০৮:২০ পি.এম
ভারত পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রেল যোগাযোগের নতুন যুগে পদার্পণ করেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বোধন করেছেন প্রথম হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলচালিত ট্রেনের।
এই উদ্বোধনের মাধ্যমে ভারত জার্মানি, জাপান, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলোর পর হাইড্রোজেন প্রযুক্তির এলিট ক্লাবে যোগ দিল। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর রেলওয়ের ৮৯ কিলোমিটার জিন্দ-সোনিপৎ রুটে চলাচলকারী ১০ কোচের ট্রেনটিকে বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন ট্রেন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানাচ্ছে, প্রথাগত ডিজেল ইঞ্জিনের বিপরীতে হাইড্রোজেন ট্রেন কোনো ওভারহেড বৈদ্যুতিক তার ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে অনবোর্ড বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে। এর মূল কেন্দ্রে রয়েছে ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াটের প্রোটন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন ফুয়েল সেল যা হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
আরও পড়ুন: মেক্সিকোতে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি করা হলো
ট্রেনের চালকদের জন্য বিদ্যুৎবাহী দুটি পাওয়ার কারে উচ্চ-চাপ সিলিন্ডারে সংকুচিত হাইড্রোজেন গ্যাস বহন করা হয়। যখন এই হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলে প্রবেশ করে, তখন একটি প্ল্যাটিনাম অনুঘটকের মাধ্যমে হাইড্রোজেনের প্রোটন ও ইলেকট্রন আলাদা হয়ে যায়। ইলেকট্রনগুলো যখন একটি বাহ্যিক বৈদ্যুতিক সার্কিটের মাধ্যমে চলাচল করে, তখন বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, যা ট্রেনের ট্র্যাকশন মোটরকে সচল করে। সেইসঙ্গে বাতাস থেকে নেওয়া অক্সিজেন হাইড্রোজেন প্রোটন ও ইলেকট্রনের সাথে সংঘটিত হয়।
এই সম্পূর্ণ তড়িৎ-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কোনো দহন বা ধোঁয়া না তৈরি হওয়ার কারণে ক্ষতিকারক কার্বন নির্গমনের পরিবর্তে শুধু জলীয় বাষ্প ও তাপ নির্গত হয়। ফলে, এটি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। ফুয়েল সেল থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করা হয়, যা ট্রেনটি যখন গতি বাড়ায় তখন অতিরিক্ত শক্তি প্রদান করে এবং ব্রেকিংয়ের সময় সঞ্চিত শক্তি পুনরুত্পাদন করে।
ডিজেলের তুলনায় হাইড্রোজেনের শক্তির ঘনত্বও অনেক বেশি; ডিজেলের শক্তির ঘনত্ব প্রতি কেজিতে ৪৩ মেগাজুল, আর হাইড্রোজেনের ক্ষেত্রে তা প্রায় ১২০ মেগাজুল। তাই, এটি কার্বন নির্গমন ছাড়াই উচ্চ কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করতে সক্ষম।
এই ট্রেনকে সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হরিয়ানার জিন্দে ভারতের বৃহত্তম রেলওয়ে হাইড্রোজেন সংগ্রহ ও রিফুয়েলিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩ হাজার কেজি হাইড্রোজেন সংরক্ষণ করা সম্ভব। এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে নির্মাণ করা হয়েছে। রিসার্চ, ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশনের কারিগরি নির্দেশনায় নির্মিত এই ১০ কোচের ট্রেনে প্রায় ২ হাজার ৬০০ যাত্রী যাতায়াত করতে পারেন। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার গতিবেগের নকশায় তৈরি এই ট্রেনটি আপাতত সুরক্ষার স্বার্থে ৭৫ কিলোমিটার গতিতে চালানো হবে।
আরও পড়ুন: জ্বালানির দাম বাড়াল চীন
জিন্দ জংশন, গোহানা জংশন এবং সোনিপতের মধ্যে সংযোগকারী এই ট্রেনের সুরক্ষায় কোনো আপস করা হয়নি। এতে হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর, ফ্লেম ডিটেকশন সিস্টেম, স্বয়ংক্রিয় হাইড্রোজেন শাট-অফ মেকানিজম এবং চালকদের জন্য রিয়েল-টাইম হেলথ মনিটরিং ব্যবস্থা যুক্ত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন