রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:২৮ এম
সোমবার আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা হরমুজ চুক্তি সই করতে যাচ্ছেন।
ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর সেখানে বেশ কয়েকটি জাহাজ অপেক্ষমাণ অবস্থায় নোঙর করে আছে।
হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য ইরান ও ওমান একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তাদের এই সমঝোতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে আগামী সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওমানের রাজধানী মাসকাটে সম্মিলিতভাবে মিলিত হতে চলেছেন।
সেখানে তারা এ সংক্রান্ত চুক্তি সই করবেন বলছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। খবর পাওয়া গেছে আনাদোলু থেকে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-তে শনিবার প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান জানান, ‘সোমবার আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মাসকাটে মিলিত হবেন। হরমুজ প্রণালিতে ওমান ও ইরানের মধ্যে যৌথ নৌপথ চালুর চুক্তি স্বাক্ষর করা এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাকে (আইএমও) এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করাই এই বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য।’
তিনি আরো যোগ করেছেন, ‘যেসব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে আমাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে, সেই সব দেশও এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ ও ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক চাপের বিষয়ে পেজেশকিয়ান জানান, সামরিকভাবে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েই ওয়াশিংটন এখন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘তারা যুদ্ধের মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেনি, আর সে কারণেই তারা এখন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। কিন্তু আমরা দমে যাব না।’
ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রসঙ্গে ইরানি প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তার দেশ সমুদ্রপথের ওপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল নয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অস্তিত্ব যে কেবল সমুদ্রপথের ওপরই নির্ভরশীল, তা মোটেও সত্য নয়। এভাবেও তারা নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারবে না।’
এর আগে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, সোমবার একটি আঞ্চলিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করছে ওমান। সেখানে পারস্য উপসাগর সংলগ্ন আটটি দেশ অংশগ্রহণ করবে। বৈঠকে আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নিরাপদ পথ নির্ধারণ নিয়ে ইরান-ওমান আলোচনার ফলাফল আলোচনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক (স্বাক্ষরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত) আনোয়ার পারভেজ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বর্তমান কমিটি নিয়ে বলেছেন, আমার নিজের ইউনিটে এক মাসের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা ছিল। ২ মাস অতিবাহিত! অথচ কোনো নতুন নির্দেশনা নেই। একটি নতুন কমিটি অনুমোদন হলে সংগঠনের গতিশীলতা কিছুটা বৃদ্ধি পায়। অথচ ক্রমশ গতিশীলতা হ্রাস পাচ্ছে, লোকবল ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। কেন? এই ‘কেন’-এর উত্তর নিশ্চয় দায়িত্বশীলদের খুঁজে বের করা উচিত। সেটা ইউনিটের স্বার্থে।
তিনি ইবি শাখার উদাহরণ টেনে বলেন, ৩৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ১/৩, অর্থাৎ ১৩ জনও নিয়মিত নয় অথচ দীর্ঘদিনের রাজপথের সহযোদ্ধারা পদ বঞ্চিত। ২ মাসে নেই কোনো কর্মীসভা। (আমার জায়গা থেকে কেন্দ্রকে কমিটি পূর্ণাঙ্গের জন্য কয়েকবার অনুরোধ জানিয়েছি। কর্মীসভার জন্য কয়েকবার স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত তিনজন আলোচনা করে তারিখ ও সময় নির্ধারণ করেও অজানা কারণে কোনো কর্মীসভা হয়নি)। “Sample is a representative part of population.” আমার ইউনিটকে ব্যবহার করলাম স্যাম্পল হিসেবে। সরকার ও সংগঠন ভিন্ন। সংগঠন দুর্বল হলে সরকারও দুর্বল হয়ে যায়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সামগ্রিক দুর্বলকার কারণ উল্লেখ করে তিনি তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্টাটাসে এসব কথা বলেন।
তিনি তার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, নিজ সংগঠনের গঠনমূলক সমালোচনা করা আমার সাংগঠনিক গণতান্ত্রিক অধিকার। ২০১২ সাল থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ছাত্ররাজনীতি শুরু; ২০১২ সাল থেকেই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা। মোটামুটি লেখালেখি করার চেষ্টা করি। গতানুগতিক ধারার বাইরে চলা শুরু থেকেই, তাই হয়তো অনেকে কাঠি করার সুযোগ পেয়ে থাকেন। আমার লেখায় চেষ্টা করি সত্য ও বাস্তব চিত্র উপস্থাপন করার। যেটা বেশিরভাগ মানুষের সহ্য হয় না। তাই সত্য ও বাস্তব চিত্র উপস্থাপন হয়ে যায় অভিযোগ ও সংগঠনবিরোধী।
আমাদের সরকার মাত্র ৬ মাস অতিবাহিত করেছে। এর মধ্যেই ত্যাগী ও নির্যাতিতদের অবমূল্যায়ন! বিশেষ করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বেশি অন্যায় হয়েছে—এমন লেখালেখি ও অভিমত আছে।
তিনি সরকারের মেয়াদ উদাহরণ টেনে বলেন, সরকারের সময়ের বাকি এখনও ৪ বছর ৬ মাস, অর্থাৎ ৯/১০ অংশ বাকি। একটি কথা আছে, যেটা আমার প্রোফাইলের বায়োতে দেওয়া—‘বিন্দু থেকে বৃত্তে নয়, বৃত্ত থেকে বিন্দুতে।’ অর্থাৎ সমস্যার মূল আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে না পারলে সংগঠন ধ্বংস—আই রিপিট সংগঠন ধ্বংস। আমার ব্যক্তিগত অভিমত, প্রাণের সংগঠনকে দুর্বল করা হয়েছে ২০২০ সাল থেকে। তখন ছাত্রদলের বিভাগীয় প্রতিনিধি দল গঠন করে ঈমানি দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক। কিন্তু তাঁরা সেই ঈমানি দায়িত্বকে পুঁজি করে আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবককে তৃণমূলের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা বলে উপস্থাপন করে নিজেদের ধান্দা হাসিল করেছিলেন। আবার যখন আমাদের মাতৃসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়, তখন শুরু হলো বিশেষ মহলের প্রেসার ক্রিয়েট ও তদবির। অথচ ছাত্রদলকে দেখভাল করতে বললে সেই সকল বিশেষ মহলের কোনো রোল প্লে থাকে না। কমিটি গঠনের সময় তাদের ভাগ লাগবেই। ভাগ না পেলে তাদের রাজনীতি থাকবে না। আর তাদের ভাগের বলির পাঁঠা হয় যোগ্য ও ত্যাগীরা।
তিনি আরও বলেন, একবার ভেবে দেখেছেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক ইউনিট কমিটি অনুমোদনের সময় কতটা অসহায়ত্ব নিয়ে বলেন—“আমাদের হাত-পা বাঁধা, রাজনীতি করতে গেলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছু করার থাকে না—মনে কষ্ট রেখো না!” তার থেকেও অসহায়ত্ব নিয়ে বঞ্চিতরা আকাশের দিকে তাকিয়ে আস্তে আস্তে নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকে। এইভাবেই তৃণমূল দুর্বল হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় নেতাদের নাম উল্লেখ করে তিনি লিখেন, আমার প্রাণপ্রিয় ছাত্রসংগঠনের ক্যাপ্টেন, সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ভাই অক্লান্ত পরিশ্রম করে সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সাধারণ সম্পাদক নাছির ভাইও চেষ্টা করছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়—অনেক সময় নেতৃত্বের হাত-পা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতায় বাধা পড়ে যায়।তাই আমার মতো হতভাগা কর্মীরা তখনই আশাবাদী হই, যখন মনে হয়—আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেতা তারেক রহমান নিশ্চয়ই তৃণমূলের বাস্তবতা অনুধাবন করবেন।
প্রত্যাশা রেখে তিনি সবশেষে লিখেন, আমার বিশ্বাস, সংগঠনের স্বার্থে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন এবং সমস্যার মূল জায়গায় গিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিবেন এবং ছাত্রদল না করা বড় যোগ্য ও বড় মেধাবীদের বড় বড় চেয়ার, বড় উপদেষ্টা না বানিয়ে ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের মূল্যায়ন করবেন - ইনশাআল্লাহ। কারণ আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আয়ারল্যান্ডের প্রধান বিরোধী দল সিন ফেনের নেতা মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলা গণহত্যায় সহায়তা করা বন্ধ করতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফরের প্রেক্ষাপটে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) ম্যাকডোনাল্ড তার বিবৃতিতে বলেন, সিন ফেন প্রেসিডেন্ট আয়ারল্যান্ডের শান্তি প্রক্রিয়ায় মার্কিন ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। খবর প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, ‘ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান সহিংসতায় ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক মহলের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।’ এছাড়াও, ম্যাকডোনাল্ড ইসরায়েলি বাহিনীকে মার্কিন অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা দেওয়া অবিলম্বে বন্ধ করার তাগিদ দেন। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইসরায়েল যেভাবে দিনের পর দিন পার পেয়ে যাচ্ছে, তারও অবসান ঘটানোর দাবিতে তিনি বলেন।
ম্যাকডোনাল্ড আরও বলেন, ‘গত তিন দশক ধরে আয়ারল্যান্ডের নিজস্ব শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র একটি অত্যন্ত সফল অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে। ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আয়ারল্যান্ডের মতোই ইতিবাচক কূটনৈতিক ভূমিকা রাখবে।’
এছাড়া, বৈশ্বিক শান্তির এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে সরাসরি উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও তিনি অনুরোধ করেন। ফিলিস্তিন ইস্যুর পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রশংসা করেন সিন ফেন নেতা। তিনি বলেন, ‘আয়ারল্যান্ডের ঐক্যের আলোচনা এখন বাস্তব রূপ নিচ্ছে।’
ম্যাকডোনাল্ড বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে একটি শান্তিপূর্ণ ও পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় স্থানান্তরের প্রস্তুতি শুরু করার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার এলাকা থেকে একাধিক মামলার আসামি এবং ‘পেশাদার জুয়াড়ি’ বলে পরিচিত মো. ওসমান গনিকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবারের রাতের দিকে আকমল আলী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ওসমান গনি হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের মো. মনির হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি ইপিজেড থানার আকমল আলী রোড এলাকায় বসবাস করছিলেন এবং স্থানীয় হিসাবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশের তথ্যমতে, ওসমান গনি ইপিজেড থানার এলাকা একজন চিহ্নিত জুয়াড়ি হিসাবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে নির্জন ও দুর্গম স্থানে টাকার বিনিময়ে নিয়মিত জুয়ার আসর পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে জুয়ার ঘর নির্মাণ, জুয়াড়িদের প্ররোচিত করা এবং তাদের আশ্রয় দিয়ে নিয়মিত জুয়ার আসর পরিচালনার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সম্পূর্ণ তথ্য অনুসারে, গ্রেপ্তার ওসমান গনির বিরুদ্ধে ইপিজেড থানায় মোট ৩টি মামলা রুজু রয়েছে।
ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে জুয়ার আসর পরিচালনাসংক্রান্ত অভিযোগ ছিল। পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব প্রদান করে সারা দেশে লিফলেট বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রেডিও ও টেলিভিশনে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক কর্মসূচি বারবার প্রচারিত হবে বলে নেতৃত্বের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আজ রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের বৈঠকের তথ্য প্রকাশ করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
এ সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। এই সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের সঠিক বাস্তবায়নের ওপর আলোচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে মশারি প্রদান করা হবে। এটি একটি উদ্যোগ যা প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং ডেঙ্গু সংক্রমণের বিরুদ্ধে মানুষের রক্ষার্থে নিয়েছেন। সভায় অন্যান্য উদ্যোগ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
রুহুল কবির রিজভী জানালেন, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গার্লস গাইড, স্কাউটসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা এবং শিক্ষার্থীরা সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করার কাজ করবে।
তিনি বলেন, বিএনপি ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ঢাকাসহ পুরো দেশে একটি প্রচারপত্র বিতরণ করবে। দেশের স্বনামধন্য চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এই প্রচারপত্র প্রস্তুত করা হবে।
তিনি আরো বলেন, সামাজিক গণমাধ্যম, রেডিও ও টেলিভিশনে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান বারবার প্রচার করা হবে এবং দলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
রুহুল বলেন, ডেঙ্গু সচেতনতায় বিএনপি এবং সরকার যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সেগুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবগত করা হবে। এছাড়া, ডেঙ্গু প্রতিরোধে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সেগুলোও জনগণের কাছে প্রচার করা হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরো বলেন, স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ ও হাটবাজারে আবর্জনা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নিশ্চিত করা হবে।
এতে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে আবর্জনা ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে দল থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, যেসব দলীয় পদ শূন্য রয়েছে, সেগুলো পূরণের জন্য পর্যায়ক্রমে পরিচালনার কথা হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, কাউন্সিলের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনেক নেতা মারা গেছেন এবং সেসব শূন্য পদে কাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে তা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।
রুহুল কবির রিজভী জানালেন, দলের সাবেক মহাসচিব এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আসন শূন্য ঘোষিত হওয়ায় আগামী ২৯ অক্টোবর সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণের তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর দলের পল্টন কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে এবং ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে।
রুহুল কবির রিজভী বলেছিলেন, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় স্থায়ী কমিটি তথা দলের মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করছেন। আজও তিনি তিনটি জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং নির্দেশনা প্রদান করেন।
রুহুল কবির রিজভী আরো জানান, বর্তমানে দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হবে না। দলের প্রতীকে নির্বাচন হবে না। দল কোনো একজন ব্যক্তিকে সমর্থন করতে পারে। ইউপি চেয়ারম্যান পদে দল যাকে সমর্থন করবে, সকলের উচিত তার পক্ষে গিয়ে কথা বলা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বারবার সবাইকে নির্দেশনা দিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ