ঢাকা বুধবার, ০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৫শে ভাদ্র, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইং ২৫শে ভাদ্র, ১৪৩২বাং

ঢাবির চারুকলায় অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ নৃত্য উৎসব ‘ঘনঘটা’


ঢাবির চারুকলায় অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ নৃত্য উৎসব ‘ঘনঘটা’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ নৃত্য উৎসব ‘ঘনঘটা’ নামে।

‘আর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমি’ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবের প্রধান প্রতিপাদ্য হলো ‘আবার ভিজবো একসাথে’।

বর্ষার চিরচেনা সৌন্দর্য, প্রকৃতির সজীবতা এবং বৃষ্টির আনন্দকে নৃত্যের মুদ্রায় তুলে ধরছেন অংশগ্রহণকারী নৃত্যশিল্পীরা। চারুকলার সবুজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ উৎসবে বর্ষাবন্দনার আবহে বিভিন্ন নৃত্যনাট্য এবং দলীয় নৃত্য পরিবেশন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জ্বালানির দাম বাড়াল চীন

আয়োজকদের প্রত্যাশা, শিল্প-সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের অংশগ্রহণে বর্ষাকে ঘিরে এই বিশেষ আয়োজন হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি আমদানি হ্রাস করতে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে: টুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৩ পি.এম


জ্বালানি আমদানি হ্রাস করতে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে: টুকু

দেশে জ্বালানি আমদানি হ্রাস ও অর্থ সাশ্রয় করতে ১০ হাজার মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কৃষি উপকরণ, ক্রীড়া সামগ্রী ও বেঞ্চ বিতরণ অনুষ্ঠানের তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন হলে জ্বালানি আমদানি হ্রাস পাবে। এতে দেশের বিপুল পরিমান অর্থ সাশ্রয় হবে। বর্তমান সরকার দেশের প্রান্তিক মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি। গ্রামে মাসে ৭৫ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় না। মূলত গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে কষ্টে না পড়ে সরকার সবসময় সেই চেষ্টা করছে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুন খানের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্ধুত্ব, ইতিহাস ও সুবিধাবাদী রাজনীতির সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ পি.এম


বন্ধুত্ব, ইতিহাস ও সুবিধাবাদী রাজনীতির সমীকরণ

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর কারণে একটি পুরোনো বিতর্ক আবারো সামনে এসেছে।

কূটনৈতিক সৌজন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং দুই দেশের বন্ধুত্ব উদযাপনেও অস্বাভাবিক কিছু নেই। কিন্তু ১৯৭১ সালের সেই চূড়ান্ত সময়ের অবিস্মরণীয় কথা উল্লেখ না করে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে তুলে ধরা ইতিহাসকে রাজনীতি সুবিধার জন্য সুবিধামতো ব্যাখ্যা করার ঝুঁকি তৈরি করে।

মন্তব্যটি এসেছে এমন একটি দলের নেতার কাছ থেকে, যাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আজও দলটির রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এ জন্য এই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। যখন জামায়াতে ইসলামী স্থায়ী বন্ধুত্বের ভাষা ব্যবহার করে, অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজেদের এবং ওয়াশিংটনের ভূমিকা- উভয় বিষয়েই নীরব থাকে, তখন তা ইতিহাসের প্রতি ধারাবাহিকতা ও সামঞ্জস্য নিয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্ন উত্থাপন করে।

তবে এই আয়োজনটি নিয়ে বামপন্থী রাজনৈতিক দল এবং বুদ্ধিজীবী মহল সমালোচনা করেছেন। তারা করেছেন মন্তব্য যে, দেশের সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে এমন একটি আয়োজন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়কে উপেক্ষা করেছে। তারা এই ঘটনাকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান প্রভাব’ নিয়ে বৃহত্তর উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত করেন।

একই প্রেক্ষাপটে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তিরও সমালোচনা করেন। তাদের বক্তব্য, এটি বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থের পরিপন্থী। এসব সমালোচনার সঙ্গে কেউ একমত হোন বা না হোন, এগুলো এমন একটি ঐতিহাসিক দগদগে স্মৃতিকে আবারও সামনে আনে যা জাতিগত চেতনায় গভীরভাবে গেঁথে আছে।

ইতিহাসবিদদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের সময়ে নিক্সন প্রশাসনের নীতিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় নৈতিক ব্যর্থতাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করেন। স্নায়ুযুদ্ধের কৌশলগত দিক এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ব্যাপক নৃশংসতার স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানকে রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন দিয়ে যেতে থাকেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থার ভেতর থেকেই এর বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা ছিল, যা এই ঘটনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড আমেরিকার কূটনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম সাহসী কাজ করেন।

পরবর্তীকালে বহুল আলোচিত ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’, যেখানে প্রায় ২০ জন মার্কিন কর্মকর্তা স্বাক্ষর করেছিলেন, সেখানে ওয়াশিংটনের পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাতে ব্যর্থতাকে ‘নৈতিক দেউলিয়াত্ব’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। কিন্তু এই অবস্থানের জন্য ব্লাডকে প্রশংসিত করার পরিবর্তে কার্যত একপাশে সরিয়ে দেওয়া হয়।

গ্যারি জে. ব্যাসের বহুল প্রশংসিত গ্রন্থ The Blood Telegram: Nixon, Kissinger, and a Forgotten Genocide কূটনৈতিক বার্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে সেই সময়কার ঘটনাপ্রবাহ পুনর্গঠন করেছে।

বইটিতে উঠে এসেছে, কীভাবে ঢাকায় কর্মরত মার্কিন কূটনীতিকেরা বাঙালি বেসামরিক মানুষ, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষার্থী এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত পরিকল্পিত নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে নথিবদ্ধ করেছিলেন। অথচ ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকেরা নৈতিক নেতৃত্ব প্রদর্শনের পরিবর্তে কৌশলগত নীরবতাকেই বেছে নিয়েছিলেন।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির এই বৈপরীত্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ-এর নেতৃত্বাধীন টাস্ক ফোর্স ৭৪-কে বঙ্গোপসাগরে পাঠায়।

যদিও অধিকাংশ ইতিহাসবিদ এই মোতায়েনকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতের প্রতি স্নায়ু যুদ্ধকালীন একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, বাংলাদেশে এটি ব্যাপকভাবে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াইরত শক্তিগুলোকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়েছিল। সেই উপলব্ধি তখন থেকে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে। তথাপি, ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে কেবল নিক্সন প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না।

হোয়াইট হাউস যখন পাকিস্তানের সামরিক শাসকদের পাশে দাঁড়িয়েছিল তখন অনেক আমেরিকান দৃঢ়ভাবে বাঙালি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আর্চার ব্লাড ও তার সহকর্মীরা কর্মজীবনের চেয়ে বিবেককে বেছে নিয়েছিলেন। আমেরিকান লেখক, শিল্পী ও আন্দোলনকর্মীরা তাদের নিজেদের সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। অ্যালেন গিন্সবার্গ কবিতায় বাঙালি শরণার্থীদের দুর্ভোগ তুলে ধরেছিলেন। জোয়ান বায়েজ আন্তর্জাতিক প্রতিবাদে তার কণ্ঠ মিলিয়েছিলেন। জর্জ হ্যারিসন ও রবিশঙ্কর ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর আয়োজন করেছিলেন। যা বিংশ শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের প্রতি অভূতপূর্ব বৈশ্বিক মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং শরণার্থীদের ত্রাণকার্যের জন্য বিপুল পরিমাণ তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।

বাংলাদেশের বিজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র নিজেও তার নীতি পরিবর্তন করে। স্বাধীনতার পর ওয়াশিংটন দ্রুত নতুন রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে তৎপর হয়। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার হয়ে ওঠে। কয়েক মাসের মধ্যেই তারা বিপুল পরিমাণ মানবিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়। ১৯৭৩ সাল নাগাদ এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক সাহায্যদাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়। যা যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের পুনর্গঠনে সহায়তা করে।

নিক্সন প্রশাসন এবং আমেরিকান জনগণের মধ্যে এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালে মার্কিন নীতির গভীর ব্যর্থতাকে সততার সাথে স্বীকার করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তার সমসাময়িক অংশীদারিত্বকে মূল্যায়ন করতে পারে বাংলাদেশ। একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের সেইসব কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী এবং সাধারণ নাগরিকদেরও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা উচিত বাংলাদেশের। ঠিক এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়টি সতর্ক বিবেচনার দাবি রাখে। সংকটের মুহূর্তেই বন্ধুত্বের পরীক্ষা হয়। বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ জাতীয় সংকটের সময়ে নিক্সন প্রশাসন সেই পরীক্ষায় ব্যর্থ। কিন্তু, অনেক আমেরিকান অসাধারণ সাহস ও মানবিকতার সাথে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

নির্বাচিত স্মৃতিচারণের মাধ্যমে ইতিহাসের কোনো উপকার হয় না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এই প্রজাতন্ত্রের নৈতিক ভিত্তি। যেকোনো রাজনৈতিক দলের-বিশেষ করে এমন দলের, যাদের নিজেদের যুদ্ধকালীন ভূমিকা আজও গভীরভাবে বিতর্কিত-সেই ইতিহাসকে সংশোধনবাদের পরিবর্তে বিনয়ের সাথে দেখা উচিত। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আজকের অংশীদারিত্ব উদযাপন করা সম্পূর্ণ বৈধ। কিন্তু ঐতিহাসিক বিবরণকে নতুন করে সাজানো বৈধ নয়।

শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কঠিন সত্যকে ভুলে যাওয়ার উপর নয়। বরং সততার সাথে তার মুখোমুখি হওয়ার উপর নির্মিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একটি পরিণত ও গঠনমূলক অংশীদারিত্ব উপভোগ করছে। এই অংশীদারিত্ব দুর্বল না হয়ে বরং আরও শক্তিশালী হবে যখন উভয় দেশই উপলব্ধি করে যে ওয়াশিংটন একসময় ইতিহাসের ভুল পক্ষে থাকলেও বহু আমেরিকান বিশ্বের বিবেককে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতালি বাংলাদেশিসহ অবৈধ বিদেশিদের জন্য বড় সুখবর দিলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ পি.এম


ইতালি বাংলাদেশিসহ অবৈধ বিদেশিদের জন্য বড় সুখবর দিলো

ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ অনিয়মিত বা কাগজবিহীন হাজার হাজার অভিবাসীর জন্য একটি বড় সুখবর এসেছে।

দেশটিতে অবৈধ প্রবেশ বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে বৈধতার আবেদন আর সরাসরি বাতিল করা যাবে না।

এ প্রসঙ্গে ইতালির সাংবিধানিক আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে এই ঘোষণা দিয়েছেন।

এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা শেষে ইউরোপের এই দেশে বৈধ হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হলো প্রবাসীদের।

আদালত তার রায়ে বলেছে, শুধুমাত্র শেনজেন তথ্য ব্যবস্থা বা এসআইএস এ প্রশাসনিক সিগন্যাল থাকার কারণে ২০২০ সালের ইমার্সিওন বা স্যানাটোরিয়া কর্মসূচির আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করা যাবে না।

এবং ইমিগ্রেশন আইনের এই পুরোনো বিধানটি ইতালির সংবিধানের মৌলিক সমতা ও ন্যায়সংগত আচরণের পরিপন্থী।

আদালতের নতুন এই নির্দেশনার ফলে এখন থেকে প্রতিটি আবেদনকারীর ফাইল পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিটি আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।

আবেদনকারীর কর্মসংস্থান, ইতালিতে তার অবস্থানের বাস্তবতা ও সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।

শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিগন্যাল দেখিয়ে একতরফাভাবে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যাবে না।

ইতালির এই যুগান্তকারী রায়ে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারেন দেশটিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

দালালের খপ্পরে পড়ে কিংবা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে অনেক বাংলাদেশি অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশ করেন।

আরও অনেকে পর্যটন বা অন্য ভিসায় গিয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সেখানে থেকে যান।

এদের অনেকেরই স্যানাটোরিয়া আবেদন আটকে রাখা হয়েছিল বা বাতিল করা হয়েছিল।

এখন তাদের বৈধতা পাওয়ার পথ সুগম হলো।

ইতালির রোম, মিলান, ভেনিসসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার বাংলাদেশি দীর্ঘ বছর ধরে কাগজপত্রের জন্য অপেক্ষা করছেন।

বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তারা ভালো কাজ পাচ্ছিলেন না।

আরও অনেকে চাইলেও নিজ দেশে পরিবারের কাছে ফিরতে পারছিলেন না।

নতুন এই রায়ের ফলে তাদের দীর্ঘদিনের অমানবিক জীবনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন প্রবাসীরা।

তবে আদালত কিছু ক্ষেত্রে এ ছাড় প্রযোজ্য হবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন।

গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার বা জননিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই রায় খাটবে না।

তাদের বিষয়ে আগের কঠোর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।

সাধারণ ও নিরীহ অভিবাসীদের স্বার্থ রক্ষার্থেই মূলত আদালত এই রায় দিয়েছেন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন রায়ের পর প্রবাসীদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

যাদের আবেদন এখনো অমীমাংসিত রয়েছে কিংবা আগে বাতিল হয়ে গেছে, তারা একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে ফাইলটি পুনরায় মূল্যায়নের জন্য আবেদন করতে পারেন।

এর মাধ্যমে ইতালিতে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার ফিরে পাবেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নৃত্যে সারা দেশে সেরা কুমিল্লার নির্ঝর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৫ পি.এম


নৃত্যে সারা দেশে সেরা কুমিল্লার নির্ঝর

 

জাতীয় পর্যায়ে নৃত্যে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়ে দেশের সেরা হিসেবে কুমিল্লার গুলবাগিচা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নির্ঝর দাস আদি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

একটি স্বীকৃতির অংশ হিসেবে গত বুধবার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় নির্ঝর দাস আদি।

নির্ঝর দাস আদি কুমিল্লা নগরীর বাগানবাড়ি ঠাকুরপাড়ার বাসিন্দা। তার জীবনে বাবা জীবন চন্দ্র দাস এবং মা মাধুরী সূত্রধর।

নির্ঝরের মা মাধুরী সূত্রধর জানালেন, এ পর্যন্ত আড়াই বছর ধরে তিনি কুমিল্লার নটরাজ নৃত্যাঙ্গনে নৃত্যশিল্পী অভিজিৎ সরকারের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তার ছোটোবেলা থেকে নৃত্যের প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। পরিবার থেকে প্রাপ্ত উৎসাহ ও প্রশিক্ষকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে নির্ঝর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সেরার গৌরব অর্জন করেছে।

গুলবাগিচা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসাম্মত হাসিনা আক্তার বলেন, ‘নির্ঝর আমাদের বিদ্যালয়ের অত্যন্ত মেধাবী ও প্রতিভাবান শিক্ষার্থী। তার জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তার এই সাফল্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে একটি আনন্দের জোয়ার বইছে। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে সে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আরও সাফল্য অর্জন করবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:১৯
জোহর ১২:০২
আসর ০৪:৩৩
মাগরিব ০৬:২৩
ইশা ০৭:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৩৮ সূর্যাস্ত : ০৬:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%