমে বিতরণ করা মোট অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২,১৪৯.০৪১ মিলিয়ন টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এ পরিমাণ ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ১৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা মোট রেমিট্যান্সের ৯০ দশমিক ৪৪ শতাংশ গ্রামীণ এলাকার সুবিধাভোগীরা পেয়েছেন। এতে দেশের বড় শহরগুলোর বাইরের বসবাসকারী জনগণের কাছে রেমিট্যান্স পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত জনগণের কাছে ব্যাংকিং পরিষেবা পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ঋণ-আমানত অনুপাত বৃদ্ধির কারণে এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (সিএমএসএমই) এবং নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগণের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করছে।
এজেন্ট ব্যাংকিং উদ্যোক্তা হিসেবেও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২৮টি ব্যাংক ১ হাজার ৭৭৬ জন নারী উদ্যোক্তার মালিকানাধীন ২ হাজার ১০৬টি আউটলেটের মাধ্যমে সেবা প্রদান করছিল।
প্রতিবেদন তথ্য দিয়েছে যে, নারী উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন আউটলেটগুলো দেশের মোট এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের ১০ দশমিক ২২ শতাংশ গঠন করে। এসব আউটলেটে ২৩ লাখ ৪০ হাজার হিসাব রয়েছে, যার মধ্যে ১৯ লাখ ৪০ হাজার হিসাব গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকদের।
বাংলাদেশে ব্যাংক ২০১৩ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থা কার্যকর করে। এই ব্যবস্থা ভূগোলগতভাবে দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী জনগণের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর বিকল্প মাধ্যম হিসেবে এসেছে। এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে গ্রাহকরা আমানত, ঋণ, রেমিট্যান্স, বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধ এবং সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করতে সক্ষম হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ