ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১৫০ কিলোমিটার হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছালেন তিন রোভার


১৫০ কিলোমিটার হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছালেন তিন রোভার

বরিশাল থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পথ হেঁটে কুয়াকাটা পৌঁছেছেন স্কাউটের তিন সিনিয়র রোভার মেট।

প্রেসিডেন্টস রোভার স্কাউটস অ্যাওয়ার্ড অর্জনের অংশ হিসেবে পাঁচ দিনে এ পথ পাড়ি দেন তারা। গত ১২ জুলাই সকালে বরিশাল নগরীর সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে যাত্রা শুরু করেন রোভার শাহরিয়ার রহমান হাছিব, মশিউর রহমান আবির ও সাজিদুল ইসলাম সিজান।

বৃহস্পতিবার কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টে পৌঁছালে তাদের ১৫০ কিলোমিটারের পদযাত্রা শেষ হয়। জানা গেছে, পাঁচ দিনের এই পদযাত্রায় প্রথম দিন তারা ২৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার, দ্বিতীয় দিন ২২ কিলোমিটার, তৃতীয় দিন ৩৪ কিলোমিটার পথ পথ পাড়ি দেন। এরপর চতুর্থ দিন ৩৮ কিলোমিটার এবং শেষ দিনে ৩৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে তারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কার্যালয়ে বিরতি এবং রাত্রিযাপন করেন।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে মাঠে গড়াল ৫৩তম জাতীয় স্কুল-মাদ্রাসা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

ভ্রমণের অভিজ্ঞতা জানিয়ে রোভার শাহরিয়ার রহমান হাছিব বলেন, হেঁটে ভ্রমণকালে তারা বাকেরগঞ্জ, পটুয়াখালী, আমতলী ও কলাপাড়াসহ বিভিন্নস্থানে অবস্থান করেছিলেন। শেষ দিনে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

রোভার মশিউর রহমান আবির বলেন, রোভার স্কাউটের সর্বোচ্চ সম্মান ‘প্রেসিডেন্টস রোভার স্কাউটস অ্যাওয়ার্ড’ অর্জনের লক্ষ্যে পরিভ্রমণ ব্যাজের জন্য এই পদযাত্রা সম্পন্ন করা হয়েছে। এ সময় তারা ‘ধ্বংস নয়, সৃষ্টি করি; জীববৈচিত্র্য রক্ষা করি’, ‘মনের যত্ন নিন, সুন্দর জীবন গড়ুন’ এবং ‘সত্যের পাশে থাকুন, গুজবকে না বলুন’ এই তিনটি সচেতনতামূলক বার্তা বহন করেন।

রোভার সাজিদুল ইসলাম সিজান বলেন, ভ্রমণের সময় তারা বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি অফিস পরিদর্শন করেছেন।

আরও পড়ুন: ভাঙ্গায় বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে এশিয়ান টিভির সাংবাদিক নিহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই শহীদদের স্মরণে এবি পার্টির প্রতীকী কফিন মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০০ পি.এম


জুলাই শহীদদের স্মরণে এবি পার্টির প্রতীকী কফিন মিছিল

জুলাই শহীদদের স্মরণে রাজধানীতে এবি পার্টির উদ্যোগে প্রতীকী কফিন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৪টায় এই মিছিলের আয়োজন করা হয়।

মিছিলটি বিজয়নগরের বিজয়-৭১ চত্বর থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল মোড়, নাইটিংগেল মোড়, পল্টন মোড় এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিজয়-৭১ চত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিলে বিভিন্ন নেতাকর্মীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে শোক, শ্রদ্ধা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান প্রদান করেন।

মিছিল শুরুর পূর্বে দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদরা ৭১ সালের শহীদদের বাস্তব অনুসারী, তাদের অকাতরে জীবন ও রক্ত দিয়ে প্রমাণ হয় যে তারা তাদের সার্থক উত্তরসূরি। জুলাইয়ের স্লোগান ছিল ‘লাখো শহীদের রক্তে কেনা দেশটা কারও বাপের না’। যারা ক্ষমতার মোহে দেশকে নিজের বাপের সম্পত্তি এবং জনগণকে নিজেদের গোলাম ভাবতে শুরু করবেন, তাদের বিরুদ্ধে জুলাই আমাদের আজীবন পথ দেখাবে এবং আমাদের গৌরবময় সেই জুলাই বার বার ফিরে আসবে।

এছাড়া এসময় বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাবির চারুকলায় অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ নৃত্য উৎসব ‘ঘনঘটা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


ঢাবির চারুকলায় অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ নৃত্য উৎসব ‘ঘনঘটা’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ নৃত্য উৎসব ‘ঘনঘটা’ নামে।

‘আর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমি’ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবের প্রধান প্রতিপাদ্য হলো ‘আবার ভিজবো একসাথে’।

বর্ষার চিরচেনা সৌন্দর্য, প্রকৃতির সজীবতা এবং বৃষ্টির আনন্দকে নৃত্যের মুদ্রায় তুলে ধরছেন অংশগ্রহণকারী নৃত্যশিল্পীরা। চারুকলার সবুজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ উৎসবে বর্ষাবন্দনার আবহে বিভিন্ন নৃত্যনাট্য এবং দলীয় নৃত্য পরিবেশন করা হচ্ছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, শিল্প-সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের অংশগ্রহণে বর্ষাকে ঘিরে এই বিশেষ আয়োজন হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি আমদানি হ্রাস করতে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে: টুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৩ পি.এম


জ্বালানি আমদানি হ্রাস করতে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে: টুকু

দেশে জ্বালানি আমদানি হ্রাস ও অর্থ সাশ্রয় করতে ১০ হাজার মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কৃষি উপকরণ, ক্রীড়া সামগ্রী ও বেঞ্চ বিতরণ অনুষ্ঠানের তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন হলে জ্বালানি আমদানি হ্রাস পাবে। এতে দেশের বিপুল পরিমান অর্থ সাশ্রয় হবে। বর্তমান সরকার দেশের প্রান্তিক মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি। গ্রামে মাসে ৭৫ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় না। মূলত গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে কষ্টে না পড়ে সরকার সবসময় সেই চেষ্টা করছে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুন খানের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্ধুত্ব, ইতিহাস ও সুবিধাবাদী রাজনীতির সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ পি.এম


বন্ধুত্ব, ইতিহাস ও সুবিধাবাদী রাজনীতির সমীকরণ

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর কারণে একটি পুরোনো বিতর্ক আবারো সামনে এসেছে।

কূটনৈতিক সৌজন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং দুই দেশের বন্ধুত্ব উদযাপনেও অস্বাভাবিক কিছু নেই। কিন্তু ১৯৭১ সালের সেই চূড়ান্ত সময়ের অবিস্মরণীয় কথা উল্লেখ না করে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে তুলে ধরা ইতিহাসকে রাজনীতি সুবিধার জন্য সুবিধামতো ব্যাখ্যা করার ঝুঁকি তৈরি করে।

মন্তব্যটি এসেছে এমন একটি দলের নেতার কাছ থেকে, যাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আজও দলটির রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এ জন্য এই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। যখন জামায়াতে ইসলামী স্থায়ী বন্ধুত্বের ভাষা ব্যবহার করে, অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজেদের এবং ওয়াশিংটনের ভূমিকা- উভয় বিষয়েই নীরব থাকে, তখন তা ইতিহাসের প্রতি ধারাবাহিকতা ও সামঞ্জস্য নিয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্ন উত্থাপন করে।

তবে এই আয়োজনটি নিয়ে বামপন্থী রাজনৈতিক দল এবং বুদ্ধিজীবী মহল সমালোচনা করেছেন। তারা করেছেন মন্তব্য যে, দেশের সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে এমন একটি আয়োজন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়কে উপেক্ষা করেছে। তারা এই ঘটনাকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান প্রভাব’ নিয়ে বৃহত্তর উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত করেন।

একই প্রেক্ষাপটে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তিরও সমালোচনা করেন। তাদের বক্তব্য, এটি বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থের পরিপন্থী। এসব সমালোচনার সঙ্গে কেউ একমত হোন বা না হোন, এগুলো এমন একটি ঐতিহাসিক দগদগে স্মৃতিকে আবারও সামনে আনে যা জাতিগত চেতনায় গভীরভাবে গেঁথে আছে।

ইতিহাসবিদদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের সময়ে নিক্সন প্রশাসনের নীতিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় নৈতিক ব্যর্থতাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করেন। স্নায়ুযুদ্ধের কৌশলগত দিক এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ব্যাপক নৃশংসতার স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানকে রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন দিয়ে যেতে থাকেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থার ভেতর থেকেই এর বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা ছিল, যা এই ঘটনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড আমেরিকার কূটনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম সাহসী কাজ করেন।

পরবর্তীকালে বহুল আলোচিত ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’, যেখানে প্রায় ২০ জন মার্কিন কর্মকর্তা স্বাক্ষর করেছিলেন, সেখানে ওয়াশিংটনের পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাতে ব্যর্থতাকে ‘নৈতিক দেউলিয়াত্ব’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। কিন্তু এই অবস্থানের জন্য ব্লাডকে প্রশংসিত করার পরিবর্তে কার্যত একপাশে সরিয়ে দেওয়া হয়।

গ্যারি জে. ব্যাসের বহুল প্রশংসিত গ্রন্থ The Blood Telegram: Nixon, Kissinger, and a Forgotten Genocide কূটনৈতিক বার্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে সেই সময়কার ঘটনাপ্রবাহ পুনর্গঠন করেছে।

বইটিতে উঠে এসেছে, কীভাবে ঢাকায় কর্মরত মার্কিন কূটনীতিকেরা বাঙালি বেসামরিক মানুষ, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষার্থী এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত পরিকল্পিত নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে নথিবদ্ধ করেছিলেন। অথচ ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকেরা নৈতিক নেতৃত্ব প্রদর্শনের পরিবর্তে কৌশলগত নীরবতাকেই বেছে নিয়েছিলেন।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির এই বৈপরীত্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ-এর নেতৃত্বাধীন টাস্ক ফোর্স ৭৪-কে বঙ্গোপসাগরে পাঠায়।

যদিও অধিকাংশ ইতিহাসবিদ এই মোতায়েনকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতের প্রতি স্নায়ু যুদ্ধকালীন একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, বাংলাদেশে এটি ব্যাপকভাবে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াইরত শক্তিগুলোকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়েছিল। সেই উপলব্ধি তখন থেকে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে। তথাপি, ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে কেবল নিক্সন প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না।

হোয়াইট হাউস যখন পাকিস্তানের সামরিক শাসকদের পাশে দাঁড়িয়েছিল তখন অনেক আমেরিকান দৃঢ়ভাবে বাঙালি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আর্চার ব্লাড ও তার সহকর্মীরা কর্মজীবনের চেয়ে বিবেককে বেছে নিয়েছিলেন। আমেরিকান লেখক, শিল্পী ও আন্দোলনকর্মীরা তাদের নিজেদের সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। অ্যালেন গিন্সবার্গ কবিতায় বাঙালি শরণার্থীদের দুর্ভোগ তুলে ধরেছিলেন। জোয়ান বায়েজ আন্তর্জাতিক প্রতিবাদে তার কণ্ঠ মিলিয়েছিলেন। জর্জ হ্যারিসন ও রবিশঙ্কর ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর আয়োজন করেছিলেন। যা বিংশ শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের প্রতি অভূতপূর্ব বৈশ্বিক মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং শরণার্থীদের ত্রাণকার্যের জন্য বিপুল পরিমাণ তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।

বাংলাদেশের বিজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র নিজেও তার নীতি পরিবর্তন করে। স্বাধীনতার পর ওয়াশিংটন দ্রুত নতুন রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে তৎপর হয়। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার হয়ে ওঠে। কয়েক মাসের মধ্যেই তারা বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়। ১৯৭৩ সাল নাগাদ এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক সাহায্যদাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়। যা যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের পুনর্গঠনে সহায়তা করে।

নিক্সন প্রশাসন এবং আমেরিকান জনগণের মধ্যে এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালে মার্কিন নীতির গভীর ব্যর্থতাকে সততার সাথে স্বীকার করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তার সমসাময়িক অংশীদারিত্বকে মূল্যায়ন করতে পারে বাংলাদেশ। একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের সেইসব কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী এবং সাধারণ নাগরিকদেরও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা উচিত বাংলাদেশের। ঠিক এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়টি সতর্ক বিবেচনার দাবি রাখে। সংকটের মুহূর্তেই বন্ধুত্বের পরীক্ষা হয়। বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ জাতীয় সংকটের সময়ে নিক্সন প্রশাসন সেই পরীক্ষায় ব্যর্থ। কিন্তু, অনেক আমেরিকান অসাধারণ সাহস ও মানবিকতার সাথে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

নির্বাচিত স্মৃতিচারণের মাধ্যমে ইতিহাসের কোনো উপকার হয় না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এই প্রজাতন্ত্রের নৈতিক ভিত্তি। যেকোনো রাজনৈতিক দলের-বিশেষ করে এমন দলের, যাদের নিজেদের যুদ্ধকালীন ভূমিকা আজও গভীরভাবে বিতর্কিত-সেই ইতিহাসকে সংশোধনবাদের পরিবর্তে বিনয়ের সাথে দেখা উচিত। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আজকের অংশীদারিত্ব উদযাপন করা সম্পূর্ণ বৈধ। কিন্তু ঐতিহাসিক বিবরণকে নতুন করে সাজানো বৈধ নয়।

শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কঠিন সত্যকে ভুলে যাওয়ার উপর নয়। বরং সততার সাথে তার মুখোমুখি হওয়ার উপর নির্মিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একটি পরিণত ও গঠনমূলক অংশীদারিত্ব উপভোগ করছে। এই অংশীদারিত্ব দুর্বল না হয়ে বরং আরও শক্তিশালী হবে যখন উভয় দেশই উপলব্ধি করে যে ওয়াশিংটন একসময় ইতিহাসের ভুল পক্ষে থাকলেও বহু আমেরিকান বিশ্বের বিবেককে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই রবিউস সানি, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৩৫
জোহর ১১:৪৯
আসর ০৪:০৭
মাগরিব ০৫:৪৭
ইশা ০৬:৫৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫০ সূর্যাস্ত : ০৫:৪৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%