প্রিন্ট এর তারিখঃ ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং; ০৫:৩৬ এম || প্রকাশের তারিখঃ ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইং; ০৫:২১ পি.এম
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বুক চিরে বয়ে চলা ঐতিহ্যবাহী সন্ধ্যা নদীতে রাতের আঁধারে চর কেটে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। নদীভাঙনে প্রতিবছর যেখানে শত শত মানুষ ঘরবাড়ি ও বসতভিটা হারাচ্ছেন, সেখানে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নদীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের আলো ফুরিয়ে যাওয়ার পর একটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। রাতের আঁধারে নদীর চর কেটে মাটি উত্তোলন করে তা বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীতে অবৈধ ড্রেজিংয়ের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, উত্তোলন করা মাটি কামরুল কাজীর ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে কামরুল কাজীর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
নদীভাঙনের সঙ্গে নতুন শঙ্কা
সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। প্রতিবছর নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও ফসলি জমি। অনেক পরিবার হারাচ্ছে তাদের শেষ আশ্রয়টুকুও।
এমন পরিস্থিতিতে নদীর চর কেটে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। তাদের আশঙ্কা, অপরিকল্পিতভাবে নদীর চর ও তীরবর্তী এলাকা থেকে মাটি উত্তোলন করা হলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীরের স্থিতিশীলতায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এতে ভবিষ্যতে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
‘কার ছত্রছায়ায় চলছে মাটি উত্তোলন?’
মাটি উত্তোলনের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, রাতের আঁধারে যদি নিয়মিত নদীর চর কেটে মাটি উত্তোলন করা হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?
কারা মাটি কাটছে, কোথা থেকে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে, কোথায় নেওয়া হচ্ছে এবং এ কাজে কোনো বৈধ অনুমোদন রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি
স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যা নদীর যেসব এলাকায় মাটি উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে, সেসব এলাকায় দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে নদীতে অবৈধ ড্রেজিং ও চর কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বার্থে সন্ধ্যা নদী রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
যে নদী প্রতিবছর মানুষের ঘরবাড়ি ও বসতভিটা কেড়ে নিচ্ছে, সেই নদীর বুক থেকেই যদি রাতের আঁধারে মাটি তুলে নেওয়া হয়—তাহলে এর দায় কার এবং এর পরিণতিই বা কী হবে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রয়োজন প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত। সন্ধ্যা নদী রক্ষা করা গেলে শুধু একটি নদী নয়, রক্ষা পাবে নদীপাড়ের অসংখ্য মানুষের জীবন, বসতি ও জীবিকা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন