প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক (স্বাক্ষরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত) আনোয়ার পারভেজ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বর্তমান কমিটি নিয়ে বলেছেন, আমার নিজের ইউনিটে এক মাসের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা ছিল। ২ মাস অতিবাহিত! অথচ কোনো নতুন নির্দেশনা নেই। একটি নতুন কমিটি অনুমোদন হলে সংগঠনের গতিশীলতা কিছুটা বৃদ্ধি পায়। অথচ ক্রমশ গতিশীলতা হ্রাস পাচ্ছে, লোকবল ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। কেন? এই ‘কেন’-এর উত্তর নিশ্চয় দায়িত্বশীলদের খুঁজে বের করা উচিত। সেটা ইউনিটের স্বার্থে।
তিনি ইবি শাখার উদাহরণ টেনে বলেন, ৩৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ১/৩, অর্থাৎ ১৩ জনও নিয়মিত নয় অথচ দীর্ঘদিনের রাজপথের সহযোদ্ধারা পদ বঞ্চিত। ২ মাসে নেই কোনো কর্মীসভা। (আমার জায়গা থেকে কেন্দ্রকে কমিটি পূর্ণাঙ্গের জন্য কয়েকবার অনুরোধ জানিয়েছি। কর্মীসভার জন্য কয়েকবার স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত তিনজন আলোচনা করে তারিখ ও সময় নির্ধারণ করেও অজানা কারণে কোনো কর্মীসভা হয়নি)। “Sample is a representative part of population.” আমার ইউনিটকে ব্যবহার করলাম স্যাম্পল হিসেবে। সরকার ও সংগঠন ভিন্ন। সংগঠন দুর্বল হলে সরকারও দুর্বল হয়ে যায়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সামগ্রিক দুর্বলকার কারণ উল্লেখ করে তিনি তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্টাটাসে এসব কথা বলেন।
তিনি তার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, নিজ সংগঠনের গঠনমূলক সমালোচনা করা আমার সাংগঠনিক গণতান্ত্রিক অধিকার। ২০১২ সাল থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ছাত্ররাজনীতি শুরু; ২০১২ সাল থেকেই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা। মোটামুটি লেখালেখি করার চেষ্টা করি। গতানুগতিক ধারার বাইরে চলা শুরু থেকেই, তাই হয়তো অনেকে কাঠি করার সুযোগ পেয়ে থাকেন। আমার লেখায় চেষ্টা করি সত্য ও বাস্তব চিত্র উপস্থাপন করার। যেটা বেশিরভাগ মানুষের সহ্য হয় না। তাই সত্য ও বাস্তব চিত্র উপস্থাপন হয়ে যায় অভিযোগ ও সংগঠনবিরোধী।
আমাদের সরকার মাত্র ৬ মাস অতিবাহিত করেছে। এর মধ্যেই ত্যাগী ও নির্যাতিতদের অবমূল্যায়ন! বিশেষ করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বেশি অন্যায় হয়েছে—এমন লেখালেখি ও অভিমত আছে।
তিনি সরকারের মেয়াদ উদাহরণ টেনে বলেন, সরকারের সময়ের বাকি এখনও ৪ বছর ৬ মাস, অর্থাৎ ৯/১০ অংশ বাকি। একটি কথা আছে, যেটা আমার প্রোফাইলের বায়োতে দেওয়া—‘বিন্দু থেকে বৃত্তে নয়, বৃত্ত থেকে বিন্দুতে।’ অর্থাৎ সমস্যার মূল আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে না পারলে সংগঠন ধ্বংস—আই রিপিট সংগঠন ধ্বংস। আমার ব্যক্তিগত অভিমত, প্রাণের সংগঠনকে দুর্বল করা হয়েছে ২০২০ সাল থেকে। তখন ছাত্রদলের বিভাগীয় প্রতিনিধি দল গঠন করে ঈমানি দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক। কিন্তু তাঁরা সেই ঈমানি দায়িত্বকে পুঁজি করে আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবককে তৃণমূলের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা বলে উপস্থাপন করে নিজেদের ধান্দা হাসিল করেছিলেন। আবার যখন আমাদের মাতৃসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়, তখন শুরু হলো বিশেষ মহলের প্রেসার ক্রিয়েট ও তদবির। অথচ ছাত্রদলকে দেখভাল করতে বললে সেই সকল বিশেষ মহলের কোনো রোল প্লে থাকে না। কমিটি গঠনের সময় তাদের ভাগ লাগবেই। ভাগ না পেলে তাদের রাজনীতি থাকবে না। আর তাদের ভাগের বলির পাঁঠা হয় যোগ্য ও ত্যাগীরা।
তিনি আরও বলেন, একবার ভেবে দেখেছেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক ইউনিট কমিটি অনুমোদনের সময় কতটা অসহায়ত্ব নিয়ে বলেন—“আমাদের হাত-পা বাঁধা, রাজনীতি করতে গেলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছু করার থাকে না—মনে কষ্ট রেখো না!” তার থেকেও অসহায়ত্ব নিয়ে বঞ্চিতরা আকাশের দিকে তাকিয়ে আস্তে আস্তে নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকে। এইভাবেই তৃণমূল দুর্বল হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় নেতাদের নাম উল্লেখ করে তিনি লিখেন, আমার প্রাণপ্রিয় ছাত্রসংগঠনের ক্যাপ্টেন, সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ভাই অক্লান্ত পরিশ্রম করে সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সাধারণ সম্পাদক নাছির ভাইও চেষ্টা করছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়—অনেক সময় নেতৃত্বের হাত-পা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতায় বাধা পড়ে যায়।তাই আমার মতো হতভাগা কর্মীরা তখনই আশাবাদী হই, যখন মনে হয়—আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেতা তারেক রহমান নিশ্চয়ই তৃণমূলের বাস্তবতা অনুধাবন করবেন।
প্রত্যাশা রেখে তিনি সবশেষে লিখেন, আমার বিশ্বাস, সংগঠনের স্বার্থে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন এবং সমস্যার মূল জায়গায় গিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিবেন এবং ছাত্রদল না করা বড় যোগ্য ও বড় মেধাবীদের বড় বড় চেয়ার, বড় উপদেষ্টা না বানিয়ে ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের মূল্যায়ন করবেন - ইনশাআল্লাহ। কারণ আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন