প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকার মূল্যের ৪০ ভরি সোনা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ কনস্টেবল জাকিরসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এসময় ছিনিয়ে নেওয়া সোনার সাড়ে ২০ ভরি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সোনা উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিঝুম মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে কনস্টেবল জাকির হোসেনকে একটি আসামি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও আরো দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং একজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর রাতেই এজাহারভুক্ত আসামি কনস্টেবল জাকির হোসেন এবং বাদীর দুলাভাই মোহাম্মদ আলীকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকেই রাতে সাড়ে ২০ ভরি সোনা উদ্ধার করে পুলিশ।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কনস্টেবল জাকির হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন। তার আবাস রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে। গত ৮ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কালীনগর ব্রিজের পাশে সোনা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গলিত অবস্থায় থাকা ৪০ ভরি সোনা রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর কাছে পাঠিয়েছিলেন ব্যবসায়ী নিঝুম।
স্বর্ণের চালানটি রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে যান নিঝুমের দুলাভাই মোহাম্মদ আলী। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের চকআলমপুরে।
পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেন মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. নয়নের বন্ধু। মোহাম্মদ আলী যখন সোনার চালানটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওই ব্যবসায়ীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার দুই মিনিটের মধ্যেই কনস্টেবল জাকিরসহ দুজন সেখানে হাজির হন। পরে অভিযোগ রয়েছে যে পুলিশ পরিচয়ে তারা ওই সোনা নিয়ে চলে যান।
এরপর এক মাসের ছুটি নিয়ে কনস্টেবল জাকির হোসেন গ্রামের বাড়িতে চলে যান। ছুটি শেষ হওয়ার পর কয়েক দিন আগে তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেন। পরে তাকে প্রত্যাহার করা হয় এবং পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। মামলা হওয়ার পর পুলিশ লাইন্স থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ জানিয়েছেন, কনস্টেবল জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করার চিঠিও প্রস্তুত করা হয়েছে। পুলিশ সুপার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় থাকার কারণে তিনি ফিরে আসার পর সাময়িক বরখাস্তের আদেশে সই করবেন।
এছাড়া মোহাম্মদ আলী তার কাছে থাকা সোনা বের করে দিলেও কনস্টেবল জাকির হোসেন এখনও বাকি সোনা দেননি। ওই সোনা উদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন