শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৩০ পি.এম
গ্রামীণ হাট-বাজারকে ঘিরেই আবর্তিত হয় স্থানীয় অর্থনীতির বড় একটি অংশ। এসব বাজারে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠলে একদিকে যেমন ব্যাবসা-বাণিজ্যের পরিধি বাড়বে; অন্যদিকে তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। একই সঙ্গে দোকান বরাদ্দ ও ভাড়া থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
সে লক্ষ্যেই বগুড়ার তিন উপজেলায় প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ছয়টি দুইতলা বিশিষ্ট বিপণি ভবন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বগুড়ার শাজাহানপুর, দুপচাঁচিয়া ও কাহালু উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিপণি ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের জামুন্না হাট, দুপচাঁচিয়া উপজেলার গুনাহার ইউনিয়নের তালুচহাট ও সদর ইউনিয়নের ধাপের হাট এবং কাহালু পৌর হাট-বাজার, দুর্গাপুর হাট ও মালঞ্চা ইউনিয়নের মালঞ্চা হাটে এসব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুইতলা ভবনের নিচতলা উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে।
এতে প্রচলিত অস্থায়ী হাটের পরিবর্তে ব্যবসায়ীরা স্থায়ী ও পরিকল্পিত পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাবেন। ইতোমধ্যে কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর হাটের বিপণি ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।
প্রকল্প সূত্র জানায়, নির্মাণকাজের অগ্রগতি বাড়াতে গত ৩০ জুন এলজিইডি বগুড়ার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব আলম। পাশাপাশি কাজের মান ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করছেন প্রকৌশল কর্মকর্তারা।
দুপচাঁচিয়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু তালিম হোসেন জানান, গুনাহার ইউনিয়নের তালুচহাটে দুইতলা ভবনে মোট ২২টি কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। ভবনের নিচতলার দুই কর্নারে চারটি কক্ষসহ দোকানগুলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এছাড়া সদর ইউনিয়নের ধাপের হাটে তিন কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে দুইতলা বিপণি ভবন। এর নিচতলা উন্মুক্ত এবং দ্বিতীয় তলায় থাকছে পৃথক কক্ষবিশিষ্ট দোকান।
শাজাহানপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাশেদ ইমরান জানান, আড়িয়া ইউনিয়নের জামুন্না হাটে দুই কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে দুইতলা বিপণি মার্কেট। নিচতলা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং দ্বিতীয় তলায় তৈরি করা হয়েছে ১৬টি দোকানঘর। আগামী অক্টোবরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার আশা করছেন তারা।
কাহালু উপজেলা প্রকৌশলী মুক্তার হোসেন খান জানান, দুর্গাপুর হাটে দুই কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুইতলা মার্কেটটি সম্প্রতি হস্তান্তর করা হয়েছে। নিচতলা উন্মুক্ত এবং দ্বিতীয় তলায় রয়েছে ১৫টি দোকান। এছাড়া কাহালু পৌর হাট-বাজারে এক কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বিপণি ভবনে ১৪টি দোকানঘর থাকছে। মালঞ্চা হাটে দুই কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে দুইতলা ভবন। এর নিচতলাও উন্মুক্ত এবং দ্বিতীয় তলায় থাকছে ১৪টি দোকানঘর।
এলজিইডি বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, উন্নয়নকাজে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শনে যাচ্ছেন। তিন উপজেলার হাট-বাজারে নির্মাণাধীন বিপণি ভবনগুলোর অধিকাংশই এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাট-বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী বিপণি ভবনের দোকানঘর নির্ধারিত শ্রেণি বা ক্যাটাগরি অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হবে। আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে প্রয়োজনে লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে।
বিপণি ভবনগুলো চালু হলে শুধু ব্যাবসার পরিবেশই বদলাবে না। বরং হাট-বাজারকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। স্থায়ী দোকান ও উন্মুক্ত নিত্যপণ্যের বাজারের কারণে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পরিবহন, শ্রমিক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সেবাখাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দোকানের সালামি ও মাসিক ভাড়া থেকে সরকারি রাজস্ব আয় বাড়বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লেবাননের সেনাবাহিনী তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে, তাদের মধ্যে একজন হলেন সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত শাসক বাশার আল-আসাদের আত্মীয়। শুক্রবার মাদক সেবনের সময় লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকায় তাদের আটক করা হয়। দেশটির একটি নিরাপত্তা সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে এএফপিকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রটি জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে সুলেইমান হিলাল আল-আসাদ নামের একজন রয়েছেন। তিনি সিরিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে।
সূত্রটি আরও নিশ্চিত করেছে যে, আটক এই সিরীয় নাগরিক কোনো সাবেক সেনা কর্মকর্তা নন, বরং তিনি একজন বেসামরিক ব্যক্তি।
সুলেইমানের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া আরেক আলোচিত ব্যক্তি হলেন লেবাননের কুখ্যাত মাদকসম্রাট নুহ জাইতারের ছেলে আলী। উল্লেখ্য, গত বছর লেবাননের সেনাবাহিনী এই মাদকসম্রাটকে বন্দি করেছিল।
প্রাথমিক আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই তিন অভিযুক্তকে লেবাননের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
২০২৪ সালের শেষের দিকে বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকেই সিরিয়া ও লেবানন নিজেদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করার চেষ্টা করছে। विशेष করে লেবাননে আসাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়ার পর এই উদ্যোগ আরও বেগবান হয়।
সম্পর্ক উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতায় লেবানিজ কর্তৃপক্ষ এখন বেশ তৎপর। চলতি মাসের শুরুতেই সিরিয়ার নতুন সরকারের বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে এক সাবেক সিরীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও তার কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া, হত্যা ও নির্যাতনের মতো মারাত্মক অপরাধে অভিযুক্ত আসাদ আমলের এক সাবেক জেনারেলকেও গত মাসে দামেস্কের কাছে হস্তান্তর করেছে বৈরুত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বুন্দেসলিগার রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে এফসি আউগ্সবুর্গের বিপক্ষে ড্র করে বায়ার ০৪ লেভারকুসেন। শেষ মুহূর্তের গোলে আউগ্সবুর্গের বিরুদ্ধে ২-২ ব্যবধানে ম্যাচ ড্র করে হার এড়ায় লেভারকুসেন।
আউগ্সবুর্গের ঘরের মাঠ, ডব্লিউডব্লিউকে অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধে লেভারকুসেন এগিয়ে গেলেও, দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিকরা দুটি গোল করে অসাধারণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। তবে শেষ সময়ে প্যাট্রিক শিকের গোলে ১ পয়েন্ট নিশ্চিত করে কার্লেস মার্টিনেজ নভেলের শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই সফরকারী লেভারকুসেন বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য দেখায়। আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ১৮ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ান কোফানে।
তার দারুণ গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে লেভারকুসেন।
কিন্তু বিরতি থেকে ফিরে আউগ্সবুর্গ খোলস ছেড়ে বের হয়। ম্যাচের ৫০ মিনিটে ফ্যাবিয়ান রাইডারের আসিস্ট থেকে আউগ্সবুর্গকে সমতায় ফেরান স্ট্রাইকার মাইকেল গ্রেগরিৎস্ক। ঠিক ৫ মিনিট পরে, অর্থাৎ ৫৫ মিনিটে, হেনেস বেহরেন্সের পাস থেকে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করে ডব্লিউডব্লিউকে অ্যারেনাকে উল্লাসে মাতান গ্রেগরিৎস্ক।
২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে লেভারকুসেন আক্রমণের ধারা বাড়ায়, যেখানে তারা পুরো ম্যাচে মোট ২৫টি শট নেয়।
ম্যাচ যখন আউগ্সবুর্গের জয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন ৮৯ মিনিটে লেভারকুসেনের বদলি স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিক দৃশ্যপটে হাজির হন। মালিক তিলমানের বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে আউগ্সবুর্গের জাল কাঁপান তিনি। ফলে নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা পায় বায়ার লেভারকুসেন।
পুরো ম্যাচে ৫৯ শতাংশ বল পজিশন এবং ১৪টি কর্নার আদায় করেও পূর্ণ ৩ পয়েন্ট না পাওয়ার আবেগ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে লেভারকুসেনকে।
অন্যদিকে ঘরের মাঠে দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জয় হাতছাড়া হলো এফসি আউগ্সবুর্গের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে গত কয়েক দিনে ৪৬ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাটির ইয়েমেন মিশনের প্রধান আবদুসসাত্তর এসোয়েভ সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে এই তথ্য অবহিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দিনে প্রায় ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাস্তুচ্যুতদের অধিকাংশই ইয়েমেনের অভ্যন্তরেই অন্য অঞ্চলে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তাৎক্ষণিকভাবে, তাইজ গভর্নরেটে মোচা শহরের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর অনেকে তাইজ শহর ও আশপাশের বিভিন্ন জেলায় আশ্রয় নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন বলে তিনি জানান।
এসোয়েভ বলেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হলো জরুরি আশ্রয়। সেইসাথে খাদ্য, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রয়োজনও রয়েছে। এসব মৌলিক সহায়তা প্রদান করার চেষ্টা করছে আইওএম।
ইয়েমেনে বর্তমান পরিস্থিতির আগেই, প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়ে ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। নতুন করে সংঘাত এবং তহবিল সংকটের কারণে দেশটির মানবিক পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (কর্ণফুলী ইপিজেড) দুই দশকের পথচলা পূর্ণ করেছে। ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই ইপিজেডের উদ্বোধন করেছিলেন। ২০ বছরের পথচলায় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্য রপ্তানি করেছে ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
২০০৬ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর পর কর্ণফুলী ইপিজেড থেকে প্রথম রপ্তানি শুরু হয় ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে। পাওলো ফুটওয়্যার (বিডি) লি. এ ইপিজেড থেকে প্রথম পণ্য রপ্তানি করে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৯.৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে রপ্তানির যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪,১৫৬.৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
কর্ণফুলী ইপিজেডের রপ্তানি কেবল গার্মেন্টসেই সীমাবদ্ধ নেই। গার্মেন্টসের বাইরে এখান থেকে রপ্তানি হচ্ছে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সামগ্রী, বাইসাইকেল, চামড়াজাত পণ্য, ফার্নিচার, ব্যাগ, আন্ডারগার্মেন্টস, ফ্যাশন ও সেফটি শুর মতো পণ্য, যা দেশের রপ্তানির ঝুড়িকে বৈচিত্র্যময় করেছে। বিশ্বের অন্যতম প্রখ্যাত ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হয় এসব পণ্য।
কর্ণফুলী ইপিজেডের ‘দুই দশকের রূপান্তর ও বিকাশ’ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আজ এ তথ্য জানানো হয়।
এ সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম স্টিল মিলসের জায়গায় গড়ে ওঠা কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (কর্ণফুলী ইপিজেড) দুই দশকের যাত্রার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
এ সময় কর্ণফুলী ইপিজেড-এর নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক, বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভির হোসেন, বেপজার নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) আনোয়ার পারভেজ, কম্পবেলি গ্লোবাল লিমিটেডের সিইও লি হেঙ্গো উপস্থিত ছিলেন।
কর্ণফুলী ইপিজেড-এর নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক বলেন, চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কর্ণফুলী নদীর তীরে একসময় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল চিটাগাং স্টিল মিলস লি.। কর্ণফুলী নদীতীরে কারখানাটির অবস্থান হওয়ায় ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে এর অভ্যন্তরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পশ্চাৎপদতা, উৎপাদন ব্যয়ের চাপ এবং ব্যবস্থাপনার নানা সমস্যার কারণে মিলটি ধীরে ধীরে লোকসানের মুখে পড়ে। ফলশ্রুতিতে ১৯৯৮ সালে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে লে-অফ ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৯৯৯ সালের ৭ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চিটাগং স্টিল মিলস লিমিটেড (সিএসএম) স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। ফলে বহু শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। যে এলাকায় প্রতিদিন হাজারো শ্রমিকের পদচারণা ছিল, সেখানে নেমে আসে নীরবতা। সমাপ্তি ঘটে চিটাগং স্টিল মিলসের।
তিনি জানান, তবে একটি সমাপ্তিই জন্ম দেয় আরেকটি শুরুর। এই অচলাবস্থা দূর করার জন্য তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী, বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চিটাগাং স্টিল মিলস লিমিটেডকে চট্টগ্রাম ইপিজেডের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পত্রের মাধ্যমে অনুরোধ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্টিল মিল এলাকার জমিতে ইপিজেড স্থাপন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পতেঙ্গার এই এলাকাকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বেপজার অধীনে শুরু হয় নতুনভাবে শিল্পায়নের উদ্যোগ।
২০০৪ সালে স্টিল মিলের জমি দুই ধাপে বেপজাকে হস্তান্তর করা হয়। প্রথম ধাপে ২০০৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ৭৪ একর এবং দ্বিতীয় ধাপে একই বছরের ২০ ডিসেম্বর ১৪৮.৪২ একর অর্থাৎ সব মিলিয়ে বিলুপ্ত চট্টগ্রাম স্টিল মিলসের সমুদয় জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বেপজার নিকট হস্তান্তর করা হয়। শুরু হয় রূপান্তরের প্রক্রিয়া। পুরোনো স্থাপনা সরিয়ে জমি উন্নয়ন করা হয়। সেই জায়গাতেই গড়ে ওঠে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল—কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (কর্ণফুলী ইপিজেড)। যেখানে আধুনিক অবকাঠামো, কারখানা, ইউটিলিটি সুবিধা একত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৬ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কর্ণফুলী ইপিজেড উদ্বোধন করেন।
নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশের বিনিয়োগকারী কর্ণফুলী ইপিজেডে বিনিয়োগ করেছে। দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চীন, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়া। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১.৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ নিয়ে যাত্রা শুরু করা কর্ণফুলী ইপিজেডে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮৭.৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এই ইপিজেডের ২৫৮টি শিল্পপ্লট (প্রতিটির আয়তন ২ হাজার বর্গমিটার), ৫টি স্ট্যান্ডার্ড ফ্যাক্টরি ভবন (মোট ফ্লোর স্পেস ৪৯ হাজার ৭৯৮ বর্গমিটার)-এর পুরোটাই ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কর্ণফুলী ইপিজেডে মোট ৪০টি প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে, যার মধ্যে ২৯টি শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন, তিনটি যৌথ মালিকানাধীন এবং বাকি ৮টি দেশীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ৫টি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিকের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান ও আরও প্রায় ১ লাখ মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে বলে তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ