ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য: বাণিজ্যমন্ত্রী


বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এবং আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীতে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা জানান। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত তিন দশকে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এটি শুধুমাত্র একটি ব্যবসায়িক সংগঠন নয়, বরং সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।

তবে এই সম্পর্কের গুরুত্ব শুধু বাণিজ্যের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, জ্ঞান এবং বৈশ্বিক সর্বোত্তম অনুশীলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং দেশের জাতীয় রাজস্বে ২০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখছে। এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি মার্কিন ব্যবসায়ীদের আস্থার প্রতিফলন করছে।

আরও পড়ুন: কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাকৃবিতে আন্তর্জাতিক প্রকল্পের উদ্বোধন

তিনি অব্যাহতভাবে বলেন, সম্প্রতি অ্যামচ্যামের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরো ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যখন কোনো প্রকৃত ব্যবসায়িক সমস্যা আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে, তখন আমার মন্ত্রণালয় ও সরকার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তিনি এ প্রসঙ্গে অ্যামচ্যামের একটি সদস্য প্রতিষ্ঠান ‘কর্টেভা বাংলাদেশ’-এর একটি উদাহরণ তুলে ধরে বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটির শিল্প ও বাণিজ্যিক লাইসেন্স সংক্রান্ত একটি জটিলতা সরকারের উদ্যোগে এক মাসের মধ্যেই সমাধান করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশি গুণাবলী যেমন কৌশলগত অবস্থান, তরুণ ও দক্ষ কর্মীবাহিনী, বড় অভ্যন্তরীণ বাজার, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন শিল্প এবং আর্থিক সেবা সহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিনিয়োগ আকর্ষণে শুধুমাত্র সুযোগ যথেষ্ট নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজন পূর্বাভাসযোগ্যতা, ব্যবসা পরিচালনার সহজ পরিবেশ, দক্ষ বাণিজ্য সুবিধা এবং স্থিতিশীল নীতিগত কাঠামো। Mমন্ত্রী বলেছেন, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ডিজিটালাইজেশন বৃদ্ধি, বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণ এবং অতিরিক্ত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।

ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-মার্কিন অর্থনৈতিক অংশীদারির পরবর্তী অধ্যায় আরও সম্ভাবনাময় হতে পারে। আরও বেশি মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক দক্ষতা যুক্ত হবে এবং বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার, ব্যবসায়ী সমাজ, বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী এবং অ্যামচ্যামের মতো সংগঠনের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারি প্রয়োজন। অ্যামচ্যামের ৩০ বছরের পূর্তিকে ভবিষ্যতের নতুন সম্ভাবনা তৈরির সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আরো বাণিজ্য, আরো বিনিয়োগ, অধিক উদ্ভাবন, নতুন কর্মসংস্থান এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরো শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অংশীদারি নির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে তিনি অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংগঠনটির সদস্য এবং সম্পর্কিত সকলকে অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে সাফল্য কামনা করেন। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহসভাপতি আলা উদ্দিন আজাদ, সাবেক সভাপতি, কার্যনির্বাহী কমিটির বর্তমান ও সাবেক সদস্য এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থি ছিলেন।

আরও পড়ুন: ঢাকার বড় চ্যালেঞ্জ যানজট ও রাস্তায় হকারের অব্যবস্থাপনা: ডিএসসিসি প্রশাসক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মির্জা ফখরুলের শূন্য আসনে ভোটের তারিখ জানাল বিএনপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২৩ পি.এম


মির্জা ফখরুলের শূন্য আসনে ভোটের তারিখ জানাল বিএনপি

বিএনপির সাবেক মহাসচিব এবং বর্তমানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শূন্য আসনে আগামী ২৯ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে বিএনপি জানিয়েছে।

দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি জানান, ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে আগ্রহীরা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে।

রিজভী বলেন, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিই এ মনোনয়ন বোর্ডের দায়িত্ব পালন করবে। ওই সভায় চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ২৯ অক্টোবরের শূন্য আসনের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য এটিই বিএনপির নির্ধারিত সময়সূচি।

এর আগে, শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, দলের সাংগঠনিক শূন্যপদ পূরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে তারা আগের মতো গুম-খুনের রাজনীতি করতে চায়: মাওলানা রফিকুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২৪ পি.এম


বাংলাদেশে তারা আগের মতো গুম-খুনের রাজনীতি করতে চায়: মাওলানা রফিকুল ইসলাম

মাওলানা রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুয়া) সভাপতি, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও সংসদ সদস্য, বলেছেন, ‘গণভোটের রায় বাতিল করার অনেক কারণ আছে। এবারের পার্লামেন্টে ১৩৩টি অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পার্লামেন্টে আনা হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ তারা বাতিল করে দিয়েছে। এর মধ্যে একটা ছিল গুম-খুন কমিশন। আমরা এর বিরোধিতা করেছি। তারা (বিএনপি) আগের মতোই গুম-খুনের রাজনীতি করতে চায় বাংলাদেশে।’

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তারা যে আইন করেছে, আমরা বলেছি, আগের অধ্যাদেশের মধ্যে ছিল, গুম-খুনের বিরুদ্ধে যাদের গুম-খুনের ব্যাপারে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসবে, সেই সংস্থা এর তদন্ত করতে পারবে না। কিন্তু সেইটা পরিবর্তন করে পুলিশ গুম করবে, খুন করবে, আবার এটার অভিযোগের তদন্ত করবে পুলিশ। আবার সেখানে বলা হয়েছে, কোনো অভিযোগকারী যদি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারে, তাহলে তাদের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত সাজার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাহলে কোন মানুষ অভিযোগ করতে যাবে? এগুলো করার উদ্দেশ্য কী? এগুলো করার উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে আবার স্বৈরাচারের দিকে নিয়ে যাওয়া। আবার ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যাওয়া।’

তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ কোনো পরিবারের বাংলাদেশ নয়। এই বাংলাদেশ ২০ কোটি মানুষের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, এটা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ। এর মধ্যে যদি কেউ ব্যত্যয় তৈরি করতে চায়, এর মধ্যে যদি কেউ অন্য কোনো চিন্তা করে, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ, বাংলাদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে যেভাবে ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠীকে এই বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, যারাই এই কর্মকাণ্ড করবে, তাদেরকেও বিতাড়িত হতে হবে।’

শিক্ষাঙ্গনে আদর্শ মানুষ গড়ে তোলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতিমুক্ত করা এবং ৫ আগস্টের পর শিক্ষাঙ্গনে যে পরিবর্তন এসেছে, তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একদল আদর্শ, সৎ, যোগ্য ও চরিত্রবান মানুষ তৈরি করার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আদর্শ মানুষ তৈরি করার কোনো কারিকুলাম নাই, কোনো সিলেবাস নাই। তাই সে কাজটি ইসলামী ছাত্রশিবির স্বতন্ত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভূমিকা পালন করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আমরা দেখেছি, গত ১৬ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা অতিষ্ঠ ছিল। কিছুই করার ছিল না। গত ১৬ বছরে গেস্টরুম কালচার, টর্চার সেল কালচার, গণরুম কালচার, জেন্ডারবাজির কালচার, চাঁদাবাজির কালচার, নেশাখোরের কালচার গোটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে গ্রাস করে ফেলেছিল। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবের মধ্য দিয়ে এর পরিবর্তন হয়েছে এবং এই পরিবর্তনকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য অনেকেই ষড়যন্ত্র করছে।’

রাষ্ট্রব্যবস্থায় দলীয়করণ ও স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। এই বাংলাদেশের মানুষেরা আজ পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনো কিছু করার সুযোগ পায় নাই। আমাদের আন্দোলন ছিল বৈষম্য, অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, বর্তমান সরকারও একই দিকে ধাবিত হচ্ছে। তারা কি দলীয়করণ করছে না? মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। তারা তাদের ইশতেহারে বলেছিলেন, সকল ক্ষেত্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। সমস্ত সিটি করপোরেশনে দলীয় লোকদের বসানো হয়েছে। সমস্ত জেলা পরিষদে দলীয় লোকদের বসানো হয়েছে। সমস্ত সরকারি করপোরেশনগুলোতে দলীয় লোকদের বসানো হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের আগে তো জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি সেটা ছিল না। তাই এমন একটা রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনো স্বৈরাচারের জন্ম না হতে পারে।’

বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা এত কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় তার থাকার সিটের বন্দোবস্ত করতে পারে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়তো ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারে, আর ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী বাইরে থাকে। এই ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর থাকার বন্দোবস্ত বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারে নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘পিএসসিতে হাজার হাজার কোটি টাকা বাজেট দেওয়া হয়, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয় না। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করা শিখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা করে বলতে হবে, আগামী ২ বছরের মধ্যে শতভাগ আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল, শিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীসহ প্রায় ৪ হাজার নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের পাঞ্জাব পুলিশের বড় সাফল্য, প্রথমবার ইউরোপ থেকে অপরাধী প্রত্যর্পণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২৮ পি.এম


ভারতের পাঞ্জাব পুলিশের বড় সাফল্য, প্রথমবার ইউরোপ থেকে অপরাধী প্রত্যর্পণ

প্রথমবারের মতো ভারতীয় পাঞ্জাব পুলিশ ইউরোপীয় কোনো দেশ থেকে একটি পলাতক অপরাধীকে প্রত্যর্পণ করতে সমর্থ হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাঞ্জাব পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি) গৌরব যাদব।

ডিজিপি গৌরব জানিয়েছেন, কুখ্যাত গ্যাংস্টার অমৃতপাল সিং, যার ডাকনাম অমৃত দালাম, মলদোভা থেকে সফলভাবে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এটি পাঞ্জাব পুলিশের জন্য এক ঐতিহাসিক ঘটনা, কারণ এটিই প্রথম কোনো ইউরোপীয় দেশ থেকে অপরাধী প্রত্যর্পণের ঘটনা। খবরটি এনডিটিভিতে প্রকাশিত হয়েছে।

ডিজিপি গৌরব বলেছেন, অমৃত দালাম বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ), অস্ত্র আইন এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধের মতো একাধিক মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। তিনি কুখ্যাত জগ্গু ভগদানপুরিয়া গ্যাংয়ের একজন প্রধান সহকারী হিসেবে চিনা হয়।

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ৭টি খুন, খুনের চেষ্টা, মাদক ব্যবসা, অস্ত্র আইন লঙ্ঘন এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনসহ মোট ২১টি গুরুতর মামলা। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি ভারত থেকে পালিয়ে যান।

অমৃত দালাম প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবং পরে মলদোভায় আত্মগোপন করেছিলেন। মলদোভা কর্তৃপক্ষ তাকে মলদোভা-ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি এলাকা থেকে আটক করে। এরপর সিবিআইয়ের মাধ্যমে জারি করা ইন্টারপোল রেড নোটিশের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মলদোভা সরকার তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ডিজিপি আরও জানান, এটি পাঞ্জাব পুলিশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, কারণ কোনো ইউরোপীয় দেশ থেকে প্রত্যর্পণের ঘটনাও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। তিনি এই সফলতার জন্য এজিটিএফ এবং ওএফটিইসি দলের প্রচেষ্টাকে সেলাম জানান।

ডিজিপি মলদোভা ও আজারবাইজান কর্তৃপক্ষ, সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই), ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কোঅপারেশন ইউনিট (আইপিসিইউ), ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২৮ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগামী পাঁচ বছরে আরও ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আনতে চায়। এ লক্ষ্যে, সরকার আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচ্যাম) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন বলরুমে অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ তথ্য জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহ-সভাপতি আলা উদ্দিন আজাদ, সাবেক সভাপতি, কার্যনির্বাহী কমিটির বর্তমান ও সাবেক সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত তিন দশক ধরে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এটি শুধু একটি ব্যবসায়িক সংগঠন নয়, বরং সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। তবে এই সম্পর্কটি কেবল বাণিজ্যের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, জ্ঞান ও বৈশ্বিক সর্বোত্তম অনুশীলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং দেশের জাতীয় রাজস্বে ২০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখছে। এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি মার্কিন ব্যবসায়ীদের আস্থার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি অ্যামচ্যামের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সরকার এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। যখন কোনো প্রকৃত ব্যবসায়িক সমস্যা আমাদের কাছে উত্থাপন করা হবে, তখন আমার মন্ত্রণালয় ও সরকার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৌশলগত অবস্থান, তরুণ ও দক্ষ কর্মীবাহিনী, বড় অভ্যন্তরীণ বাজার এবং প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন শিল্প ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিনিয়োগ আকর্ষণে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি উল্লেখ করেন, সুযোগের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজন পূর্বাভাসযোগ্যতা, ব্যবসা পরিচালনার সহজ পরিবেশ, দক্ষ বাণিজ্য সুবিধা এবং স্থিতিশীল নীতিগত কাঠামো। এজন্য ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার সহজীকরণ, ডিজিটালাইজেশন বৃদ্ধি, বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণ ও আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-মার্কিন অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের আগামী অধ্যায় আরও সম্ভাবনাময় হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আরও বেশি মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক দক্ষতা যুক্ত হবে এবং বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়বে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার, ব্যবসায়ী সমাজ, বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী ও অ্যামচ্যামের মতো সংগঠনের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারত্ব প্রয়োজন। আরও বাণিজ্য, আরও বিনিয়োগ, অধিক উদ্ভাবন, নতুন কর্মসংস্থান এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই রবিউস সানি, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৩৫
জোহর ১১:৪৯
আসর ০৪:০৭
মাগরিব ০৫:৪৭
ইশা ০৬:৫৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫০ সূর্যাস্ত : ০৫:৪৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%