প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
সৌদির গণমাধ্যম মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি ছবিতে দেশের দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত জিজান অঞ্চলের একটি মসজিদের ক্ষতি প্রত্যক্ষ করা গেছে। ছবিটি তুলেছেন সৌদি গণমাধ্যম মন্ত্রণালয় / এএফপি।
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে ইয়েমেনের হুথিরা ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজেদের দাবি করে বলেন, হামলায় অস্ত্রের গুদাম ও কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তার উক্তিতে তিনি জানান, এসব স্থাপনা হুথিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত আগ্রাসনের অঙ্গীকারে ছিল। তবে হামলাটির সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাননি তিনি। হুথিদের এই দাবির ব্যাপারে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইয়াহিয়া সারি আরো সতর্ক করে বলেন, সৌদি হামলা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে সৌদি ভূখণ্ডের আরও গভীরে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে।
এদিকে, সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, শনিবার দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জাজান অঞ্চলের আল তুওয়াল গভর্নরেটে একটি ক্ষেপণাস্ত্র পড়ে দুইজন আহত হয়েছেন। এতে একটি মসজিদ, বেশ কয়েকটি ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইয়েমেনে নতুন করে তীব্র সংঘাতের সূচনা
গত সপ্তাহে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর নতুন করে লড়াই শুরু হয়। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সকল ধরনের সহায়তা প্রদান করছে সৌদি আরব।
এদের মধ্যে হুথিরা দাবি করছে, তারা পশ্চিম তাইজ প্রদেশে অগ্রসর হয়ে উপকূলীয় শহর মোখা ও লোহিত সাগরের একটি বন্দরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এর মাধ্যমেই তারা বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছেছে। অন্যদিকে সরকারি বাহিনী সৌদি সীমান্তঘেঁষা উত্তর আল জাওফ প্রদেশে অগ্রগতি অর্জন করেছে।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী জানান, তাইজ অঞ্চলে হুথিদের অবস্থান ও ব্যারাকে তিনটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সরকারি সংবাদ সংস্থা সাবা রিপোর্ট করে, মোখা বন্দরের কাছাকাছি হুথি যোদ্ধাদের বহনকারী যানবাহন এবং অস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে।
ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন সৌদি যুবরাজ
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত সপ্তাহে দুইবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে হুথিদের বিরুদ্ধে হামলার অনুরোধ জানান। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, সেই অনুরোধটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
শনিবার আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, হুথিরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো লড়াই করতে চায় না। তারা চায় যে, যুক্তরাষ্ট্র যেন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়। ট্রাম্প আরো বলেন, এই অঞ্চলে সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে।
সৌদির তেল পাইপলাইনেও ড্রোন হামলা
হুথিদের এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে একটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার ভোরে এই হামলা রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনগুলো ইরাক থেকে এসেছে। হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং পাইপলাইনে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের মাধ্যমে তেল সরবরাহের সৌদির একমাত্র পথটি আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে।
সৌদির তেল পাইপলাইনে হামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ইরান এই হামলার পেছনে জড়িত থাকতে পারে। তবে ইরাকও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড এবং আকাশসীমা কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার ঘাঁটি হিসেবে পরিণত হবে না। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল জাইদি ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল বুদাইউই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য একটি বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য হুমকি। তিনি ইরাককে তাদের ভূখণ্ড থেকে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সংঘাতে ঘরছাড়া ৭৬ হাজার
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, জুলাই থেকে এ পর্যন্ত লড়াইয়ের কারণে ৭৬ হাজার মানুষ ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। শুধু গত সপ্তাহেই বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা চার গুণ বেড়ে গেছে।
ইয়েমেনের অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস মৌসা দাওয়ালেহ জানিয়েছেন, প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন। দুই পক্ষের সূত্র অনুযায়ী, নতুন করে শুরু হওয়া এই লড়াইয়ে ৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
কীভাবে শুরু হয়েছিল ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা ও একাধিক প্রদেশ দখল করার পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সেখানে হস্তক্ষেপ করে।
২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল। তবে জুলাই থেকে দেশটিতে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, আনতারা, গার্ডিয়ান
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন