০৯:৪৪ পি.এম
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ এই দুটি গোলের সাক্ষী বিখ্যাত ম্যাচ বলটি এখন নিলামে উঠতে যাচ্ছে।
স্মারক সংগ্রহের বাজারে আলোড়ন তোলার জন্য এই বলটির দাম ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক জার্সির সমান হতে পারে, এমনকি তারও বেশি হতে পারে হেরিটেজ অকশনসের ধারণা অনুসারে।
এই মাসের শেষ দিকে বলটির নিলাম শুরু হবে, এবং এটি শেষ হবে আগামী ২১ থেকে ২৩ আগস্ট। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আইকনিক দুটি গোলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকায় বলটির মূল্য কয়েক মিলিয়ন ডলার হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাকৃবিতে আন্তর্জাতিক প্রকল্পের উদ্বোধন
২০২২ সালে অনুষ্ঠিত একই ম্যাচে ম্যারাডোনার পরে জার্সি নিলামে ৯২ লাখ ৮০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল, যা প্রকাশ্যে বিক্রি হওয়া ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ফুটবল জার্সি।
হেরিটেজ অকশনসের প্রোডাকশন ম্যানেজার মাইক প্রোভেনজেল বলেছেন, তিনি অনেক ঐতিহাসিক স্মারক দেখেছেন, কিন্তু এই বলটি পুরো বিভাগের কাজ থামিয়ে দেওয়ার মতো ব্যতিক্রমী। তার মতে, ফুটবল সম্পর্কে ধারণা না থাকা সত্ত্বেও মানুষ এই বলটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝতে পারবেন।
এই বলটি প্রথমবারের মতো নিলামে উঠছে না। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গোল্ডিনের নিলামে বলটির সর্বোচ্চ দর ২০ লাখ ৪০ হাজার ডলার উঠেছিল, কিন্তু বিক্রেতার নির্ধারিত ন্যূনতম মূল্য পূরণ না হওয়ায় তা বিক্রি হয়নি। এবারও একটি গোপন ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রোভেনজেলের বিশ্বাস, বলটির মূল্য ম্যারাডোনার জার্সির কাছাকাছি, এমনকি তার চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ, এই বলটি সরাসরি ইতিহাসের অংশ যে বল দুটি গোল ইংল্যান্ডের জালে জড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকার বড় চ্যালেঞ্জ যানজট ও রাস্তায় হকারের অব্যবস্থাপনা: ডিএসসিসি প্রশাসক
১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনা হাত দিয়ে বিতর্কিত গোল করেন, যা পরে ‘হ্যান্ড অব গড’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মাত্র চার মিনিট পর তিনি নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে প্রায় ৬০ মিটার দৌড়ে ছয়জন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে অবিশ্বাস্য এক গোল করেন যা পরবর্তীতে ফিফা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জয় লাভ করে এবং ম্যারাডোনার নেতৃত্বেই দলটি বিশ্বকাপ জয়ী হয়।
ঐতিহাসিক বলটি দীর্ঘদিন ধরে ওই ম্যাচের তিউনিসিয়ান রেফারি আলী বিন নাসের সংরক্ষণ করেছিলেন। পরে এটি একটি ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের কাছে বিক্রি করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করা হয়েছে, এই বলটিই ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ উভয় গোলের সময় ব্যবহৃত হয়েছিল।
বর্তমানে, বলটির ভেতরের বাতাস বের হয়ে গিয়ে এটি চুপসে গেলেও, প্রোভেনজেলের মতে এটি বরং এর ঐতিহাসিক সত্যতার প্রমাণ। তার ভাষায়, মাত্র ১০০ ডলার খরচ করলে এটি ঠিক করা যেত, কিন্তু ইতিহাসের সঙ্গে কেউ কারসাজি করতে চাননি।
আরও পড়ুন: ব্রিকস দেশগুলোর জন্য ‘ওপেন-সোর্স এআই জোন’ গঠনের প্রস্তাব সি চিন পিংয়ের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন