১০:০১ পি.এম
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মধ্যে তাবিজ দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে জামায়াতের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পুলিশ কর্তৃক।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে পুলিশ মাহাবুবকে গ্রেপ্তার করে।
মাহাবুব উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে। তিনি মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামী দলের সভাপতি এবং পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। তার বাড়ির পাশে রয়েছে একটি ফার্মেসি।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে পুশইন ঠেকাতে সতর্ক বিজিবি ও এলাকাবাসী
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভুক্তভোগী নারী তার ভাইয়ের ছেলের পড়াশোনার উন্নতির জন্য তাবিজ দেওয়ার উদ্দেশ্যে মাহাবুবের বাড়িতে গিয়েছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে, সেখানকার একটি ঘরে আটকে রেখে তাকে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করা হয় এবং তার পরিহিত বোরখা ও হিজাব খুলে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী নারীর একটি ছেলে রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এ কারণে বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যার সমাধানের আশায় তিনি প্রায়ই মাহাবুবের কাছে তাবিজ নিতে যেতেন। তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগও ছিল।
অভিযোগ করা হচ্ছে, ঘটনার দিন সকালে মাহাবুব তার স্ত্রী ও সন্তানদের শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তারপর সন্ধ্যায় ওই নারীকে বাড়িতে ডাকেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ঘরের ভেতরে অবস্থান করার পর ওই নারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে ভুক্তভোগী নারী মির্জাগঞ্জ থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মিরাজ বলেন, সন্ধ্যার দিকে ওই নারীকে মাহাবুবের বাড়িতে দেখার সময় এলাকাবাসীর সন্দেহ জাগে। পরে কয়েকজন ঘরে প্রবেশ করে ওই নারীর কাছ থেকে জানতে পারেন, তাবিজ দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে এনে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু
এদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী দলের আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি এখনও তার জানা নেই। তবে যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলার আসামি মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারও হয়েছে। আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত বলে গণ্য করা যাবে না।
আরও পড়ুন: টঙ্গীতে শিশু ধর্ষণকারীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন