প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশন করতে এসে কিশোরীসহ দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে নৌকায় নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, তিতাস নদীর মাঝপথে নৌকার ভেতরে তাঁদের ধর্ষণের পর রাতে নাসিরনগর উপজেলার কুণ্ডা এলাকার তিতাস নদীসংলগ্ন ভূইয়া ঘাটে নামিয়ে দিয়ে চলে যান অভিযুক্তরা।
এ ঘটনায় করা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে সরাইল উপজেলার শাহাবাজপুর এলাকায় তিতাস নদীতে ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী দুই নারী কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা এবং তাঁরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পেশাগতভাবে নৃত্য পরিবেশন করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের ফেসবুক পেজ থেকে যোগাযোগ নম্বর নিয়ে রাকিব মিয়া নামের এক যুবক শাহাবাজপুর এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের জন্য তাঁদের সঙ্গে ৯ হাজার টাকায় চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী ওই দিন বিকেলে তাঁরা সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছালে রাকিব ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহাবাজপুরের একটি সেতুর নিচে নিয়ে যান।
পরে বিয়ের অনুষ্ঠানে নেওয়ার কথা বলে তাঁদের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তোলা হয়। এজাহার অনুযায়ী, নৌকাটি তিতাস নদীর মাঝপথে পৌঁছানোর পর চালক ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন। এরপর নৌকার ছাউনির ভেতরে নিয়ে অভিযুক্তরা দুই নারীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা এক পুরুষ সদস্য বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নদীর মাঝখানে নৌকার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ভুক্তভোগী দুই নারীকে নাসিরনগর উপজেলার কুণ্ডা তিতাস নদীসংলগ্ন ভূইয়া ঘাট এলাকায় নামিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা চলে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর আইনি সহায়তা পেতে ভুক্তভোগী দুই নারী প্রথমে নাসিরনগর থানায় যান। পরে পুলিশ তাঁদের জানায়, ঘটনাটি সরাইল থানার আওতাধীন। এরপর তাঁরা সরাইল থানায় গিয়ে মামলা করেন।
১১ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সরাইল থানায় মামলা করা হয়। মামলায় রাকিব মিয়াকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত ও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে আপাতত গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন