ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ১৩ বছরের শিক্ষার্থী হাসিব


চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ১৩ বছরের শিক্ষার্থী হাসিব

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে হাসিব (১৩) নামে এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছিল শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) দুপুরে মহারাজপুর ইউনিয়নের আকন্দোবাড়িয়া ঘাট এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ১টার দিকে পিকনিকে এসে মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নামে তিন বন্ধু। এ সময় নদীর প্রবল স্রোতে তারা তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও হাসিব নামের একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

নিখোঁজ শিক্ষার্থী হাসিব চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর এলাকার ফিল্টার হাট গ্রামের বাসিন্দা বাশিরের ছেলে এবং সে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে মাঠে গড়াল ৫৩তম জাতীয় স্কুল-মাদ্রাসা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আমার শহর ময়লা কেন?’- ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাগরিকদের প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


‘আমার শহর ময়লা কেন?’- ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাগরিকদের প্রতিবাদ

‘পরিচ্ছন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাই', 'পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে হলে ময়লার স্তূপ সরাতে হবে', 'আমার শহর ময়লা কেন?', 'পরিবেশ বাঁচান, শহর বাঁচান' এই সম্বোধনগুলোতে প্লে-কার্ড হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনগণ। একইসঙ্গে, অবিলম্বে শহর থেকে ময়লা আবর্জনা সরানোর দাবি জানানো হয়েছে।

শহরের বিভিন্ন স্থানে জমাটবদ্ধ ময়লা-আবর্জনার স্তুপ, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ক্রমবর্ধমান পরিবেশ দূষণের প্রতিবাদ জানিয়ে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর এবং বাসযোগ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ার দাবিতে শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের সামনে ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্লে-কার্ড হাতে অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সৈয়দ মোহাম্মদ শাহিনুর রহমান, তারিফুল হাসান, সাঈদ আব্দুল হিমু, সজল চৌধুরী, আশিক, আল ফারাবী, তানিমুল ইসলাম উদয়, রফি চৌধুরী, শামিম আহমেদ, দেলোয়ার হোসাইন, মোহাম্মদ তানজিল।

এ সময় বক্তারা উল্লেখ করেন, 'একটি আধুনিক শহরের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। তাই দ্রুত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, নির্ধারিত স্থানগুলোতে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি।'

বক্তারা আরও বলেন, 'ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর দিন দিন ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও জনসমাগমস্থলের পাশে বর্জ্য পড়ে থাকার কারণে দুর্গন্ধে মানুষের চলাচল দুর্বিসহ হয়ে উঠছে। এর ফলে, একদিকে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে শহরের সৌন্দর্য ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পৌরসভার নিয়মিত এবং কার্যকর বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থার অভাবে এই সংকট প্রতিদিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্র-জনতার বিজয় ১৭ বছরের ক্ষোভের ফল: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


ছাত্র-জনতার বিজয় ১৭ বছরের ক্ষোভের ফল: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

’২৪ এর জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার আন্দোলন সম্পর্কে স্মরণ করে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের শাহাদাৎ বরণের মাধ্যমে ১৭ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তার ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। যখনই কোনো দল দেশের স্বাধীনতা বা অর্জনকে নিজেদের কুক্ষিগত করতে চেয়েছে, তখন তাদের পালিয়ে যেতে হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে গাছের চারা, গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ অনুষ্ঠানে এই কথাগুলি বলেন তিনি।

‘কৃষিই সমৃদ্ধি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্থানীয় কৃষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাঝে এসব কৃষি উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণের উদ্বোধন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই আমি মনে করি না যে, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরা যা বলব তা হবে। দেশের মানুষের যা চায়, সেটাই হবে। দেশের মানুষের স্বার্থে আমরা সব দল একসাথে কাজ করব।

এছাড়াও রাজনৈতিক সহকর্মীদের আশ্বস্ত ও হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিএনপির ইতিহাস পালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস নয়, বিএনপির ইতিহাস আত্মসমর্পণের ইতিহাস নয়। শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে যে দল গড়ে উঠেছে এবং বেগম খালেদা জিয়া সারা জীবন আপসহীন থেকে দেশের মানুষের অধিকারের লড়াই পরিচালনা করেছেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থেকেও দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন; সেই দলের নেতা-কর্মীরা মাঠে থেকে জনগণকে সাথে নিয়ে যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করবে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ রুবানা তানজিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির আসনে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ, হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ.ন.ম নিয়ামত উল্লাহ, ঘোড়াঘাট থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. রফিকুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ্ মো. শামীম হোসেন চৌধুরী, পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুস সাত্তার মিলন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহফুজার রহমান লাবলু।

আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের ফলদ ও বনজ গাছের চারা এবং কৃষি উপকরণ বিতরণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বর্ণাঢ্য মোটর শোভাযাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১২ পি.এম


বরিশালে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বর্ণাঢ্য মোটর শোভাযাত্রা

ফুটবল বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ দখিনের জেলা বরিশালে ছড়িয়ে পড়েছে। সেমিফাইনালে আলবিসেলেস্তেদের অসাধারণ জয়ে এই অঞ্চলের আর্জেন্টাইন সমর্থকরা বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে উঠেছেন। ফাইনালে ওঠার আনন্দ উদযাপনে এখন পুরো নগরী নীল-সাদার উৎসবে রূপ নিয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলের দিকে নগরীতে শুরু হয় একটি বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা। শত শত ফুটবলপ্রেমী নীল-সাদা জার্সি পরে, প্রিয় দলের পতাকা হাতে নিয়ে রাজপথে আনন্দ-উল্লাসে মগ্ন হয়ে ওঠেন। মোটরসাইকেলের হর্ন এবং আর্জেন্টিনার সমর্থনে 'মেসি-মেসি' স্লোগানে পুরো নগরী মুখরিত হয়ে ওঠে।

বিকেলে নগরীর ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এরপর এটি শহরের সদর রোড, হাসপাতাল রোড, নতুন বাজার, বিএম কলেজ রোড, সিএন্ডবি রোড ও আমতলার মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বেলস পার্ক মাঠে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রা চলাকালীন রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষকেও হাত নেড়ে সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে দেখা যায়।

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এবারের আসরেও তারা বিশ্বাস করেন তাদের প্রিয় দল শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় তুলবে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোপার ট্রফি ঘরে নেওয়ার ব্যাপারে তারা সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া নগরীর কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা আর্জেন্টাইন সমর্থক রিচার্ড দিগন্ত বলেন, ‘মেসিদের খেলা মানেই আলাদা জাদু। সেমিফাইনালের পারফরম্যান্স দেখার পর আমাদের আত্মবিশ্বাস দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আর্জেন্টিনা এখন যে ফর্মে আছে, ফাইনালে তাদের আটকানো অসম্ভব। আমরা ট্রফি নিয়েই ফিরে আসব।’

বিএম কলেজের শিক্ষার্থী তাশফিয়া রহমান জানিয়েছেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। এবারের কোপা আমেরিকা আমাদের জন্য ভীষণ আবেগের বিষয়।’

শোভাযাত্রার অন্যতম সমন্বয়ক সাইদুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘বরিশালে আর্জেন্টিনার ভক্ত-সমর্থকদের সংখ্যা বরাবরই খুব বেশি। প্রিয় দলের ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা ঘরে বসে থাকতে পারিনি। বেলস পার্ক থেকে শুরু করে পুরো শহরের প্রধান সড়কগুলো আমরা নীল-সাদায় রাঙিয়ে দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুক্রবারের এই শোভাযাত্রা কেবল শুরু, আসল উদযাপন হবে ফাইনাল জয়ের পর।’

আরেক প্রবীণ সমর্থক নাসির উদ্দিন মন্তব্য করেন, ‘এই দলটির মধ্যে একটি বিজয়ী মনোভাব রয়েছে। পুরো টুর্নামেন্টের যেভাবে তারা খেলেছে, তাতে কাপ আমাদেরই থাকবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের বিরুদ্ধে সৌদির পক্ষে পাকিস্তানের জড়ানোই হবে আত্মঘাতী ও ভারত-ইসরাইলের খুশির কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৫ পি.এম


ইরানের বিরুদ্ধে সৌদির পক্ষে পাকিস্তানের জড়ানোই হবে আত্মঘাতী ও ভারত-ইসরাইলের খুশির কারণ

 

সম্প্রতি বিভিন্ন সূত্রের খবরে জানা গেছে, পাকিস্তান ইরানকে এমন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ইরান যদি ইসরাইল আমেরিকার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে হামলা করে তাহলে পাকিস্তান ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। এমন কথা সত্যিই যদি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়ে থাকে তাহলে তা শুধু তাদেরকে মুসলিম বিশ্বের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের নামধারী মুসলিম রাষ্ট্র গুলোর মত অবিশ্বাসী করে তুলবে না বরং নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার ক্ষেত্রেও মারাত্মক আশঙ্কা তৈরি করতে পারে। সেই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বের অপর দুই পরাশক্তিধর রাষ্ট্র রাশিয়া ও চীনের যেহেতু অর্থনৈতিক রাজনৈতিক ও ভূকৌশল গত গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে, সে কারণে পাকিস্তান তাদের শত্রু তালিকায় গিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের যে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছিল, তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে কিংবা এক ঘরে হয়েও পড়তে পারে যা তার বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য হবে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

এটি আর কিছুই নয়, মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র যাকে ধ্বংসের জন্য ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন থেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছে সেই সাথে তার চিরশত্রু, প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতও চেষ্টা করে যাচ্ছে, পাকিস্তান কর্তৃক সৌদি জোটের হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা কিংবা সম্ভাবনা পাকিস্তান বিরোধী শক্তি কিংবা তাদের মেঘ না চাইতে পাকিস্তান বৃষ্টি দেওয়ার পরিকল্পনাই মনে হবে। যেখানে ভারতের সাথে ইসরাইলের বন্ধুত্ব প্রকাশ্যে বিশ্বের অন্যতম বন্ধুত্বের পরিচায়ক। এমনকি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী এর মধ্যে ঘোষণাও দিয়েছেন যে, ভারতের মত একটি রাষ্ট্র ও জনগণ আমাদেরকে বিশ্বের সব রাষ্ট্রের চেয়ে বেশি ভালোবাসে।

সুতরাং পাকিস্তানকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া সম্পর্কে যতটা চিন্তা না করা উচিত, তার চেয়ে রাষ্ট্রটির রীতি নির্ধারকদের আরো বেশি বিশ্লেষণ করা উচিত, পশ্চিমা বিশ্বের প্ররোচনায় নিজের দেশের সাথে অপর মুসলিম দেশ আফগানিস্তানের সীমান্তে দা-কুমড়া সম্পর্ক তৈরি করা, ভারতের সাথে চিরশত্রু তথা সাপে-নেউলে সম্পর্ক এবং ইজরায়েল আমেরিকা কর্তৃক একমাত্র মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পরমাণু শক্তিধর হওয়ায় এশিয়ার এই পরাশক্তি রাষ্ট্রটিকে যেকোনো যুদ্ধে জড়িয়ে তার অক্ষমতা তৈরি কিংবা সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের মাধ্যমে কমিয়ে ফেলার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা - এটা এই মুহূর্তে পাকিস্তানের নীতি নির্ধারকদের বোঝা অত্যন্ত জরুরী।

পাকিস্তানের এটাও অনুধাবন করা উচিত, বর্তমান ইহুদিবাদী ইসরাইল - আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধে সৌদি আরব শুধু নয়, মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি কিংবা ইজরাইল-আমেরিকা সমর্থিত মুসলিম বিদ্বেষী কিংবা ইরান বিদ্বেষী রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে ইরান যুদ্ধ করছে না কিংবা এসব রাষ্ট্রের মুসলিম জনগণের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করছে না, কিংবা সেই রাষ্ট্রগুলোতে ইসরাইল কিংবা আমেরিকার মতো যুদ্ধনীতি পরিপন্থী কোন বেসামরিক স্থাপনায় এখন পর্যন্ত কোন হামলাও ইরান পরিচালনা করেনি। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ইরানের বেসামরিক স্থাপনা ও সেতুগুলোতে এমনকি হাসপাতালের কাছাকাছি হামলা চালিয়েছে তাতে ইরান বসে থাকবে এমনটা ভাবার কোন অবকাশ নেই। এবং ইরান ওইসব রাষ্ট্রের জনগণকে বলেও দিয়েছে যে, প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর জনগণ আমাদের ভাই, আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি না, যুদ্ধ করছি তাদের রাষ্ট্রে থাকা মুসলিমদের শত্রু, মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বিস্তার করা এবং মুসলিমদের ধ্বংস করা শক্তির বিরুদ্ধে এবং তাদের স্থাপনা ও ঘাঁটির বিরুদ্ধে হামলা চালানো হচ্ছে।

অর্থাৎ ইরান ঐ সব দেশের মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে যেখান থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ক্রমাগত যুদ্ধের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সামরিক বেসামরিক স্থাপনা রেল সেতু সড়ক সেতু এমনকি স্কুল কলেজ হাসপাতাল সহ সকল বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানকে এও বোঝা উচিত, ঐসব রাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনা করা হচ্ছে আরেক মুসলিম দেশ ইরানের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে ইরান-পাকিস্তান পারস্পরিক প্রতিবেশী এবং দুটি-ই মুসলিম রাষ্ট্র, যারা বিশাল সীমান্ত পরিবেষ্টিত। তাদের স্বার্থ এক হওয়া মুসলিম হিসেবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জরুরী। বিশেষ করে পশ্চিমা শক্তি তথা ইহুদীবাদী শক্তি আমেরিকা ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে এক্ষেত্রে তাদের এক থাকা ঈমানী দায়িত্ব ছিল।

কারণ ইহুদীবাদী ইসরাইল-আমেরিকার যৌথ শক্তি ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক, আফগানিস্তানের মতো মুসলিম রাষ্ট্রকে একের পর এক যখন ধ্বংস করছিল তখন মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মুসলিম নামধারী সৌদি আরব থেকে শুরু করে সকল মুসলিম রাষ্ট্রগুলোই তাদের রাষ্ট্রগুলোকে ব্যবহার করতে দিয়েছে কিংবা এসব হামলায় কোন প্রতিবাদ করেনি, সব সময় নিজেদের ক্ষমতা ও অর্থের লোভে চুপ থেকেছিল। এসব দেখেই পাকিস্তানকে অন্তত সারা বিশ্বের মুসলমানদের পালস বোঝা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরী।

মধ্যপ্রাচ্যের নামধারী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর উচিত ছিল - ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইরান কিংবা আফগানিস্তানের মতো মুসলিম রাষ্ট্রে পশ্চিমা ইহুদিবাদী রাষ্ট্রের হামলা কিংবা দীর্ঘদিন থেকে ফিলিস্তিনে যে গণহত্যা চলছে , লেবাননে যে হত্যাযজ্ঞ চলছে, কাশ্মীরের মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে অন্যায় অত্যাচার চলছে সেগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করতে পারলেও অন্তত তাদের নিন্দা জানানো কিংবা বিরোধিতা করা। কিন্তু তারা তো সেটা করেইনি বরং উল্টো এই রাষ্ট্রগুলোকে ধ্বংসের জন্য পশ্চিমা ইহুদীবাদী কিংবা জায়নবাদী শক্তিকে ইন্ধন দিয়েছে, নিজেদের ঘাঁটি, নিজেদের মাটি ব্যবহার করতে দিয়েছে এবং এখনো দিচ্ছে তার আরেক মুসলমান ভাইকে হত্যা করার জন্য।

সুতরাং এসব দেখে পাকিস্তান যদি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হওয়ায় নিজের ভবিষ্যৎ এবং মুসলিম বিশ্বের ভবিষ্যৎ চিন্তা না করে সাম্প্রতিক সৌদি আরবের সাথে সামরিক জোটে যাওয়ার কারণে কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের ওইসব রাষ্ট্রের মত রাষ্ট্রক্ষমতা এবং অর্থের লোভে পড়ে ইহুদীবাদী পশ্চিমা শক্তির দাসত্ব করার জন্য সৌদির পক্ষ হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নেয় তবে তাদেরকে এটাও মনে রাখা উচিত তারাও ওইসব মুসলিম রাষ্ট্রের মত সারা বিশ্বের মুসলিমদের কাছে গাদ্দার রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পাবে। নামে গাদ্দার হলেও চলতো, কিন্তু এর মাধ্যমে তারা আরো ভয়ংকর পশ্চিমা শক্তির পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছে এটা বিশ্লেষণ করা উচিত। কারণ বিশ্বের একমাত্র মুসলিম রাষ্ট্র যে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আর শক্তিশালী থাকতে পারবে না, এমন ব্যবস্থা করাই পশ্চিমা বিশ্বের একটি লক্ষ্য - সেটিও পাকিস্তানকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনার আগে কিংবা এমন চিন্তা করার আগে অনুধাবন করতে হবে।

বিশেষ করে পাকিস্তানকে আরো অনুধাবন করা উচিত, পশ্চিমা বিশ্বকে খুশি করতে মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্র গুলোর মত সৌদি জোটে থাকার কারণে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা কিংবা এমন চিন্তা করলে সব থেকে বেশি খুশি হবে প্রতিবেশী শত্রু রাষ্ট্র ভারত এবং ইসরাইল। কারণ তাদেরকে আর নিজে থেকে এই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের মোকাবেলা কিংবা পাকিস্তানের সামরিক শক্তি ধ্বংসের জন্য তাদের যুদ্ধ করার প্রয়োজন হবে না। যারা নিজেরাই অপর মুসলিম রাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরেক মুসলিম নামধারী পশ্চিমাদের সহায়ক সৌদি আরবের পক্ষ হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সম্ভাবনার কথা ভাবছে।

সুতরাং এটি ভারত, ইজরায়েল এবং পশ্চিমা বিশ্বের জন্য পাকিস্তান ধ্বংসের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ফল হিসেবে তাদের জন্য সাপে বর হবে, কিংবা মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মতো হবে। সেই সাথে ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি জোটে যাওয়ার কারণে পাকিস্তান যদি কোন কারণে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে শামিল হয় তাহলে রাষ্ট্রটি মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্র গুলোর মত মুসলিম বিশ্বের কাছে গাদ্দার হবার পাশাপাশি নিজের সামরিক শক্তির দিক থেকেও নিজেদেরকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ও ধ্বংসের মুখে ফেলবে এমন আশঙ্কা করা আজকের দিনে অমূলক নয়।

লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই রবিউস সানি, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৩৫
জোহর ১১:৪৯
আসর ০৪:০৭
মাগরিব ০৫:৪৭
ইশা ০৬:৫৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫০ সূর্যাস্ত : ০৫:৪৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%