শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৫৯ পি.এম
রাজধানী সানায় ফিরে গেছেন দুই শতাধিক ইয়েমেনি বন্দি, যারা সৌদি সমর্থিত কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তি পাওয়ার পর তাঁরা সানায় পৌঁছানোর পর উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেন। এই বন্দিরা মুক্তি পেয়েছেন ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর হাতে চলে আসা পশ্চিমাঞ্চলের কৌশলগত এলাকা মোখা, ধুবাব ও তায়েজের নিয়ন্ত্রণের পর। বন্দি বিষয়ক কমিটির পক্ষ থেকে এ উপলক্ষে একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনও আয়োজন করা হয়।
তিনি আরও জানান, বন্দি বিষয়ক কমিটির প্রধান আবদুল কাদির আল-মুর্তাদা মুক্তিপ্রাপ্ত ২১০ জন বন্দির সম্পর্কে জানান যে, তারা একটি বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ ছিলেন, যা পূর্বে চূড়ান্ত হলেও প্রতিপক্ষের অসহযোগিতার কারণে আটকে গিয়েছিল। সৌদি সমর্থিত বাহিনীর শক্তপোক্ত অবস্থান ভেঙে তাদের মুক্ত করা হয়েছে ‘আল্লাহ শক্তির দিক থেকে শক্তিশালী ও শাস্তিতে কঠোর’ নামে একটি সফল সামরিক অভিযান চালিয়ে। এই মুক্তিপ্রাপ্ত ইয়েমেনিরা গত পাঁচ থেকে আট বছর ধরে কারাবন্দি ছিলেন এবং অনেকের বিরুদ্ধে সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছিল।
এছাড়া, হুতির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি একজন বিবৃতিতে পশ্চিমাঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সাফল্যের বিস্তারিত তুলে ধরেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ওই অভিযানে তায়েজ ও হুদায়দা গভর্নরহাটের ছয়টি জেলার প্রায় ৫ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা সৌদি সমর্থিত বিদেশি শক্তির কবল থেকে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযানের ফলে কৌশলগত করবে এল-মান্দেব প্রণালী, ময়ুন দ্বীপ এবং মোখাসহ আশপাশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ক্যাম্প ও ঘাঁটি সম্পূর্ণভাবে ইয়েমেনি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নবনির্মিত ‘শহীদ আবরার ফাহাদ হল’ উদ্বোধন করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর গুলশানস্থ কার্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সাক্ষাৎকালে উপাচার্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন, যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম, উন্নয়ন ও অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে নবনির্মিত ‘শহীদ আবরার ফাহাদ হল’ উদ্বোধনের জন্য আমন্ত্রণ জানান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রীর কুষ্টিয়া জেলা সফর রয়েছে। আজ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, কুষ্টিয়া সফরের অংশ হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত হলটি উদ্বোধন করার জন্য তিনি রাজি হয়েছেন। আশা করি, আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকবেন।’
সাক্ষাৎকালে উপাচার্য প্রধানমন্ত্রীকে সৌজন্য উপহার হিসেবে তার রচিত কয়েকটি বই দেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্তকরেন। উপাচার্যের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ সাক্ষাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউড অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেলের বাড়িতে চুরির অভিযোগ উঠেছে। মুম্বাইয়ের চার্চগেট এলাকার ওই বাড়ি থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের সোনা ও হিরের গয়না চুরি যাওয়ার অভিযোগে এক পরিচারিকাকে গ্রেফতার করেছে মুম্বাই পুলিশ। চুরি যাওয়া গয়না উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চার্চগেটের ওই বাড়িতে আমিশার মা আশা প্যাটেল থাকতেন। সেখানে প্রায় দেড় বছর ধরে কাজ করছিলেন ৪০ বছর বয়সী সীমা ঘাটে। তিনি পালঘরের বাসিন্দা।
অভিযোগ, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ওই বাড়ি থেকে হিরে বসানো একটি সোনার বালা চুরি হয়। বালাটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। ঘটনার পর থেকেই আমিশার মায়ের সন্দেহের তালিকায় ছিলেন ওই পরিচারিকা।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে আশা প্যাটেল সীমাকে গয়নাটি ফেরত দেওয়ার জন্য বলছিলেন। একই সঙ্গে চুরির কথা স্বীকার করার জন্যও তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু গয়নাটি ফেরত না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি।
অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে মেরিন ড্রাইভ থানার পুলিশ। তদন্তের পর সীমাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে তোলা হলে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে চুরি যাওয়া গয়নাটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গয়নাটি উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত সীমার বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের অভিযোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন।
ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে এসে তিনি এনডিটিভিকে একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের ‘উপনিবেশ স্থাপন’ বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গাজায় ইসরায়েলের ধারাবাহিক বোমাবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না।
আনোয়ার ইব্রাহিম মন্তব্য করেছেন, হামাসের বয়স মাত্র ২০ বছর। কিন্তু ফিলিস্তিনে উপনিবেশ স্থাপনের ইতিহাস প্রায় ৭০ বছরের। তাঁর কথায়, মালয়েশিয়া এবং ভারত উভয় দেশই উপনিবেশবাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত। এজন্য ইসরায়েলের হাতে ফিলিস্তিনের উপনিবেশ স্থাপনকে তিনি মেনে নেওয়া যায় না বলছেন।
তিনি আরও বলেন, গাজায় অব্যাহত বোমাবর্ষণ এবং মানুষ হত্যার ঘটনাগুলো অত্যন্ত নৃশংস। আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁর ভাষায় বলছেন, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘সার চাওয়া কি আমাগরে অপরাধ?’—এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার করা মামলার পর এই প্রশ্ন ওঠে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ কৃষকদের মধ্যে গ্রেপ্তার এবং হয়রানির আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর সকালে, উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের গনাইয়েরকুটি মৌজায় বিএডিসি সার ডিলার মেসার্স আফি সার ঘরের গুদামে সার বিতরণকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানে ডিএপি ২৩৫, টিএসপি ৯৫ ও এমওপি ১৫৭ বস্তাসহ মোট ৪৮৭ বস্তা সার মজুদ ছিল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল জব্বার কৃষকদের চাহিদা পূরণে আরও ১০০ বস্তা ডিএপি আনার ব্যবস্থা করেন।
এজাহারে কৃষি কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ওই দিন বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে আসামিরা আরও ৫০-৬০ জনের সঙ্গে তাঁকে আক্রমণের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ করে এগিয়ে আসেন। পরে, পুলিশ ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সময় তাঁকে এবং সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কিল-ঘুষি মেরে জখম করা হয়। তাঁদের একটি ঘরে আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি এবং সার বিতরণে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে, বাঁশ ও পাটখড়ি দিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়।
খবর পেয়ে ইউএনও ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষি কর্মকর্তা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্ধার করেন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে কৃষি কর্মকর্তা ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করেন। মামলার ১১ নামীয় আসামি হলেন—মোঃ সুলতান মিয়া, মোঃ নুরু মিয়া, মোঃ আশিকুর রহমান ছোটন, মোঃ মিলন মিয়া, মোঃ আল আমিন মোল্লা, মোঃ সুরুজ মিয়া, মোঃ হান্নান মিয়া, মোঃ আঃ ছালাম, মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ মোস্তাক আলী ও মোঃ আসলাম হোসেন। তাঁদের পিতার নাম ও ঠিকানা এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন মোঃ আমজাদ হোসেন, মোঃ মানিক মিয়া এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও মোঃ শাহানুর আলম। এজাহার অনুযায়ী, দর্শকদের উপস্থিতিতে পুলিশ কৃষি কর্মকর্তা ও অন্যদের উদ্ধার করে।
মামলার পর স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কৃষকদের দাবি, তাঁরা সার নিতে ও চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়ার দাবিতে সেখানে গিয়েছিলেন। এখন অজ্ঞাতনামা আসামি করায় নিরীহ কৃষকেরাও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি যোগ করেছেন, নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না। সাধারণ কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ