রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫৫ এম
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে একটি ড্রেন থেকে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় একটি নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ধারণা করা হচ্ছে, কিছুদিন আগে কেউ না কেউ শিশুটিকে সেখানে ফেলে রেখে গেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্থানীয় লোকজন মরদেহটি দেখতে পান।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, উপজেলার আদর্শ বি.এল হাই স্কুলের প্রায় ৫০ মিটার পূর্ব দিকের একটি ড্রেনে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতকটির মরদেহ পড়ে ছিল।
স্থানীয়দের ধারণা, কয়েকদিন আগে শিশুটিকে ওই স্থানে ফেলে রাখা হয়েছিল।
তবে তখন বিষয়টি কারও নজরে আসেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী মমেনা বেগম বলেন, "আমার বাড়ির সামনেই শিশুটির মরদেহ পড়ে ছিল। বিকেলে আমিসহ কয়েকজন মরদেহটি দেখতে পাই। পরে আমরা আশপাশের লোকজনকে এই বিষয়ে জানাই।"
এ বিষয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, "প্রাথমিকভাবে এটি অকাল গর্ভপাতের ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।"
তিনি উল্লেখ করেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে ধারাবাহিক নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ওঠান বৈঠক করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মারশাফি বিন মর্তুজা আনোয়ার। নির্বাচিত হলে তিনি একটি শান্তিপূর্ণ বাসযোগ্য ও মডেল ডিজিটাল ইউনিয়ন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
১২ সেপ্টেম্বর বিকালে ৪ নং আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডের ছমুয়ার দোকান বাজারে ধনকুরা ও দীপেশ্বর গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে এক ওঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধনকুড়া গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছমির উদ্দিন। এতে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি সদস্য আলামিন, ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জজ মিয়া, প্রবীণ গন্যমান্য ব্যক্তি গোলাম রব্বানী, মফিজ উদ্দিন, রহমত আলী সহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
উঠান বৈঠকে উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার বলেন “আমি আপনাদেরই ভাই-ভাতিজা। আপনাদের চোখের সামনেই ছোট থেকে বড় হয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে আপনাদের সেবায় নিয়োজিত আছি। আমার ভালো-মন্দ সবকিছুই আপনারা জানেন। এলাকার দশজন ব্যক্তির মধ্যে ৮ জন যদি আমার সম্পর্কে ভালো মন্তব্য করেন, তবেই আমাকে ভোট দিয়ে আপনাদের সেবার সুযোগ দেবেন।
আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হলে সকলকে সাথে নিয়ে ৪ নং আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদকে একটি আধুনিক ও মডেল ডিজিটাল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন আমাদের নেতা। তিনি ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনায় আবারও আসলে সাধারণ মানুষের ভাগ্যন্নয়নে বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবেন।
আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। আশা করছি আমার সততা, নিষ্ঠা ও জনপ্রিয়তা বিবেচনা করে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।
আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের বিদ্যমান নানা সমস্যা তুলে ধরে প্রার্থী আনোয়ার বলেন, “আয়তনের দিক থেকে আড়াইবাড়িয়া ছোট ইউনিয়ন হলেও এটি অন্যতম। এটি বর্তমানে নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ও নাগরিক সেবার যে অভাব রয়েছে— জনগণ সুযোগ দিলে সেসব সমস্যা দূর করে একটি আধুনিক বাসযোগ্য ও সুন্দর মডেল ডিজিটাল ইউনিয়ান উপহার দেওয়াই হবে আমার মূল লক্ষ্য।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে ভাতিজা হত্যার আড়াই মাসের মাথায় রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে রবি (৫৫) নামে এক চাচাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তিনি কাশিয়ানী সদর বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন। এ ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও তিনজন আহত হয়েছেন। নিহত রবি গত ২৬ জুন একই গ্রামের যে যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, সেই সুমন শেখের চাচা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রবি আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে।
হামলায় আহতরা হলেন—মোক্তার বিশ্বাস (৫৫), হৃদয় শেখ (২১) ও লিটন খান (৪০)। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে মোক্তার বিশ্বাস ও হৃদয় শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে কাশিয়ানী সদর বাজারের চায়ের দোকান বন্ধ করে রবি একই এলাকার আরও তিনজনের সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। তাঁরা কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র লোক তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
এ সময় হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের ওপর আঘাত করে। এতে রবি গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। হামলায় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও তিনজন আহত হন।
এর আগে চলতি বছরের ২৬ জুন সন্ধ্যায় একই ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া গ্রামের উকিল শেখের বাড়ির সামনে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় সুমন শেখ (২৪) নামে এক কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সুমন ছিলেন আলাউদ্দিন শেখের ছেলে এবং কাশিয়ানী এম.এ. খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। এ হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গ্রাম্য বিরোধ চলে আসছে। প্রায় চার বছর ধরে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা ও মামলা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুমনকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুমন হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর সম্প্রতি জামিনে বের হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। তাঁদের জামিনে বের হওয়ার পর এলাকায় ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। এর মধ্যেই এবার সুমনের চাচা রবিউল ইসলাম রবি হত্যার শিকার হলেন।
তবে জামিনে থাকা ব্যক্তিদের কেউ রবিউল হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সুমন হত্যার পরও দুই পক্ষের বিরোধ ও উত্তেজনা থামেনি। বরং এলাকায় পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। এর মধ্যে রবিউল হত্যার ঘটনায় বড়ভাগসহ আশপাশের এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সুমন হত্যার পর থেকেই তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। তাঁদের দাবি, আগের হত্যাকাণ্ডের জের অব্যাহত থাকায় শেষ পর্যন্ত সুমনের চাচা রবিউল ইসলামকেও প্রাণ দিতে হলো।
ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা সার্কেল) মাসুদুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার কারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে, আড়াই মাসের ব্যবধানে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে চাচা-ভাতিজা দুজন নিহত হওয়ায় বড়ভাগ গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের বড় বাগান এলাকায় ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও বিভিন্ন ধরনের চার্জ আরোপের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ট্রান্সফরমারটি বিদ্যুৎ অফিসের ব্যবস্থাপনায় সংযুক্ত করা হয়েছিল। সম্প্রতি ওই ট্রান্সফরমারটি পুড়ে যাওয়ার পর নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়। এরপর থেকেই বিদ্যুৎ বিলের কাগজে বিভিন্ন গ্রাহকের নামে বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত করে বিল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।গ্রাহকদের দাবি, বিগত সময়ে তারা প্রতি মাসে ৬০০, ৭০০, ৯০০ কিংবা সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছিলেন। কিন্তু নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের পর কোনো কোনো গ্রাহকের নামে ৩ হাজার, ৪ হাজার, ৬ হাজার এমনকি ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।গ্রাহকদের ভাষ্য, ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ার কারণে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। এটি বিদ্যুৎ অফিসের ব্যবস্থাপনার বিষয় হলেও এখন সেই কারণে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের পর থেকেই বিলের কাগজে বিভিন্ন গ্রাহকের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত চার্জ দেখা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।এ বিষয়ে কয়েকজন গ্রাহক বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের বলেন বলে দাবি করেছেন, “আপনারা নতুন ট্রান্সফরমার লাগিয়েছেন, এ কারণে আপনাদের এই চার্জ দিতে হবে। আর এই টাকা পরিশোধ না করলে আপনাদের নামে মামলা হবে।গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এমন বক্তব্য শোনার পর থেকেই তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—আগে যেখানে একই ধরনের বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মাসে ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল আসত, সেখানে হঠাৎ করে কয়েক হাজার টাকা বিল আসার কারণ কী?গ্রাহকদের আরও দাবি, অতিরিক্ত বিলের টাকা পরিশোধ করার পর পরবর্তীতে সেই অর্থ সমন্বয় বা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও তা দীর্ঘ সময় পরে ফেরত দেওয়া হতে পারে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের আর্থিক ভোগান্তিতে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।স্থানীয় গ্রাহকরা বিষয়টি তদন্ত করে অতিরিক্ত বিল ও চার্জ আরোপের প্রকৃত কারণ স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিল নির্ধারণ এবং অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তা দ্রুত সমন্বয় বা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ