প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে।
দেশটির কর্তৃপক্ষ শনিবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানিয়েছে যে, এটি দেশটিতে ইবোলার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব হয়ে দেখা দিয়েছে।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
যদিও সরকার বলছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে সপ্তম প্রদেশেও ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে, তবে দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যকলাপের কারণে রোগের বিস্তার সম্ভবত ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ডিআর কঙ্গোতে ইবোলার সর্বশেষ প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত হয় মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। এই দেশটিতে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। এই মহামারীতে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ইবোলার সংক্রমণ শুরু হয় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে এবং পরে এটি সংঘাতকবলিত, দুর্গম পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এসব এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা রয়েছে এবং সেখানে সরকারি নিয়ন্ত্রণ দুর্বল।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও কঙ্গো-ব্রাজাভিল সীমান্তবর্তী সাউথ-উবাঙ্গি প্রদেশেও ইবোলা শনাক্ত হয়েছে।
কঙ্গোর সাম্প্রতিক সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে ৭ হাজার ২২টি সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৯৮ জন মারা গেছেন এবং ১ হাজার ৬৭১ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
কঙ্গো সরকারের মুখপাত্র প্যাট্রিক মুয়ায়া শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহের শুরুতেই সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘সব সূচকেই আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।’ মুয়ায়া জানিয়েছেন, আক্রান্ত ৬১টি স্বাস্থ্য অঞ্চলের মধ্যে ১০টিতে অন্তত ২১ দিন ধরে নতুন কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।
সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ইতুরি প্রদেশে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর যখন স্কুল খুলে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানকার বিভিন্ন স্কুলে ইবোলা শনাক্ত হয়, তখন আবিভাবক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ার এক শিক্ষার্থীর মা অ্যাঞ্জেল মাগানি এএফপিকে বলেছেন, ‘আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। কারণ কোন শিশু কোন পরিবার থেকে এসেছে বা ওই পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের অবস্থা কী, তা আমরা জানি না।’
তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধির ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও আমরা খুবই ভয় পাচ্ছি।’
বুনিয়ার স্কুল কর্মকর্তা রজার মুঙ্গিম্বো জানিয়েছেন, স্কুলে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং প্রতি শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ জন শিক্ষার্থী রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, ‘আমরা শিশুদের নিয়মিতভাবে জানাচ্ছি যাতে তারা একে অপরকে স্পর্শ না করে এবং নিয়মিত হাত ধোয়।’
গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় ইবোলা ১৫ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক তরলের সংস্পর্শে এ ভাইরাস ছড়ায়। এর ফলে শরীরের ভেতর ও বাইরে মারাত্মক রক্তক্ষরণ ও বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
চলমান প্রাদুর্ভাবটি বুন্দিবুগিও ধরন-এর ইবোলা ভাইরাসের কারণে হচ্ছে। এই ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই। তবে কিছু টিকা ও চিকিৎসাপদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের পর্যায়ে রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন