প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারে রূপান্তরের লক্ষ্যে এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় এভিয়েশন খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিমানবন্দরগুলো দেশের প্রবেশদ্বার এবং রাষ্ট্রের আয়নার মতো। এজন্য বিমানবন্দরগুলোর পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে।
রাজধানীর ইউনাইটেড কনভেনশন হলে বণিক বার্তা আয়োজিত এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা, নীতিগত সংস্কার ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ক পলিসি কনক্লেভে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আজ এসব তথ্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন অংশীজনদেরও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।
বিমানমন্ত্রী এসময় উল্লেখ করেন, প্রায় ৪২ বছর পর সিভিল এভিয়েশন রুলস-১৯৮৪ সংশোধন করে নতুন ‘সিভিল এভিয়েশন রুলস-২০২৬’ প্রণয়ন করা হচ্ছে। নতুন বিধিমালায় ব্যবসা ও বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব করার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধান রাখা হবে।
তিনি এয়ারলাইন্স প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারাই আমাদের মূল অংশীজন।’ বিনিয়োগ সহজীকরণে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলোর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা আবশ্যক।
মন্ত্রী আরও জানান, বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত বিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, উড়োজাহাজের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা নিরসনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বললেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় একটি ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল এভিয়েশন খাত পেয়েছে। বিমানবন্দর ও বিমানসেবায় যাত্রী হয়রানির নানা অভিযোগও ছিল। এসব হয়রানি কমানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সেবার মানোন্নয়নে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক মানের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) ইউনিট স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বেসরকারি উদ্যোগে বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপন ও বিদ্যমান বিমানবন্দর সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজীকরণেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, সরকারি উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন। এভিয়েশন খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানোর সময় তিনি বলেন, বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য প্রচার হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বণিক বার্তাসহ দেশের গণমাধ্যমগুলোকে অপতথ্য এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং দায়িত্বশীল ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে এভিয়েশন খাতের বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা এবং এসব সমস্যা সমাধানে করণীয় নিয়ে অংশীজনেরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন