প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিন অকেজো করে দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ নষ্ট করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার খাসেরহাট ইউনিয়নের সৈয়দ আবুল হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশের এলাকা এবং মধ্যলক্ষীপুরে মালেক হাওলাদারের বাড়ির পাশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে সংশ্লিষ্টদের ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত পাইপগুলো নষ্ট এবং ড্রেজার মেশিন অকেজো করে দেওয়া হয়, যাতে পুনরায় ওই স্থানগুলো থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা না যায়।
অভিযান পরিচালনা করেন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাস। দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যেই অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এটি তাঁর প্রথম বড় ধরনের অভিযান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কালকিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বিশেষ করে আড়িয়াল খাঁ নদে রাতের আঁধার থেকে শুরু করে দিনের বেলাতেও বিভিন্ন স্থানে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন তীব্র হচ্ছে এবং বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান স্থানীয়রা।
নতুন ইউএনওর দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহের মধ্যেই অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এমন অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান অব্যাহত থাকলে দীর্ঘদিনের এই বালু উত্তোলনের দৌরাত্ম্য কমবে এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগও কিছুটা লাঘব হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিশোর কুমার দাস বলেন, জনস্বার্থে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—শুধু একটি-দুটি অভিযান নয়, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করা এবং নদীভাঙনপ্রবণ মানুষের বসতভিটা রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন