প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে যে, সাময়িক জরুরি খরচ মেটানোর জন্য ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ সুবিধা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চালু করা হবে। এই সুবিধার মাধ্যমে গ্রাহকরা সুদের পরিবর্তে ফি-ভিত্তিক ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন এবং বিভিন্ন অপরিহার্য সেবার বিল ও ফি পরিশোধে সক্ষম হবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের সীমা ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে এবং তিন স্তরের মেয়াদও নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৬ সেপ্টেম্বর সব তফসিলি ব্যাংককে এই সুবিধা চালুর জন্য নির্দেশ দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, ই-পেমেন্ট ক্রেডিটের আওতায় ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত ফি, টোল ও টিকিট, করসহ সরকারি ফি, আমানতের কিস্তি এবং বিমা প্রিমিয়াম পরিশোধ করা যাবে। তবে, এই ঋণের অর্থ নগদে তোলা যাবে না, গ্রাহকের ওয়ালেটে জমা করা যাবে না, কিংবা কোনো ব্যাংক হিসাবে কোনো স্থানান্তর করা যাবে না।
ঋণের পরিমাণের ভেদে ৭, ১৫ অথবা ৩০ দিনের মেয়াদের সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের সর্বোচ্চ ফি ৩ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এক হাজার ১ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা ঋণের ক্ষেত্রে ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা এবং তিন হাজার ১ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত ২০ টাকা থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া, ৭ হাজার ১ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ফি সর্বাধিক ৩৫, ৭০ ও ১৩০ টাকায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক। মূলত ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারকারীরাই এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঋণ বিতরণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল অর্থ ও ফি পরিশোধ আবশ্যক। যদি নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্থ পরিশোধ করা হয়, তবে অতিরিক্ত কোনও সুদ, প্রি-পেমেন্ট বা আর্লি সেটেলমেন্ট ফি আরোপ করা যাবে না। তবে নির্ধারিত সময়ে পরিশোধে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত দিনের জন্য সীমিত পরিমাণ জরিমানা বা ফি প্রয়োজন হতে পারে। এই সুবিধা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান মন্তব্য করেছেন যে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো, সাময়িক নগদ সংকটে থাকা গ্রাহকদের জরুরি বিল ও ফি সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা, নগদ টাকার নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বৃদ্ধি করা।
তবে, এ পদ্ধতিটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর আগে প্রতিটি ব্যাংককে ন্যূনতম ৬ মাসের জন্য পাইলটিং করতে হবে। পাইলটিংয়ের ফলাফল মূল্যায়ন করে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে পরে এটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, এ সুবিধার পুরো প্রক্রিয়া এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটাল হতে হবে। গ্রাহকের ওয়েট সিগনেচারের পরিবর্তে ডিজিটাল সম্মতি গ্রহণ, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে অনবোর্ডিং এবং ওটিপি দুই স্তরের বা মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা আবশ্যক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন