০৭:৫২ পি.এম
গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক দাবি করেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শেষ দিনগুলোতে বিদেশি অপশক্তি ছাত্রনেতাদের নিয়ন্ত্রণ করেছিল।
তিনি শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত একটি সমাবেশে এই মন্তব্য করেন।
নুরুল হক বলেন, ‘জুলাই ছিল দল-মত-নির্বিশেষে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস। তবে আন্দোলনের শেষ পাঁচ-সাত দিনে আমাদের ছাত্রনেতাদের কেউ কেউ বিদেশি অপশক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। এমনকি কিছু বিদেশি দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাসায়ও তারা অবস্থান করেছিলেন।’
আরও পড়ুন: জ্বালানির দাম বাড়াল চীন
তিনি আরও দাবি করেন, ‘তখন থেকেই আন্দোলনের পরিচিত মুখগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছিল। আর এ কারণেই পরবর্তীকালে নির্বাচন প্রশ্নে সংকট তৈরি হলে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে সরব হয়েছিল।’
জুলাই আন্দোলনের একক রাজনৈতিক বয়ান তৈরির সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাইকে কোনো একক গোষ্ঠীর বয়ানে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। গত দুই বছর ধরে আমরা বলে আসছি, জুলাইকে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের বয়ানের মতো একক রাজনৈতিক ন্যারেটিভে রূপ দেয়া যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃত্রিম আখ্যান তৈরি করে জনমত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ভিপি নুর বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ভালো প্রার্থীদের ভোট ২০ শতাংশ আর ক্ষমতার লোভীদের ভোট ৮০ শতাংশ–এমন ভিত্তিহীন ন্যারেটিভ ছড়ানো হয়েছিল। কারা এটা করছে, তা চিহ্নিত করে চিরতরে সমাধান না করলে ভবিষ্যতে আরও বিভ্রান্তি তৈরি হবে।’
এছাড়া, অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থপরিপন্থি জেনেও একটি অনির্বাচিত সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেছিল, যা ওই নিয়ন্ত্রণকারীদের সম্মতিতেই হয়েছিল। অথচ এখন সেই চুক্তির দায় বিএনপির ওপর চাপানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: শিশু-তরুণ হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার ক্ষমা নেই: রিজভী
সমাবেশে নতুন দল এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কেও কথা বলেন ভিপি নুর। এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এনসিপির নেতারা আমাদের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। তবে তারা রাজনীতি শেখার ও বোঝার আগেই জামায়াতের পকেটে ঢুকে পড়েছে। এতে তারা নিজেরাই নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’ তিনি জামায়াতে ইসলামীকে প্রকাশ্য রাজনীতি করার আহ্বান জানান এবং সব ধরনের ‘গোপন রাজনৈতিক কার্যক্রম’ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।
একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেন নুর। তিনি বলেন, ‘আমরা জিয়াউর রহমানকে দেখিনি, বইপুস্তকে তার দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের কথা পড়েছি। তবে আজকের তারেক রহমানের মাটির মানুষ হিসেবে সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার কর্মকাণ্ডে আমরা জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।’
সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে রাজপথে হুংকার না দিয়ে সংসদীয় চর্চার আহ্বান জানান নুর। তিনি বলেন, ‘সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সংবিধান সংস্কার কমিটিতেও সব দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। তাই রাজপথে অহেতুক হুংকার না দিয়ে যে কোনো সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে সংসদ ও কমিটিতেই খুঁজে বের করতে হবে।’
সমাবেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতাকর্মী, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: সিরিয়ায় মার্কিন সেনা হত্যার বিষয়ে ইরানের দাবি অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন