০৮:৫২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে প্রতি বছর হাজারো দক্ষিণ কোরিয়ান শিক্ষার্থী পাড়ি জমান। কিন্তু এবার সেই স্বপ্নের পথে নতুন একটি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতি। স্টুডেন্ট ও এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীদের জন্য সর্বোচ্চ চার বছরের অবস্থানসীমা নির্ধারণ করায় কোরিয়ান শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ঘোষণা দিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসা এবং জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সর্বোচ্চ সময় হবে চার বছর।
এতদিন শিক্ষার্থীরা বৈধ ছাত্র-স্ট্যাটাস বজায় রাখলে পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারতেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই সুযোগটি আর থাকবে না।
আরও পড়ুন: মেক্সিকোতে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি করা হলো
চার বছরের বেশি সময় থাকতে হলে সংশ্লিষ্টদের নতুন করে আবেদন করতে হবে। তবে সরকার জানিয়েছে, কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পরই কেবল মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কিছু বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনার অজুহাতে অনির্দিষ্টকাল যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। নতুন নীতির মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের মূল লক্ষ্য হল পড়াশোনা শেষ করে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করা।
তবে এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং কর্মসূচি ঘিরে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে নিজ বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এক বছর এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত এসটিইএম বিষয়ে পড়ুয়ারা সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত এই সুবিধা পান।
শিকাগোতে নার্সিংয়ে অধ্যয়নরত ২৪ বছর বয়সি একজন দক্ষিণ কোরিয়ান শিক্ষার্থী দ্য কোরিয়া হেরাল্ডকে বলেন, “চার বছরের মধ্যে পড়াশোনা শেষ করা, নার্সিং লাইসেন্স পরীক্ষা পাস করা এবং চাকরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাস্তবে খুবই কঠিন। তার আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার শুরু করার আগেই হয়তো এখন তাকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে।”
আরও পড়ুন: জ্বালানির দাম বাড়াল চীন
শুধু বর্তমান শিক্ষার্থীরাই নন, যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন অনেক কোরিয়ান শিক্ষার্থীও নতুন নীতিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাদের আশঙ্কা, পড়াশোনার বিষয় পরিবর্তন, গবেষণার সময় বৃদ্ধি কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজগুলো শেষ করা সম্ভব নাও হতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ওয়াশিংটন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এফ-১ ভিসায় ১১ হাজার ৮৬১ জন দক্ষিণ কোরিয়ান শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে জে-১ ভিসায় ছিলেন ৭ হাজার ৯৮৫ জন কোরিয়ান নাগরিক।
নতুন নীতিতে বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আনা হয়েছে। I ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি সাংবাদিকরা একবারে সর্বোচ্চ ২৪০ দিন থাকতে পারবেন। এরপর আবার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। আর, চীনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে একবারে থাকার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯০ দিন।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নীতি শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নীতিটি কার্যকর হওয়ার আগে এবং পরে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক শিক্ষা অঙ্গনের।
আরও পড়ুন: শিশু-তরুণ হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার ক্ষমা নেই: রিজভী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন