রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৫ পি.এম
লালমনিরহাটে তিস্তা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ-এর অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই হয়ড়ানি মুলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আজ দুপুরে জেলায় কর্মরত সকল সাংবাদিকবৃন্দের ব্যানারে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব রংপুর বিভাগীয় কমিটির সভাপতি শরিফুল ইসলাম রতন, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুহুল আমিন বাবু, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জুয়েল, লালমনিরহাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদ তৌহিদুল ইসলাম লিটন, প্রবিন সাংবাদিক গোকুল রায়, বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, দুর্নীতির তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব সেই সংবাদ প্রকাশের জেরে সাইবার সুরক্ষা আইনের ভয় দেখিয়ে সাংবাদিকদের কন্ঠরোধের চেষ্টা চলছে। অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধনে লালমনিরহাট জেলার কর্মরত সকল গণমাধ্যমকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সচেতন স্থানীয় সাধারণ মানুষ সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের ধর্মঘট ও হরতাল ডাকাকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, এ ধরনের কোনো ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে বাস মালিক সমিতি বা শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ রায় প্রকাশ করে, যা এই সংক্রান্ত এক রিটের রুল যথাযথ ঘোষণা করে।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুসারে আদালতের রায় সকলের জন্য বাধ্যতামূলক। তবে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলেও রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট করা অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আহসান হাবীব। বিআরটিএ’র পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সতর্ক করে জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যদি যথাযথভাবে পরিচালিত না হয়, তাহলে এটি মানবজাতির জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উঠে এসেছে। সম্প্রতি একটি ব্যক্তিগত তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন এবং এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য কার্যকর নীতিমালা তৈরি করার আহ্বান জানান ডেমোক্র্যাট নেতাদের প্রতি।
ওবামা বলেন, এআই খাতটি খুব দ্রুত ব্যক্তিগত মালিকানায় বিস্তৃত হচ্ছে এবং যদি এটি উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণে না আনা হয়, তাহলে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। তিনি আগামীর মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা যদি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান, তবে হাউসের মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিসকে এআই নীতি বিষয়ে একটি উন্মুক্ত আলোচনার কাঠামো তৈরি করার পরামর্শ দেন। এছাড়া, ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থীদেরও এআই-এর নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলায় স্পষ্ট পরিকল্পনা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সম্প্রতি 'অ্যানথ্রোপিক' গবেষকরা এআই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত অগ্রগতির ফলে মানবজাতির বিলুপ্তির ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন। এর ফলস্বরূপ মার্কিন আইনপ্রণেতারা এই প্রযুক্তির ওপর কঠোর নিয়ম আরোপের দাবি জানান।
এআই এজেন্টদের বিভ্রান্তিকর আচরণ এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের সৃষ্টি হওয়ার কারণে বেশ কয়েকজন গবেষক প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যাওয়ার পর এই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদি নতুন এআই মডেল তৈরির গতি কমানোর পরামর্শ দিলে ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান ও এক্সএআই-এর ইলন মাস্কও এই পরামর্শে সম্মতি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রেম ও রোমান্সনির্ভর সিনেমা এবং নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। তিনি দাবি করেছেন, যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা রোধের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে এই আবেদন তিনি করেছেন।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে এই আইনজীবী হাইকোর্টে রিট পিটিশনটি করেন। এর আগে তিনি গত ২৭ আগস্ট একই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। ওই নোটিশটি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করেছিল।
রিট পিটিশনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটক অঙ্গনে প্রেম ও মাত্রাতিরিক্ত রোমান্টিক বিষয়বস্তুর অবাধ সম্প্রচার সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব গণমাধ্যমে পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, ব্যভিচার ও ধর্ষণের মতো বিষয়গুলোকে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এ ধরনের বিষয়বস্তু যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ার থেকে বিচ্যুত করছে।
একই সঙ্গে সমাজের ঐতিহ্যবাহী নৈতিক কাঠামো দুর্বল হয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা এবং নৈরাজ্য তৈরি হচ্ছে। রিটে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে লাগামহীন রোমান্টিক ও উসকানিমূলক সিনেমা যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা ও বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধিতেও এসব কনটেন্ট ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে যুক্তিসংগত বাধানিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, জননৈতিকতা ধ্বংস করে এবং সামাজিক অপরাধে প্ররোচনা দেয়—এমন কোনো কনটেন্ট অবাধ সম্প্রচারের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা দাবি করতে পারে না।
এ ছাড়া, সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করে রিটে বলা হয়েছে, জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। শুধু প্রেমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধ নয়, যুবসমাজের সৃজনশীল মেধার বিকাশ এবং দেশপ্রেম জাগ্রত করতে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচারে সংশ্লিষ্টদের প্রতি বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারির আবেদনও করা হয়েছে। আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জানিয়েছেন, তিনি গত ২৭ আগস্ট এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বিবাদীদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। তবে, নোটিশের পরও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনস্বার্থে এবং জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষার লক্ষ্যে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং জানিয়েছেন, ব্রিকসের ১১টি দেশের জন্য একটি ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপেন-সোর্স জোন’ গড়ে তুলতে তারা নেতৃত্ব দেবে।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১১ জাতির এই জোটের সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন, যা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
চীনের এআই কোম্পানিগুলো বর্তমান সময়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ওপেন-সোর্স এআই মডেল তৈরি করে চলেছে। এসব তৈরি করা মডেলের মূল কোড ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। ফলে ব্যবহারকারীরা তাদের নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী এই কোড পরিবর্তন ও ব্যবহার করতে সক্ষম হন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এআই নির্মাতারা সাধারণত বদ্ধ পদ্ধতিকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। নয়াদিল্লি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর প্রদান করেছে।
চীনা নেতার ‘ওপেন-সোর্স ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এআই উদ্যোগ’ এর অংশ হিসেবে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সি চিনপিং আরও উল্লেখ করেন, এ উদ্যোগের আওতায় ব্রিকস দেশগুলোর জন্য ‘এআই বিষয়ে বিশেষায়িত গবেষণা ও প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রম চালু করা হবে। এর লক্ষ্য হল ‘এআইয়ের জন্য একটি উন্মুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা।’
ব্রিকস জোটটি ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা চীন, রাশিয়া ও ভারতসহ একাধিক দেশের নিয়ে গঠিত।
জোটটির উদ্দেশ্য পশ্চিমা শক্তির প্রভাবাধীন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে আরও বেশি প্রভাব প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে উদীয়মান বড় অর্থনীতির দেশগুলোকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা।
সি চিনপিং ‘ব্যাপক ঐকমত্যভিত্তিক বৈশ্বিক এআই শাসন কাঠামো’ প্রতিষ্ঠার জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন।
চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সি চিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এসময়, দ্রুত বিকাশমান এই প্রযুক্তির ওপর বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের উদ্বেগের কারণে এআই পরিচালনা ব্যবস্থা আলোচনা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ