প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
গ্রামীণ হাট-বাজারকে ঘিরেই আবর্তিত হয় স্থানীয় অর্থনীতির বড় একটি অংশ। এসব বাজারে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠলে একদিকে যেমন ব্যাবসা-বাণিজ্যের পরিধি বাড়বে; অন্যদিকে তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। একই সঙ্গে দোকান বরাদ্দ ও ভাড়া থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
সে লক্ষ্যেই বগুড়ার তিন উপজেলায় প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ছয়টি দুইতলা বিশিষ্ট বিপণি ভবন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বগুড়ার শাজাহানপুর, দুপচাঁচিয়া ও কাহালু উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিপণি ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের জামুন্না হাট, দুপচাঁচিয়া উপজেলার গুনাহার ইউনিয়নের তালুচহাট ও সদর ইউনিয়নের ধাপের হাট এবং কাহালু পৌর হাট-বাজার, দুর্গাপুর হাট ও মালঞ্চা ইউনিয়নের মালঞ্চা হাটে এসব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুইতলা ভবনের নিচতলা উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে।
এতে প্রচলিত অস্থায়ী হাটের পরিবর্তে ব্যবসায়ীরা স্থায়ী ও পরিকল্পিত পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাবেন। ইতোমধ্যে কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর হাটের বিপণি ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।
প্রকল্প সূত্র জানায়, নির্মাণকাজের অগ্রগতি বাড়াতে গত ৩০ জুন এলজিইডি বগুড়ার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব আলম। পাশাপাশি কাজের মান ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করছেন প্রকৌশল কর্মকর্তারা।
দুপচাঁচিয়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু তালিম হোসেন জানান, গুনাহার ইউনিয়নের তালুচহাটে দুইতলা ভবনে মোট ২২টি কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। ভবনের নিচতলার দুই কর্নারে চারটি কক্ষসহ দোকানগুলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এছাড়া সদর ইউনিয়নের ধাপের হাটে তিন কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে দুইতলা বিপণি ভবন। এর নিচতলা উন্মুক্ত এবং দ্বিতীয় তলায় থাকছে পৃথক কক্ষবিশিষ্ট দোকান।
শাজাহানপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাশেদ ইমরান জানান, আড়িয়া ইউনিয়নের জামুন্না হাটে দুই কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে দুইতলা বিপণি মার্কেট। নিচতলা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং দ্বিতীয় তলায় তৈরি করা হয়েছে ১৬টি দোকানঘর। আগামী অক্টোবরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার আশা করছেন তারা।
কাহালু উপজেলা প্রকৌশলী মুক্তার হোসেন খান জানান, দুর্গাপুর হাটে দুই কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুইতলা মার্কেটটি সম্প্রতি হস্তান্তর করা হয়েছে। নিচতলা উন্মুক্ত এবং দ্বিতীয় তলায় রয়েছে ১৫টি দোকান। এছাড়া কাহালু পৌর হাট-বাজারে এক কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বিপণি ভবনে ১৪টি দোকানঘর থাকছে। মালঞ্চা হাটে দুই কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে দুইতলা ভবন। এর নিচতলাও উন্মুক্ত এবং দ্বিতীয় তলায় থাকছে ১৪টি দোকানঘর।
এলজিইডি বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, উন্নয়নকাজে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শনে যাচ্ছেন। তিন উপজেলার হাট-বাজারে নির্মাণাধীন বিপণি ভবনগুলোর অধিকাংশই এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাট-বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী বিপণি ভবনের দোকানঘর নির্ধারিত শ্রেণি বা ক্যাটাগরি অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হবে। আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে প্রয়োজনে লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে।
বিপণি ভবনগুলো চালু হলে শুধু ব্যাবসার পরিবেশই বদলাবে না। বরং হাট-বাজারকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। স্থায়ী দোকান ও উন্মুক্ত নিত্যপণ্যের বাজারের কারণে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পরিবহন, শ্রমিক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সেবাখাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দোকানের সালামি ও মাসিক ভাড়া থেকে সরকারি রাজস্ব আয় বাড়বে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন