প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
‘সার চাওয়া কি আমাগরে অপরাধ?’—এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার করা মামলার পর এই প্রশ্ন ওঠে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ কৃষকদের মধ্যে গ্রেপ্তার এবং হয়রানির আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর সকালে, উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের গনাইয়েরকুটি মৌজায় বিএডিসি সার ডিলার মেসার্স আফি সার ঘরের গুদামে সার বিতরণকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানে ডিএপি ২৩৫, টিএসপি ৯৫ ও এমওপি ১৫৭ বস্তাসহ মোট ৪৮৭ বস্তা সার মজুদ ছিল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল জব্বার কৃষকদের চাহিদা পূরণে আরও ১০০ বস্তা ডিএপি আনার ব্যবস্থা করেন।
এজাহারে কৃষি কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ওই দিন বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে আসামিরা আরও ৫০-৬০ জনের সঙ্গে তাঁকে আক্রমণের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ করে এগিয়ে আসেন। পরে, পুলিশ ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সময় তাঁকে এবং সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কিল-ঘুষি মেরে জখম করা হয়। তাঁদের একটি ঘরে আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি এবং সার বিতরণে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে, বাঁশ ও পাটখড়ি দিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়।
খবর পেয়ে ইউএনও ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষি কর্মকর্তা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্ধার করেন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে কৃষি কর্মকর্তা ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করেন। মামলার ১১ নামীয় আসামি হলেন—মোঃ সুলতান মিয়া, মোঃ নুরু মিয়া, মোঃ আশিকুর রহমান ছোটন, মোঃ মিলন মিয়া, মোঃ আল আমিন মোল্লা, মোঃ সুরুজ মিয়া, মোঃ হান্নান মিয়া, মোঃ আঃ ছালাম, মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ মোস্তাক আলী ও মোঃ আসলাম হোসেন। তাঁদের পিতার নাম ও ঠিকানা এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন মোঃ আমজাদ হোসেন, মোঃ মানিক মিয়া এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও মোঃ শাহানুর আলম। এজাহার অনুযায়ী, দর্শকদের উপস্থিতিতে পুলিশ কৃষি কর্মকর্তা ও অন্যদের উদ্ধার করে।
মামলার পর স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কৃষকদের দাবি, তাঁরা সার নিতে ও চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়ার দাবিতে সেখানে গিয়েছিলেন। এখন অজ্ঞাতনামা আসামি করায় নিরীহ কৃষকেরাও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি যোগ করেছেন, নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না। সাধারণ কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন