শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩৯ পি.এম
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নে শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ২০২৬’। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ, সাদেকপুর ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় ইউনিয়নের ৩টি মাধ্যমিক ও ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাদেকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ প্রতিযোগিতার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শ্রেণিভিত্তিকভাবে লিখিত ও বহুনির্বাচনী (MCQ) পদ্ধতিতে মোট ৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শ্রেণির নির্ধারিত পাঠ্যসূচি ও বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেয়।
পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের উপদেষ্টা, সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন যুব রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ভৈরব উপজেলা টিমের সদস্যরা।
পরীক্ষাকেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাজমুল হক। তাঁর তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা পরিচালনা ও কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
আয়োজনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও পরিচালনায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ, সাদেকপুর ইউনিয়নের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। প্রতিযোগিতার বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন আহ্বায়ক তৌফিকুল ইসলাম তনয়।
সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, “এই আয়োজনের মাধ্যমে সাদেকপুরের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চাই। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের জন্য এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”
আহ্বায়ক তৌফিকুল ইসলাম তনয় বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রতিযোগিতা নয়; সাদেকপুরের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা। ৩৪৫ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ আমাদের আরও অনুপ্রাণিত করেছে।”
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা খুঁজে বের করা, তাদের উৎসাহিত করা এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সাদেকপুর ইউনিয়নের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, দেশের এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমিতে রূপান্তর করা। এই অগ্রগতি অর্জনে এভিয়েশন খাতের ভূমিকা একেবারে পরিষ্কার এবং অনস্বীকার্য।
শনিবার বিকেলে ঢাকার ইউনাইটেড কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত জাতীয় দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত এভিয়েশন বিষয়ক পলিসি কনক্লেভে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেছেন।
বিমানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিমানবন্দরগুলো মূলত আমাদের প্রবেশদ্বার এবং রাষ্ট্রীয় আয়নার মতো। সুতরাং, এই আয়নাকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে আমরা দুর্দান্তভাবে এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছি।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু আজকের অনুষ্ঠান পলিসি নিয়ে, তাই আপনাদের জানাচ্ছি যে, প্রায় ৪২ বছর পর আমরা সিভিল এভিয়েশন রুলস-১৯৮৪ সংশোধন করে নতুন রুলস-২০২৬ প্রণয়ন করছি। আমাদের নতুন বিধিমালা অবশ্যই ব্যবসা ও বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব করেই তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বেসামরিক বিমান চলাচলে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিধিমালায় প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করা হবে।
এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আপনারাই আমাদের মূল অংশীজন। তাই বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য বিধিমালা তৈরিতে আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি এয়ারলাইন্সের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধার বিধানে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বিমানের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ওভারহলের ক্ষেত্রে জটিলতা নিরসনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর আমরা একটি ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল এভিয়েশন খাত পেয়েছি। চারদিকে যাত্রী হয়রানির অভিজ্ঞতা ছিল। আমাদের সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হল এই হয়রানি লাঘব করা। সেবার মানোন্নয়নে বিমান বাংলাদেশ এয়রালাইন্সের সঙ্গে দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের কাজ হাতে নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে আমরা একটি আন্তর্জাতিক মানের Maintenance, Repair and Overhaul (MRO) unit স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছি। এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজীকরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এভিয়েশন হাব তৈরির লক্ষ্য পূরণ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে, যাতে বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং ও সাইবার সিকিউরিটির মতো আধুনিক বিষয়গুলোকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।’
আজ রাজধানীর নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত 'বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬'-এর প্লেনারি সেশনে অংশ নিয়ে তিনি এসব বক্তব্য তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর ও দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক কাঠামোর সঙ্গে তাল মেলাতে দেশের স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) শিক্ষাব্যবস্থাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কেবল মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়েই নয়, উচ্চশিক্ষা বা টারশিয়ারি লেভেলেও স্টেম শিক্ষাকে সমানভাবে প্রাধান্য দিতে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’
কারিকুলাম সংস্কারের বিশদ রূপরেখা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন জানান, তাত্ত্বিক শিক্ষার সীমাবদ্ধতা দূর করে পুঁথিগত বিদ্যা ও বাস্তব প্রয়োগের দূরত্ব কমাতে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় সংস্কার চলছে।
তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ‘স্পোর্টস’ ও ‘কালচার’ নামে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিক্ষা, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় ইন্টারপার্সোনাল ও ট্রান্সফারেবল দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করবে।
উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমানে কারিগরি শিক্ষা সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দেশের সব প্রান্তের ও সকল স্তরের স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষা সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক হবে। উন্নত দেশের মতো কারিগরি শিক্ষাকে কোনো ‘ট্যাবু’ না ভেবে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে একীভূত করাই সরকারের উদ্দেশ্য।’
উচ্চশিক্ষাকে বাস্তব জীবনের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর জোর দিয়ে মাহ্দী আমিন জানান, দেশে প্রায় আড়াই হাজার অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কীভাবে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে কারিকুলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, মানসম্মত গবেষণা থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে নতুন স্টার্ট-আপ এবং সেখান থেকে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি টেকসই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত করতে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি করে 'সেন্টার অব এক্সিলেন্স' বা উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের মেধার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি তরুণরা সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। তরুণদের উপযুক্ত রসদ ও প্ল্যাটর্ফম দিতে পারলে তারা বিশ্ব জয় করতে সক্ষম। সরকার ‘ব্রেন ড্রেন’ রুখে দিয়ে তা ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করতে চায়।
এ ক্ষেত্রে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশীয় অ্যালামনাইদের এনডাউমেন্ট ফান্ড, সিএসআর ফান্ড ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত দেশীয় বিশেষজ্ঞদের বিশেষ ফেলোশিপের মাধ্যমে দেশের কারিকুলাম ও শিল্প বিকাশে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
'স্টেম ফর অ্যা ফিচার-রেডি বাংলাদেশ : বিল্ডিং দ্য ব্যাকবোন অব দ্য ইনোভেটিভ ইকোনোমি' শীর্ষক এই সেমিনারের সঞ্চালনা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। আলোচনায় আরো অংশ নেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের শিক্ষা প্রধান এস কিয়াং কো, দেশের শীর্ষ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তানভীর মোহাম্মদ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি-আইইউবি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০০২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। এশিয়া মহাদেশে প্রথমবারের মতো এই ফুটবল মহাযজ্ঞ যৌথভাবে আয়োজন করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।
সেই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে চেয়েছিলেন ফুটবল নক্ষত্র ডিয়েগো ম্যারাডোনা। কিন্তু শুরুতেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় জাপানের ভিসা আইন। তার মাদক সেবনের পুরনো রেকর্ড থাকার কারণে জাপান সরকার ম্যারাডোনার ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।
১৯৯১ সালে কোকেন সেবনের দায়ে তিনি আইনি জটিলতায় পড়েছিলেন।
জাপানের প্রচলিত আইনে বিদেশিদের জন্য মাদকসংক্রান্ত অপরাধের রেকর্ড থাকলে সেই দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে জাপানে যাওয়ার আবেদন করেও, আর্জেন্টিনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ম্যারাডোনা শুরুতে অনুমতি পাননি।
ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার খবর পেয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ম্যারাডোনার যুক্তি ছিল, “আমি কাউকে হত্যা করিনি, জাপানের আইনকেও অসম্মান করেনি।তাহলে তাকে কেন আটকে দেওয়া হলো?
নিজের অবস্থান বোঝাতে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করেন। প্রয়াত এই কিংবদন্তি মতামত ব্যক্ত করেন, ‘আমি কাউকে হত্যা করিনি এবং জাপানের আইনকে সম্মান করি। আমি জাপানে কোনো পারমাণবিক বোমা ফেলিনি। এটা ভীষণ বৈপরীত্যের বিষয়। যদি জাপানিরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে চায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দেরও জাপানে ঢুকতে দেওয়া উচিত নয়।’
ম্যারাডোনার এই মন্তব্যের পেছনে ছিল ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা হামলার ইতিহাস। এতে দেড় লাখ থেকে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ প্রাণ হারান। তার সেই বক্তব্য ছিল প্রকৃতপক্ষে জাপানের সিদ্ধান্তের প্রতি ক্ষোভ ও বৈষম্যের অভিযোগ।
আর্জেন্টিনার পর্যটন ও ক্রীড়া দূত হিসেবে জাপানে এসেছিলেন ম্যারাডোনা।
কিন্তু, শেষ পর্যন্ত জাপানের অবস্থান পরিবর্তন হয়। আর্জেন্টিনা সরকারের অনুরোধের পর তাকে জাপানে প্রবেশের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়। ম্যারাডোনাকে আর্জেন্টিনার পর্যটন ও ক্রীড়া দূত হিসেবে জাপানে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১১ জুন ভিসা অনুমোদনের পর ২৮ জুন তিনি টোকিও শহরে পৌঁছান।
জাপানে গিয়ে ম্যারাডোনা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচও দেখেন। ইয়োকোহামায় জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়।
যদিও, জাপানের সঙ্গে ম্যারাডোনার সম্পর্ক এতোদিন সুখকর ছিল না। ৯০-এর দশকে জাপানের শীর্ষ ফুটবল লিগ (জে১ লিগ) শুরুর আগে নাগোইয়া গ্রাম্পাসের সঙ্গে তিনি চুক্তির খুব কাছাকাছি ছিলেন।
কিন্তু, কোকেন টেস্টে পজিটিভ হয়ে ম্যারাডোনা ১৫ মাসের জন্য সব ধরনের ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ হয়ে যান এবং সেই কারণে সেই চুক্তি থেকে সরে আসে গাড়ি প্রস্তুতকারক বিখ্যাত কোম্পানি টয়োটার মালিকানাধীন ক্লাব নাগোইয়া গ্রাম্পাস। বিকল্প হিসেবে তারা ইংলিশ কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারকে দলে ভেড়ায়।
মাদকসংক্রান্ত অতীতের কারণে ১৯৯৪ সালেও জাপান তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর প্রতিবাদে জানায় আর্জেন্টিনা দল নির্ধারিত প্রস্তুতি ম্যাচ বাতিল করে।
আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দলের হয়ে ম্যারাডোনা প্রথম ট্রফি জিতেছিলেন জাপানের মাটিতে।
তবে জাপানে ম্যারাডোনার সুখস্মৃতি ও আছে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে প্রথম ট্রফিটি তিনি অর্জন করেছিলেন সেই দেশেই!
এখন যেটিকে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ বলা হয়, ১৯৭৯ সালে সেই টুর্নামেন্টের নাম ছিল ফিফা বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপ। জাপানে অনুষ্ঠিত ওই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা।
ফাইনালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয় পেয়ে শেষ গোলটি করেছিলেন ম্যারাডোনা। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও উঠেছিল তার হাতে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো সংবাদ মাধ্যম ও পেশাজীবী সমাজকে স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন এই গুণী মানুষ, এবং তাঁর এমন করুণ পরিণতি শুধুই একটি মৃত্যু নয়। এটি সাংবাদিকতা পেশার চরম অনিরাপত্তা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অন্যায়ের ঘৃণ্য দলিল।
দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরোর সাবেক প্রধান এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর পর বেরিয়ে আসছে তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোর চরম দুর্দশা ও লড়াইয়ের কাহিনি। ২০২৩ সালে দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরো প্রধানের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর, এভাবে তাঁকে দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়ার পেছনে ছিল গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের শিকার হতে হয়েছিল পুলক চ্যাটার্জিকে। তৎকালীন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এবং তাঁর চাচা আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বরিশাল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পুলক চ্যাটার্জি পেশাগত কারণে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর সংবাদ কভার করা ও যোগাযোগ রক্ষা করার অভিযোগে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ আবুল খায়ের খোকন সেরনিয়াবাতের অসন্তুষ্টির উইঠে আসেন। ক্ষমতার দাপট ও রাজনৈতিক চাপের মুখে দৈনিক সমকাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ব্যুরো প্রধানের পদ থেকে বাদ দেন। স্থানীয় কিছু গণমাধ্যমকর্মীর অভিযোগ, ওই সময় রাজনৈতিক বিরোধের প্রভাব অনেক দায়িত্বশীল সাংবাদিকের পেশায় পড়ে ছিল।
স্বজনদের মতে, দায়িত্ব হারানোর পর তিনি দীর্ঘ সময় কর্মহীনতা, শারীরিক অসুস্থতা ও আর্থিক চাপের মধ্যে ছিলেন। দায়িত্ব হারানোর পর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় তিন বছর পুলক চ্যাটার্জি চরম কর্মহীনতা, অর্থাভাব, মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতায় কাটিয়েছেন। দীর্ঘ ১৮ বছর সেবা দেওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি তাঁর প্রাপ্য আইন সংগত পাওনা পরিশোধ করেনি। দীর্ঘদিন বকেয়া আদায়ের চেষ্টা করার পরও তিনি সমকালের কাছ থেকে নিজের রক্ত পানি করা রোজগারের টাকা পাননি।
মৃত্যুর আগে পুলক চ্যাটার্জি পাঁচটি চিরকুট (সুইসাইড নোট) লিখে গেছেন, যা তাঁর তীব্র যন্ত্রণার এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রতারণার নিদর্শন। নিজের সহকর্মী সুমন চৌধুরীকে লেখা এক চিরকুটে তিনি আকুতি জানিয়েছেন, যেন দৈনিক সমকালের কাছে জমে থাকা তাঁর বকেয়া পাওনা টাকা তাঁর অসহায় পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে লেখা এই চিরকুট প্রমাণ করে কীভাবে একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক পাওনা আটকে রেখে ধীরে ধীরে তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এমনকি চাকরি হারানোর পরও দীর্ঘদিনের প্রিয় কর্মস্থল সমকালের বরিশাল ব্যুরো অফিসে তিনি প্রায়ই যেতেন এবং অফিসের চাবিও ছিল তাঁর কাছে। বহুদিনের প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর আবেগ ও অসমাপ্ত পাওনার হিসাব নিয়ে ঘোরার পরেও প্রতিষ্ঠানটির নির্দয় আচরণ তাঁকে প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত করেছে।
এখন স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃত্বও এই চরম অন্যায়ের দায় এড়াতে পারে না। পুলক চ্যাটার্জি নিজে বরিশাল প্রেসক্লাবের মতো মর্যাদাপূর্ণ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। অথচ তাঁর তিন বছরের আর্থিক ও পেশাগত সংকটের সময় সহকর্মী ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো রহস্যজনকভাবে নীরব ছিল। সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের স্লোগান দেওয়া সংগঠনগুলো এক অভিজ্ঞ সহকর্মীকে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের মুখে একাকী ফেলে রেখে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
পুলক চ্যাটার্জির এই করুণ সমাপ্তি স্পষ্ট করে দেয় কিভাবে ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবে একজন পেশাদার সাংবাদিকের জীবন তছনছ করা হয়, এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দীর্ঘদিনের কর্মী বকেয়া না দিয়ে কীভাবে তাঁদের ফেলে দেয়। ১৮ বছরের নিষ্ঠাবান সাংবাদিকতার পুরস্কার যদি হয় চরম অভাব, পাওনা বকেয়া থাকা এবং অকাল মৃত্যু, তবে বর্তমান পরিস্থিতির দায় দৈনিক সমকাল কর্তৃপক্ষ, তৎকালীন রাজনৈতিক শক্তি এবং ব্যর্থ সাংবাদিক নেতৃত্বকে আজীবন বহন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ