প্রিন্ট এর তারিখঃ ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং; ০৫:৩৫ এম || প্রকাশের তারিখঃ ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইং; ০৭:০৩ পি.এম
ভাণ্ডারিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের বেতন বন্ধের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের কক্ষ তালা মেরে দিলেন সহকারি শিক্ষকরা
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষকের বেতন-ভাতাদি বন্ধকরণ সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ তালবদ্ধ করেছেন ভূক্তভোগি শিক্ষকরা । গত বৃহস্পতিার থেকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ তালাবদ্ধ করে কক্ষের দরোজা পেরেক মেরে আটকে রাখা হয়েছে। এদিকে গত ৮ সেপ্টেম্বর হতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার পর আজ রোববার বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হটসআপে ছুটির আবেদনপত্র পাঠিয়েছেন।
অভিযোগে জানাগেছে, সম্প্রতি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাত, সহকারি শিক্ষকদের হয়রাণি ও শির্ক্ষার্থীদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার না দেওয়া নানা অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পর ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান সরেজমিনে পরিদর্শনের পর অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই তদন্তে সহকারি শিক্ষরা সাক্ষি দিলে প্রশাসন তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পান । তদন্তকালে শিক্ষককরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, মানসিক হয়রানি এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। এতে ক্ষুব্দ হয়ে প্রধান শিক্ষক সাতজন সহকারি শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে সহকারি শিক্ষকদের বিরোধ দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে ভূক্তভোগি সহকারি শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ও পেরেক মেরে আটকে দেন। এসময় প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যায়ের ভূক্তভোগি ধর্মীয় শিক্ষক মোঃ সোহরাব হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রধান শিক্ষক সম্পূর্ণ বেআইনভাবে সাতজন শিক্ষকের বেতন বন্ধ করে রেখেছেন। তিনি স্বেচ্ছাচারি ভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করে শিক্ষার পরিশে বিনস্ট করছেন। তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রশাসনিক তদন্তে শিক্ষকরা সাক্ষি দিলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে সহকারি সাতজন শিক্ষকের বেতন বন্ধ করে দেন। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। একারনে ভূক্তভোগি শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালাবদ্ধ করে দেন।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এস.এম .মজিবুর রহমান বলেন, আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। শিক্ষকদের বেতন বন্ধ করার বিষয়টির মূল কারন তারা প্রাইভেট পড়ায়। এটা প্রশাসিনক কারনে বেতন-ভাতাদি সাময়িক বন্ধ করেছি। প্রধান শিক্ষকের কক্ষ তালাবদ্ধ করা বিষয়ে আমি কিছু জানিনা।
এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়টি তদন্তাধিন রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের কক্ষ তালাবদ্ধ করার বিষয়টি শুনেছি। কি কারনে বন্ধ করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন
কপিরাইট © ২০২৪-২৫ তালাশ বিডি.কম সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। || Design & Developed By "Talash BD Media Limited"