প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
প্রেম ও রোমান্সনির্ভর সিনেমা এবং নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। তিনি দাবি করেছেন, যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা রোধের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে এই আবেদন তিনি করেছেন।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে এই আইনজীবী হাইকোর্টে রিট পিটিশনটি করেন। এর আগে তিনি গত ২৭ আগস্ট একই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। ওই নোটিশটি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করেছিল।
রিট পিটিশনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটক অঙ্গনে প্রেম ও মাত্রাতিরিক্ত রোমান্টিক বিষয়বস্তুর অবাধ সম্প্রচার সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব গণমাধ্যমে পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, ব্যভিচার ও ধর্ষণের মতো বিষয়গুলোকে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এ ধরনের বিষয়বস্তু যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ার থেকে বিচ্যুত করছে।
একই সঙ্গে সমাজের ঐতিহ্যবাহী নৈতিক কাঠামো দুর্বল হয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা এবং নৈরাজ্য তৈরি হচ্ছে। রিটে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে লাগামহীন রোমান্টিক ও উসকানিমূলক সিনেমা যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা ও বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধিতেও এসব কনটেন্ট ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে যুক্তিসংগত বাধানিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, জননৈতিকতা ধ্বংস করে এবং সামাজিক অপরাধে প্ররোচনা দেয়—এমন কোনো কনটেন্ট অবাধ সম্প্রচারের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা দাবি করতে পারে না।
এ ছাড়া, সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করে রিটে বলা হয়েছে, জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। শুধু প্রেমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধ নয়, যুবসমাজের সৃজনশীল মেধার বিকাশ এবং দেশপ্রেম জাগ্রত করতে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচারে সংশ্লিষ্টদের প্রতি বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারির আবেদনও করা হয়েছে। আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জানিয়েছেন, তিনি গত ২৭ আগস্ট এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বিবাদীদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। তবে, নোটিশের পরও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনস্বার্থে এবং জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষার লক্ষ্যে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন