রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৪ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালীতে কাউখালীতে কে, জি ইউনিয়ন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকটে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অবস্থান করলেও নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না। অনেক দিন দু-একটির বেশি ক্লাস না হওয়ায় পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মাদক, জুয়া ও ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগে পাঁচজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চললেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বদলি হয়ে ঢাকায় চলে যাওয়ার পর শিক্ষকসংখ্যা কমে চার জনে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এই অল্পসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে পরিচালনা করতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান করেও নিয়মিত ক্লাস পাওয়া যায় না। তাদের দাবি, প্রতিদিন অন্তত ছয়টি ক্লাসে শিক্ষক উপস্থিত থেকে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা আরও বলে, আমরা নকলের বিরুদ্ধে এবং মানসম্মত শিক্ষার পক্ষে। না পড়ে শুধু সনদ নিয়ে কী করব? শিক্ষকের অভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হলে তার দায় কে নেবে?
অভিভাবক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক সংকটের কথা সংশ্লিষ্ট দপ্তর সহ বিভিন্ন স্থানে অবগত করা সত্ত্বেও সমাধানের আশ্বাস দিলেও বছর পার হয়ে গেছে। এখনো কোনো শিক্ষক যোগদান করেননি। উল্টো শিক্ষকসংখ্যা কমে চারজনে নেমেছে। তাঁরা অবিলম্বে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিভাবক ও সংবাদকর্মী এনামুল হক বলেন, বিদ্যালয়টিতে ১৭টি শিক্ষকের পদ থাকলেও মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চালানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে বর্তমানে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন হালদার জানান, ২২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর পদের বিপরীতে মাত্র চার জন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কর। বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) বরিশাল অঞ্চলের উপপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে একটি সরকারি বিদ্যালয় পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টকর। আমরা বিষয়টি অনুধাবন করছি। দ্রুত শিক্ষক পদায়নের জন্য আজ আবারও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকার মূল্যের ৪০ ভরি সোনা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ কনস্টেবল জাকিরসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এসময় ছিনিয়ে নেওয়া সোনার সাড়ে ২০ ভরি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সোনা উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিঝুম মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে কনস্টেবল জাকির হোসেনকে একটি আসামি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও আরো দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং একজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর রাতেই এজাহারভুক্ত আসামি কনস্টেবল জাকির হোসেন এবং বাদীর দুলাভাই মোহাম্মদ আলীকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকেই রাতে সাড়ে ২০ ভরি সোনা উদ্ধার করে পুলিশ।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কনস্টেবল জাকির হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন। তার আবাস রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে। গত ৮ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কালীনগর ব্রিজের পাশে সোনা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গলিত অবস্থায় থাকা ৪০ ভরি সোনা রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর কাছে পাঠিয়েছিলেন ব্যবসায়ী নিঝুম।
স্বর্ণের চালানটি রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে যান নিঝুমের দুলাভাই মোহাম্মদ আলী। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের চকআলমপুরে।
পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেন মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. নয়নের বন্ধু। মোহাম্মদ আলী যখন সোনার চালানটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওই ব্যবসায়ীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার দুই মিনিটের মধ্যেই কনস্টেবল জাকিরসহ দুজন সেখানে হাজির হন। পরে অভিযোগ রয়েছে যে পুলিশ পরিচয়ে তারা ওই সোনা নিয়ে চলে যান।
এরপর এক মাসের ছুটি নিয়ে কনস্টেবল জাকির হোসেন গ্রামের বাড়িতে চলে যান। ছুটি শেষ হওয়ার পর কয়েক দিন আগে তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেন। পরে তাকে প্রত্যাহার করা হয় এবং পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। মামলা হওয়ার পর পুলিশ লাইন্স থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ জানিয়েছেন, কনস্টেবল জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করার চিঠিও প্রস্তুত করা হয়েছে। পুলিশ সুপার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় থাকার কারণে তিনি ফিরে আসার পর সাময়িক বরখাস্তের আদেশে সই করবেন।
এছাড়া মোহাম্মদ আলী তার কাছে থাকা সোনা বের করে দিলেও কনস্টেবল জাকির হোসেন এখনও বাকি সোনা দেননি। ওই সোনা উদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন ডা. এস এম মনজুর-এ-এলাহীর নিয়োগ বাতিলের দাবিতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মূল ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ‘সচেতন ছাত্র সমাজ’-এর ব্যানারে আন্দোলনকারীরা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং নবনিযুক্ত সিভিল সার্জনের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন রাজেন্দ্র কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খাইরুল ইসলাম রোমান এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি কাজী রিয়াজ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ডা. এস এম মনজুর-এ-এলাহী অতীতে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ ছিলেন। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা অবিলম্বে এ নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীরা ডা. এস এম মনজুর-এ-এলাহীকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে তাঁর নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বক্তারা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ বাতিল করা না হলে তারা আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
তবে আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ডা. এস এম মনজুর-এ-এলাহী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া রাজকীয় নৈশভোজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যোগ দেননি। ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের সম্মানে এই নৈশভোজটি গত শনিবার আয়োজন করা হয়েছিল।
সম্মেলনের কর্মসূচির সমাপ্তির আগেই তিনি নিজ দেশে ফিরে যাওয়ায় নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন না আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদও।
তবে, শনিবার সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করা শি জিনপিং কেন নৈশভোজে অনুপস্থিত ছিলেন, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি এখনও। একটি সূত্র জানায়, বিশ্রামের জন্য হোটেলে ফিরে গিয়েছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট।
এছাড়া, নৈশভোজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ব্রিকসের অন্যান্য নেতারা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
গত ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ব্রিকস সম্মেলন আজ ১৩ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে। ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ১১টি সদস্য দেশ এবং ১০টি অংশীদার দেশের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেছেন।
সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সরকার নাগরিকের বাকস্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রতিটি নাগরিকের মতপ্রকাশ ও গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার রয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যে গঠনমূলক সমালোচনা রয়েছে, তা আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চরিত্রহননের সঙ্গে ইঙ্গিত করা উচিত নয়।
রবিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি সামনে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক কর্মীরা বর্তমানে সাইবার বুলিং এবং সংগঠিত অপপ্রচারের কারণে হয়রানি ও মানহানির শিকার হচ্ছেন। এই অবস্থায় তিনি সরকার ও বিরোধী দলগুলোর জন্য একটি সর্বসম্মত নীতি এবং আইনগত সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকারের নাগরিকের বাকস্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার প্রতি অত্যন্ত সচেতন।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন পরিমার্জনের ক্ষেত্রে গত দুই মাস ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, সিনিয়র সম্পাদক এবং সুশীল সমাজের অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে। এই আইনটির মূল লক্ষ্য হবে ডিজিটাল স্পেসে শালীনতা ফিরিয়ে আনা, নারী ও তরুণদের সাইবার বুলিং থেকে রক্ষা করা এবং একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, যাতে এই আইনের কোনো ধরনের অপব্যবহার না ঘটে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ এবং রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ